ঢাকা, শনিবার ২২ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ৭ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩:৪৩, ১৪ মে ২০২১
আপডেট: ১৩:৫৪, ১৪ মে ২০২১

ঈদের পরে ঢাকামুখী জনগণ উদ্বেগের কারণ

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

বিশ্ব আক্রান্ত করোনাভাইরাসে। এমন অবস্থায় পালিত হচ্ছে ঈদুল ফিতর। তবে, এই ঈদে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছিলো যে যেখানে আছেন সেখানেই ঈদ পালনের। তবুও,গত এক সপ্তাহজুড়ে পরিবারের সাথে ঈদ পালন করতে ঘরমুখি মানুষের ঢল দেখা গেছে রাস্তাঘাটে-ফেরিঘাটে। গণপরিবহনেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে ছিলো গাদাগাদি ভিড়। এমন অবস্থায় ঈদ শেষে যখন জনগণ আবার ঢাকায় ফেরত যাওয়া শুরু করবে, তখন ঢাকামুখী জনস্রোত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাড়াতে পারে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

ঈদের দিন শুক্রবার (১৪ মে) তাঁর সরকারি বাসভবনে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ঈদে গ্রামমুখী মানুষের বাধভাঙা জনস্রোত দেখা যাওয়ায় বিশেষজ্ঞরা সংক্রমণ ও মৃত্যুর হারে নতুন ধাক্কা লাগার আশঙ্কা করছেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরামর্শকে উপেক্ষা করার মাশুল গুণতে হতে পারে।

দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সকলে মিলে অভিন্ন শত্রু করোনাকে প্রতিরোধ করার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে এবং স্বাস্থ্যবিধি ও শতভাগ মাস্ক পড়তেই হবে। এবারের ঈদই শেষ ঈদ নয়, অপেক্ষা করি পরবর্তী সকালের, বর্ণময় ঈদের।

করোনাযুদ্ধে সম্মুখ সারিতে থেকে যারা যুদ্ধ করছেন, পরিবারের সদস্যদের দূরে রেখে সেবা করছেন সেসব ত্যাগী যোদ্ধাদের আন্তরিক অভিনন্দন ও ঈদের শুভেচ্ছা জানান সেতুমন্ত্রী।

করোনা সংকটে সকলকে সাহস ও মনোবল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, করোনা কাউকেই ছাড় দেয় না। তাই আসুন দলমত নির্বিশেষে করোনা সংকট উত্তরণে ঐক্যবদ্ধ হই এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করি।

ওবায়দুল কাদের আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, শেখ হাসিনার সাহসী ও মানবিক নেতৃত্বে অতীতের মতো এবারও সংকটের সাগর পেরিয়ে তীরে পৌঁছাবে ইনশাল্লাহ।

‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অতীতে বাংলাদেশ যেভাবে সংকট পেরিয়ে আশার সুবর্ণ প্রদীপ জ্বালিয়েছে ঠিক একইভাবে করোনা সংকট জয় করে আবারও নব উদ্যমে কাঙ্খিত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে।’

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, মনের গহীনের আলো জ্বেলে অমানিশার আঁধার দূর করি এবং সহমর্মিতার সহজাত বাঙালি চেতনায় জাগিয়ে তুলি নিজেকে, সমাজকে, দেশকে।

দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে করোনা আক্রান্তদের নিরাময় ও সুস্বাস্থ্য, প্রত্যাশা এবং নিরবচ্ছিন্ন শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন আওয়ামী লীগের এই নেতা।

যেখানে আছেন সেখানেই ঈদ পালন করুন: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের ভারতীয় ধরন শনাক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, করোনার ভারতীয় ধরন ভয়ঙ্কর, সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এছাড়াও যে যেখানে আছেন সেখানেই ঈদ পালনের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। 

রোববার (৯ মে) সকালে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের অবশিষ্ট মূল অধিবাসী এবং ক্ষতিগ্রস্ত মোট ১ হাজার ৪৪০ জনের মধ্যে প্লট বরাদ্দপত্র প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানটিতে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। 

তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাসের নতুন আরেকটি ভ্যারিয়েন্ট (ধরন) এসেছে, যেটা আরও বেশি মারাত্মক। এতে যারা সংক্রমিত হয়, তারা আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মারা যান। যে কারণে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’

সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি নেমে চলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনাভাইরাসের সময় আপনারা একটু মাস্ক পরে থাকবেন, সাবধানে থাকবেন।’

করোনাকে উপেক্ষা করেই ঈদে বাড়ি ফিরতে মানুষের গাদাগাদি

এসময় বর্তমান করোনাকালীন পরিস্থিতেও ঘরমুখো মানুষদের উদ্দেশ্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি জানি ঈদের সময় মানুষ পাগল হয়ে গ্রামে ছুটছে। কিন্তু এই যে আপনারা একসঙ্গে যাচ্ছেন। এই চলার পথে ফেরিতে হোক, গাড়িতে হোক যেখানেই হোক, কার যে করোনাভাইরাস আছে আপনি জানেন না। কিন্তু আপনি সেটা বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন আপনার পরিবারের কাছে। মা, বাবা, দাদা, দাদী, ভাই, বোন আপনি কিন্তু তাকেও সংক্রমিত করছেন, তার জীবনটাও মৃত্যু ঝুঁকিতে ফেলে দেবেন।’ প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তবের বিষয়ে আরও বিস্তারিত...

ভয়ংকর ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট উপেক্ষা করে ঈদে মানুষ ছুটছে গ্রামের বাড়ি

ইতোমধ্যে করোনাভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট দেশে চিহ্নিত হয়েছে। করোনার এই ধরন অতিমাত্রায় বিপদজনক। এই ভাইরাস বাতাসের মাধ্যমেও মানুষকে আক্রান্ত করতে সক্ষম। অথচ ভয়ংকর ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের উপেক্ষা করে ঈদে ছুটছে মানুষ গ্রামের বাড়ি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, করোনার এই ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট অনেক শক্তিশালী। করোনার এই ভ্যারিয়েন্ট বাজারে প্রচলিত টিকাগুলোকে পর্যন্ত অকার্যকর প্রমাণিত করতে পারে। ভারতে এই ভাইরাসের ভয়াবহতা আমরা বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রত্যক্ষ করছি। সেখানে সরকারি হিসেবে প্রতিদিন চার লক্ষেরও অধিক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন এবং চার হাজারের অধিক মানুষ মারা যাচ্ছেন। স্বজনদের আহাজারিতে ভারতের আকাশ বাতাস প্রকম্পিত হচ্ছে। আইনিউজে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত...

আইনিউজ/এসডি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়