ঢাকা, শুক্রবার   ২২ মে ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ৮ ১৪৩৩

প্রকাশিত: ০৫:১১, ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯
আপডেট: ০৫:১১, ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

আগাম নির্বাচনের প্রস্তাবেও হারলেন জনসন, সংকটে ব্রিটেন

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ভোটাভুটিতে টানা দ্বিতীয় দফা হারতে হলো প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে। দেশে আগাম নির্বাচন নিয়ে হাউজ অব কমন্সে প্রধানমন্ত্রীর আনীত প্রস্তাবটি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় বাতিল হয়ে গেছে।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট সংক্রাত এক প্রস্তাবে পরাজিত হন তিনি। যার জের ধরে পরদিন ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলের ২১ বিদ্রোহ এমপিকে বরখাস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।

বুধবার ব্রিটিশ এমপিরা ‘নো-ডিল ব্রেক্সিট’ বা ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে চুক্তি ছাড়া বেরিয়ে যাবার বিষয়টি আটকে দিয়ে একটি বিল পাশ করেছেন সংসদে। এই বিলটি এনেছিলো ব্রিটেনের বিরোধী দলগুলো। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির একদল বিদ্রোহী এমপি, যাদেরকে বুধবার বরখাস্ত করেছিলেন বরিস।

ব্রেক্সিট নিয়ে ব্রিটেনে রাজনৈতিক সংকট যে চরম অবস্থায় পৌঁছেছে, তা সাম্প্রতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন। এই বিলের মাধ্যমে ব্রেক্সিট প্রশ্নে সরকারের ভূমিকা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।

এই বিলে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন যদি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি সমঝোতা করে পার্লামেন্টে নিয়ে আসতে না পারেন, তাহলে তাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে ফিরে যেতে হবে এবং অনুরোধ জানাতে হবে ব্রেক্সিটের সময়সীমা যেন আগামী ৩১শে জানুয়ারি পর্যন্ত পিছিয়ে দেয়া হয়।

এই অনুরোধ জানানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ইউরোপীয় ইউনিয়নে যে চিঠি পাঠাবেন, সেটার ভাষা কী হবে বিলে সেটিও নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।

এদিকে চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিট ঠেকানোর এমপিদের এউ উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তিনি পার্লামেন্টে পাশকৃত বিলটিকে ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে আত্নসমর্পণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

বুধবার পার্লামেন্টে এই বিল পাশ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন আগামী ১৫ অক্টোবর দেশে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তাব আনেন। কিন্তু তার সেই প্রস্তাবটিও বাতিল হয়ে যায়। এটি পাস করার জন্য পার্লামেন্টের দুই-তৃতীয়াংশ এমপির সমর্থনের প্রয়োজন ছিলো, যা জোগাড়ে তিনি ব্যর্থ হন।

এর আগে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট ইস্যুতে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে পরাজিত হন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। বিরোধী দলের পাশাপাশি নিজ দলের বিদ্রোহী এমপিরাও তার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেন। সবমিলিয়ে তার নিজ দলের ২১ জন এমপি বিরোধীদের সঙ্গে মিলে তার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেন। ফলে হাউজ অফ কমন্সে ৩২৮-৩০১ ভোটের ব্যবধানে হেরে যান প্রধানমন্ত্রী জনসন। ভোটাভুটিতে হেরে যাওয়ার পর নিজ দলের ২১ বিদ্রোহী প্রার্থীকে বরখাস্ত করেন বরিস।

প্রধানমন্ত্রী আশা করেছিলেন, তার এই শাস্তির মুখে এইসব বহিষ্কৃত বিদ্রোহী এমপিরা তাদের অবস্থান বদলাবেন। ফলে তার ৩১ অক্টোবর ব্রেক্সিট কার্যকর করার সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়িত হবে। কিন্তু তার সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। বুধবার তিনি পার্লামেন্টর নিম্নকক্ষের ভোটাভুটিতে দুই দফা পরাজিত হন। ফলে দেশ ও জাতি এক গভীর এক সঙ্কেটে নিমজ্জিত হয়েছে যা নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী।

সূত্র: বিবিসি

আইনিউজ/এসবি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়