ঢাকা, শনিবার ২২ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ৭ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২:৩৪, ২৯ মে ২০২১
আপডেট: ২৩:১৮, ২৯ মে ২০২১

‘বখে যাওয়া’ তরুণী-গৃহিনীদের টার্গেট করতো টিকটক হৃদয়রা

ভারতে বাংলাদেশি তরুণীকে যৌন নির্যাতন করে ভিডিও ভাইরালের ঘটনায় গ্রেফতারকৃতরা একটি আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী চক্রের সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২৯ মে) ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. শহিদুল্লাহ এসব কথা জানান।

চক্রটি স্কুল কলেজ পড়ুয়া বখে যাওয়া তরুণী থেকে গৃহিনী পর্যন্ত সবাইকে টার্গেট করে। পরে চাকরির প্রলোভনে তাদের বিদেশে পাচার করা হয়। সেখানে নেওয়ার পর তাদের জোর করে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়।

ভারতে বাংলাদেশি তরুণীকে যৌন নির্যাতনের এ ঘটনায় বেঙ্গালুরুতে রিফাদুল ইসলাম হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় (২৬) নামের যে যুবক গ্রেফতার হয়েছেন, তিনি এ চক্রের অন্যতম সদস্য বলে পুলিশ জানায়।

চক্রটির নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ, ভারতসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে বিস্তৃত দাবি করে উপ-কমিশনার শহীদুল্লাহ বলেন, স্কুল কলেজ পড়ুয়া বখে যাওয়া তরুণী থেকে গৃহিনী পর্যন্ত সবাই এ চক্রের টার্গেট।

উপকমিশনার বলেন, মেয়েদের ফাঁদে ফেলতে ফেসবুকে একটি গ্রুপ খুলেছিল এ চক্র। আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যরাই গ্রুপটি পরিচালনা করেন।

সেখানে একজন অ্যাডমিন হিসেবে রয়েছেন রিফাদুল ওরফে টিকটক হৃদয়। এ ফেসবুক গ্রুপে টিকটক ভিডিও তৈরির প্রলোভন দেখিয়ে মেয়েদের আকৃষ্ট করা হতো। এ গ্রুপের মাধ্যমে গত বছরের শেষ দিকে ঢাকার পাশের একটি জেলার রিসোর্টে ৭০০ থেকে ৮০০ তরুণ-তরুণীকে নিয়ে ‘পুল পার্টির’ আয়োজন করা হয়েছিল। ওই পার্টি আয়োজনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন রিফাদুল।

মো. শহীদুল্লাহ বলেন, এ ফেসবুক গ্রুপে সুনির্দিষ্ট কিছু সদস্য আছেন, যাঁরা গ্রুপের নারী সদস্যদের ভারতের বিভিন্ন মার্কেট, সুপারশপ, বিউটি পারলারে ভালো বেতনে চাকরির প্রলোভন দিয়ে পাচার করে আসছিলেন। চক্রের মূল আস্তানা ভারতের বেঙ্গালুরুর আনন্দপুর এলাকায়। চক্রটির ভারতের কয়েকটি রাজ্যের কিছু হোটেলের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে। সেই হোটেলগুলোতে চাহিদামতো বিভিন্ন বয়সের মেয়েদের পাঠিয়ে দেওয়া হতো।

ভারতের ওই তরুণীকে নির্যাতনের ঘটনা তদন্তে এ চক্রের মাধ্যমে আরও অনেক তরুণী পাচারের তথ্য পাওয়া গেছে। এর সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পাচার হওয়া তরুণীর সংখ্যা নেহায়েত কম নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, এমন আরও গ্রুপ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়গুলো ধারাবাহিকভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন-

গুলিবিদ্ধ সেই টিকটক হৃদয়

বাংলাদেশি এক তরুণীকে ভয়ঙ্করভাবে যৌন নির্যাতন ও ভিডিও ধারণ করে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের বেঙ্গালুরু পুলিশ। এ ঘটনার অন্যতম হোতা বাংলাদেশি তরুণ টিকটক হৃদয় সকালে পালানোর চেষ্টা করে পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছেন। 

জানা যায়, শুক্রবার সকালে পুলিশ অভিযুক্তদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে দুই আসামি পালানোর চেষ্টা করে। এসময় পুলিশ তাদের পায়ে গুলি করলে টিকটক ‍হৃদয় বাবু ও তার সহযোগী সাগর আহত হন। বিস্তারিত...

চলন্ত বাসে গণধর্ষণ: আসামির স্বীকারোক্তি

সাভারের আশুলিয়ায় মহাসড়কে চলন্ত মিনিবাসে নারীকে গণধর্ষণের মামলায় এক আসামি আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর পাঁচ আসামির তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। শনিবার (২৯ মে) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহজাদী তাহমিদা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড এবং রিমান্ডের আদেশ দেন।

স্বীকারোক্তি দেয়া আসামির নাম সুমন। রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন- মো. আরিয়ান (১৮), সাজু (২০), সোহাগ (২৫), সাইফুল ইসলাম (৪০) ও মনোয়ার (২৪)। 

শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে আশুলিয়া থানাধীন ডিসি নার্সারি সংলগ্ন ঢাকা অটোব্রিক্সের সামনে মহাসড়কে একটি মিনিবাস থেকে এক ছেলে ও এক নারীর চিৎকার ভেসে আসে। এসময় থানার ডিউটিরত মোবাইল টিম গাড়িটি থামায়। আরও বিস্তারিত...

আইনিউজ/এসডি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়