ঢাকা, বুধবার   ১০ জুন ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ২৬ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:৫৯, ১১ জুন ২০২১
আপডেট: ১২:৫২, ১১ জুন ২০২১

বিপ্লবী অগ্নিকন্যা লীলা নাগের প্রয়াণ দিবস আজ

লীলা নাগ

লীলা নাগ

লীলা নাগ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী তিনি। তার হাত ধরেই ঢাবিতে নারী শিক্ষার সূচনা হয়। আজ সেই বিপ্লবী অগ্নিকন্যার প্রয়াণ দিবস। ১৯৭০ সালের এই দিনে ভারতে এই মহিয়সী নারীর জীবনাবসান ঘটে।

১৯০০ সালের ২ অক্টোবর আসামের গোয়ালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন লীলা নাগ। তার হাত ধরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার সূচনা হয়। সেই থেকে প্রতি বছর হাজারো নারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী নিয়ে বের হচ্ছেন। 

লীলা নাগের বাবার বাড়ি ছিল মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলা সদর থেকে ৫ কিলোমিটার উত্তরে, পাঁচগাঁওতে। ১৯১৬ সালে বাবা অবসরগ্রহণ করার পর তিনি স্থায়ীভাবে বাস করার জন্যে আসাম থেকে ঢাকায় চলে আসেন।

লীলা নাগের পিতা গিরীশচন্দ্র নাগ ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট। মা কুঞ্জলতা ছিলেন গৃহিণী। ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে লীলা নাগ বিয়ে করেন বিপ্লবী অনিল রায়কে। বিয়ের পর তার নাম হয় লীলা রায়।

লীলা নাগের শিক্ষাজীবন শুরু হয় ঢাকার ইডেন স্কুলে। ১৯২১ সালে তিনি কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে বি.এ পাশ করেন। পরীক্ষায় তিনি মেয়েদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং পদ্মাবতী স্বর্ণ পদক লাভ করেন। ১৯২১ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যাল়য়ে ইংরেজি বিষয়ে এমএ ভর্তি হন। ১৯২৩ সালে তিনি দ্বিতীয় বিভাগে এমএ ডিগ্রী লাভ করেন। তিনিই ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম এমএ ডিগ্রীধারী। তখনকার পরিবেশে সহশিক্ষার কোনও ব্যবস্থা ছিল না বলে লীলা রায়ের মেধা ও আকাঙ্খা বিচার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভাইস চান্সেলর ড. হার্টস তাকে পড়ার বিশেষ অনুমতি প্রদান করেন।

বাঙালি নারীদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারে তিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি ঢাকার আরমানীটোলা বালিকা বিদ্যালয়, কামরুন্নেসা গার্লস হাই স্কুল এবং শেরে বাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয় (তৎকালীন নারীশিক্ষা মন্দির) প্রতিষ্ঠা করেন। ভারত বিভাগের পর লীলা নাগ কলকাতায় চলে যান এবং সেখানেও কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।

লীলা রায় ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের একজন নেত্রী ছিলেন। এজন্য কয়েকবার তাঁকে কারাবরণ করতে হয়। তিনি নারী সমাজে মুখপাত্র হিসেবে “জয়শ্রী” নামে একটি পত্রিকা বের করেন। লীলা রায় ছবি আঁকতেন এবং গান ও সেতার বাজাতে জানতেন।

১৯৫২ সালে লীলা নাগের স্বামী অনিল রায় ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বিয়ের মাত্র ১৩ বছরের মাথায় অকাল বৈধব্য ও বহুদিনের আন্দোলন- সংগ্রামের সাথীকে হারিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন লীলা। তবে কম সময়ের মধ্যেই শোক কাটিয়ে স্বদেশের বৃহত্তর স্বার্থে পুনরায় মনোনিবেশ করেন তিনি। 

১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সকালে তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে তাকে কলকাতার পি.পি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২৩ দিন পর সংজ্ঞা ফিরে এলেও বন্ধ হয়ে যায় তার বাকশক্তি। শরীরের ডান অংশ সম্পূর্ণরূপে অচল হয়ে যায়। এভাবেই আড়াই বছর চলার পর ১৯৭০ সালের ১১ জুন না ফেরার দেশে চলে যান ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের এই মহানায়িকা।

বাঙালি নারীদের অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে লীলা নাগের ভূমিকা অপরিসীম। তার দেখানো পথেই নারীরা আজ নিজেদের স্বাবলম্ভী হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা শুরু করেছে। 

আইনিউজ/এসডিপি 

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়