ঢাকা, শনিবার ২২ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ৭ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯:২২, ১২ জুন ২০২১
আপডেট: ১৯:৩৬, ১২ জুন ২০২১

স্বাস্থ্যখাত নিয়ে মিথ্যাচার করছে টিআইবি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

স্বাস্থ্যখাত নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনের প্রত্যাখ্যান করে এর কড়া সমালোচনা করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। মন্ত্রীর দাবি, শুধুমাত্র জনগণের কাছে ভুল তথ্য দেওয়ার জন্য এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। তবে করোনা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে সুশাসনে ঘাটতি থাকার কথা স্বীকার করেছেন মন্ত্রী।

শনিবার (১২ জুন) দুপুরে করোনায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহমুদ মনোয়ারের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে জাহিদ মালেক এসব কথা বলেন।

গত মঙ্গলবার করোনা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে সুশাসনে ঘাটতি থাকার কথা উল্লেখ করে দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে উল্লেখ করা হয় করোনা প্রতিরোধের কার্যক্রমে রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসা, লকডাউন, টিকা কাজ ও বিতরণে স্বচ্ছতা, সুশাসন এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয় ছিল না। করোনা মোকাবেলায় আগামী দিনের জন্য ১৯টি সুপারিশ তুলে ধরে টিআইবি।

টিআইবির সমালোচনা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে টিআইবি একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্যখাত নিয়ে, এটা খুবই দুঃখজনক। করোনা প্রতিরোধে বিশ্বের সকল দেশ বা সংস্থা প্রশংসা করেছে বাংলাদেশকে। বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা বাংলাদেশকে প্রশংসা করেছে। টিআইবি ঘরে রুমে বসে একটি সুন্দর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। আমরা করোনা শনাক্ত করতে কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করিনি বলে মিথ্যা প্রতিবেদন দিয়েছে। অথচ করোনা শনাক্তে সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তারা (টিআইবি) বলছে আমরা কোনো চিকিৎসার ব্যবস্থা করিনি করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য। অথচ সারাদেশে ১৫ হাজার বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে শুধুমাত্র করোনা রোগের চিকিৎসার জন্য। যে কারণে ভারতের মতো এমন পরিস্থিতি তৈরি তৈরি হয়নি, এখনো অনেক দেশ যথাযথভাবে লকডাউন বাস্তবায়ন করতে পারেনি কিন্তু বাংলাদেশে এখনও লকডাউন চলমান।

টিকা ব্যবস্থাপনা নিয়ে অস্বচ্ছতার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, ভারতের সঙ্গে আমরা টিকা নিয়ে স্পষ্ট চুক্তি করে ভ্যাকসিন ক্রয় করেছি। আমাদের টিকা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ছিল। সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে করোনায় সামনের সারির যোদ্ধাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ মোটেও গ্রহণযোগ্য না।

করোনার মধ্যে আইসিইউ বাড়াতে পারেনি বলে টিআইবি যে দাবি করেছে তাও সঠিক নয় বলে দাবি করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, গত বছর সেখানে ৩০০ থেকে ৪০০ আইসিইউ ছিলো সেখানে এখন এক হাজারের অধিক আইসিইউ এর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

টিআইবির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে মন্ত্রী বলেন, এটা শুধুমাত্র জনগণের কাছে ভুল তথ্য দেওয়ার জন্য প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। করোনার জন্য যে সরঞ্জাম কেনা হয়েছে তার ব্যবহার করা হয়নি এমন তথ্যও সঠিক নয়। আমরা সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে সরঞ্জাম পৌঁছে দিয়েছি। এমন মিথ্যাচার আমরা গ্রহণ করি না।

বসুন্ধরার আইসোলেশন সেন্টার নিয়ে মিথ্যাচার করা হয়েছে জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, ওটা চালু হলেও ছয় মাসে ছয়টা রোগী হয়েছে। এর পেছনে লাখ লাখ টাকা ভাড়া দেওয়ার কারণে সবার সাথে আলোচনা করে আইসোলেশন সেন্টার থেকে সরঞ্জাম বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

আইনিউজ/এসডি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়