ঢাকা, শুক্রবার ২১ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ৬ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:২৯, ২৬ জুন ২০২১
আপডেট: ২১:৪৫, ২৬ জুন ২০২১

দেশে আট লাখ মানুষের করোনা জয়

দেশে করোনায় আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়লেও ভাইরাসটি থেকে সুস্থ হয়ে উঠছেন অনেকেই। ইতোমধ্যে দেশের আট লাখ মানুষ প্রাণঘাতী এই ভাইরাসকে জয় করেছেন।

শনিবার (২৬ জুন) স্বাস্থ্য অধিদফতরের থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে একদিনে আরও ৩ হাজার ২৯৫ জন করোনা রোগী সুস্থ হয়েছেন। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থতার হার ৯০ দশমিক ৬৮ শতাংশ। ফলে এখন পর্যন্ত ভাইরাসটি থেকে মুক্ত হয়েছেন ৮ লাখ ৮৫৪ জন।

২৪ ঘণ্টায় সুস্থদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২ হাজার ১৬৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৫৮ জন, রংপুর বিভাগে ১৩২ জন, খুলনা বিভাগে ২০৩ জন, বরিশাল বিভাগে ৬০ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৯৬ জন, সিলেট বিভাগে ৫০ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ২৮ জন রয়েছেন।

অন্যদিকে ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা সংক্রমিত আরও ৭৭ জন মারা গেছেন। যাদের মধ্যে পুরুষ ৪৮ জন ও নারী ২৯ জন। মৃতদের মধ্যে  সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬৫ জন, বেসরকারি হাসপাতালে ৭ জন, বাসায় ৪ জন এবং হাসপাতালে আনার পথে একজন মারা যান।

এ নিয়ে দেশে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৫৩ জনে। যাদের মধ্যে পুরুষ ১০ হাজার ৪৩ জন এবং মহিলা ৪ হাজার ১০ জন।

একই সময়ে ১৯ হাজার ২৬২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৪ হাজার ৩৩৪ জনের দেহে করোনার উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। ফলে দেশে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮ লাখ ৮৩ হাজার ১৩৮ জনে। নমুনা পরীক্ষা শনাক্তের হার ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ।  

এদিকে দেশে হঠাৎ করে আবারও বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। এমন অবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আগামী সোমবার (২৮ জুন) থেকে সাতদিনের কঠোর লকডাউন জারি করেছে সরকার।

এই লকডাউনে জরুরি পরিষেবা ছাড়া সব সরকারি, বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। জরুরি পণ্যবাহী যান ছাড়া সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে ব্যবহৃত যানবাহন চলাচল করতে পারবে।

লকডাউন বাস্তবায়নের বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন শুক্রবার জানিয়েছেন, ‘এবারের লকডাউন কঠোর হবে। এটা কার্যকর করতে রাস্তায় থাকবে পুলিশ, বিজিবি। প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হবে।’

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের কথা জানায় সরকার। এর দশদিন পর পর অর্থাৎ ১৮ মার্চ করোনায় প্রথম মৃত্যু দেখে বাংলাদেশ। 

কয়েক মাস সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার ঊর্ধ্বগতিতে থাকার পর অনেকটা নিয়ন্ত্রণেও চলে আসে। চলতি বছরের শুরুতেও নিয়ন্ত্রণে ছিলো। তখন শনাক্তের হারও ৫ শতাংশের নিচে নেমেছিল। তবে গত মার্চ মাস থেকে মৃত্যু ও শনাক্ত আবার বাড়তে থাকে।

এর মধ্যে গত ১৬ এপ্রিল দেশে দৈনিক মৃত্যু একশো ছাড়ায়। সেদিন ও তার পরদিন ১৭ এপ্রিল ১০১ করে মৃত্যু হয় করোনায়। ১৮ এপ্রিল ১০২ জন ও ১৯ এপ্রিল ১১২ জন মারা যান, যা একদিনে সর্বোচ্চ।

বাংলাদেশে এটাকে করোনার ‘দ্বিতীয় ঢেউ’ বলছেন বিশেষজ্ঞরা। সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করায় প্রথমে ২১ এপ্রিল ও পরে তা বাড়িয়ে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করেছিল সরকার। এরপর সেটি ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ১৬ জুলাই পর্যন্ত করা ছিলো।

আইনিউজ/এসডিপি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়