Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, শনিবার   ০৪ এপ্রিল ২০২৬,   চৈত্র ২০ ১৪৩২

শ্যামলাল গোঁসাই

প্রকাশিত: ১২:৫১, ১৫ জুন ২০২২

জনশুমারিতে কেন সঠিক তথ্য দেবেন?

কোন দেশের বা কোন নির্দিষ্ট অঞ্চলের মানুষ গণনাকেই মূলত জনশুমারি বলা হয়। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই নিজস্ব জনশুমারির ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলাদেশও বর্তমানে চলছে ডিজিটাল জনশুমারি কার্যক্রম। অন্যান্য অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রতি দশ (১০) বছর অন্তর অন্তর জনশুমারি করা হয়। 

পূর্বে একে আদমশুমারী বলা হতো। তবে ২০১৩ সালে জাতীয় সংসদে পরিসংখ্যান আইন ২০১৩ পাস হওয়া আইন অনুসারে আদমশুমারিকে ‘জনশুমারি’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। ১০ বছরের ধারাবাহিকতায় পরবর্তী জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২১ সালের ২৪ থেকে ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। বৈশ্বিক মহামারি করোনা ও ট্যাব জটিলতায় প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু একাধিকবার পিছিয়েছে। 

২০২১ সালের ২ থেকে ৮ জানুয়ারি দেশব্যাপী জনশুমারি হওয়ার কথা ছিল। পরে সেটি প্রায় নয় মাস পিছিয়ে ২৫ থেকে ৩১ অক্টোবর সময় পুনর্নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু সে মেয়াদেও জনশুমারি করতে পারেনি বিবিএস। এবছর ১৫ জুন থেকে শুরু হয়েছে দেশের ষষ্ঠ জনশুমারি। যা চলবে ২৪ জুন পর্যন্ত। 

জনশুমারির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে শুমারি কর্মী হিসেবে সারা দেশে প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার গণনাকারী, ৬৪ হাজার সুপারভাইজার এবং বিবিএস’র সাড়ে ৪ হাজারের অধিক কর্মচারী এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত রয়েছেন। এছাড়াও বিবিএস বহির্ভূত বিভিন্ন সরকারি দফতরের প্রায় ৯০০ জন কর্মচারী জোনাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জনশুমারিতে আপনি কেন তথ্য দেবেন? 

জনশুমারির জন্য বাড়িতে আসা কর্মীদেরকে অনেকেই তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে চান না। অনেকে আবার এটাও ভাবেন যে, এসব তথ্য নিয়ে সরকার তাদের সাথে জালিয়াতি করবে কিনা! আসলে এসবকিছুই ভুল তথ্য। রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আপনার নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার জন্যই জনশুমারিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করা উচিত। 

জনশুমারিতে দেয়া আপনার তথ্যের ভিত্তিতেই যেকোনো ধরনের সরকারি উন্নয়ন পরিকল্পনা গৃহীত হবে। তাছাড়া প্রত্যেক অঞ্চলে জনসংখ্যার অনুপাতে প্রয়োজনীয় রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, জন নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, আবাসান ও পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়নে জাতীয় সম্পদের কতোটুকু বন্ধিত হবে সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্যও জনশুমারিতে সঠিক তথ্য দেয়া অপরিহার্য। 

এবারের জনশুমারির রয়েছে একটি বিশেষ দিক। এই বিশেষ দিকটি হলো পূর্বে সনাতনি পদ্ধতিতে জন গণণা করার ফলে অনেক মানুষই হিসেব থেকে বাদ পড়তেন। কিন্তু এবছর ডিজিটালভাবে জনশুমারির ফলে বিদেশে অবস্থানরত বাঙালী নাগরিক এবং দেশে অবস্থানরত বিদেশী নাগরিকদেরকেও এ শুমারির অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তাছাড়া, মাল্টিমোড পদ্ধতি যেমন- ট্যাব, টেলিফোন এবং আইসিআর প্রশ্নপত্র ব্যবহার করা হবে।  

পরিসংখ্যান আইন ২০১৩ অনুযায়ী, জনশুমারিতে দেয়া সকল তথ্য নিরাপদ। আপনার দেয়া এসব তথ্য শধুমাত্র সরকারি পরিকল্পনা, গবেষণাকাজে ব্যবহার করা হবে। ব্যক্তিগত এই তথ্য অন্য কোন সংস্থার কাছে দেয়া হবে না বা হস্তান্তর করা হবে না। তাই, আপনার দেয়া সকল তথ্যই থাকবে নিরাপদ। তাই জনশুমারিতে সঠিক তথ্য দিয়ে তথ্য নিতে আসা কর্মীকে সহায়তা করুন, দেশের উন্নয়নকে আরও বেগবান করতে এগিয়ে আসুন। 

আদমশুমারি আর জনশুমারি কি এক? 

বাংলাদেশে এবার নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো চলছে জনশুমারির কাজ। এর আগে আরও পাঁচ বার শুমারি হলেও সেগুলো ছিলো আদমশুমারি।অনেকের মনেই প্রশ্ন, আদমশুমারি এবং জনশুমারির কি এক নাকি ভিন্ন? 

২০১৩ সালের পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশে জন গণণা কার্যক্রমকে আদমশুমারি বলা হতো। কিন্তু ২০১৩ সালে জাতীয় সংসদে পরিসংখ্যান আইন ২০১৩ পাস হওয়া আইনানুসারে আদমশুমারিকে ‘জনশুমারি’ নামে অভিহিত করা হয়। 

তবে আদমশুমারি এবং এবারের জনশুমারির মাঝে আছে পদ্ধতিগত কিছু পার্থক্য। আদমশুমারি মূলত সনাতনি পদ্ধতিতে গণণা করা হলেও এবারের জনশুমারি কার্যক্রম হচ্ছে মাল্টিমোড পদ্ধতিতে।এবারের জনশুমারিতে ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে মানুষের তথ্য সংগ্রহ এবং সংরক্ষণ করা হবে। তাই আগের পদ্ধতির চেয়ে এবারের পদ্ধতিতে থাকছে বেশি সুরক্ষা এবং তথ্যের নিরাপত্তা।

জনশুমারি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির কথা 

এবারের জনশুমারি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন। 
রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হিসেবে জনশুমারি ও গৃহগণনায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া বাংলাদেশে বসবাসকারী সকল নাগরিকের দায়িত্ব। সকলের সার্বিক সহযোগিতা ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২’ সফল ও সার্থক হওয়ার প্রত্যাশা করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত জনশুমারি ও গৃহগণনা বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল দেশে পরিচালিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পরিসংখ্যানিক কার্যক্রম। বাংলাদেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশে পরিণত করার মাধ্যমে মানুষের সর্বোচ্চ কল্যাণ সাধনই মূল লক্ষ্য উল্লেখ বলে তিনি আশা করেন।

‘জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২’ হতে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত জাতীয় সম্পদের সুষম বণ্টন, নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রণয়নসহ অন্যান্য পরিকল্পনা প্রণয়ন ও পরিবীক্ষণে যথাযথ ভূমিকা পালন করবে। তাই শুমারিকর্মীগণকে সঠিক তথ্যপ্রদান ও তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে সকল প্রকার সহযোগিতা করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছে শুমারি কার্যক্রম 

শুমারি শুরুর আগে ১৪ জুন রাত ১২টাকে ‘শুমারি রেফারেন্স পয়েন্ট/সময়’ হিসেবে ধার্য করা হয়। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের বরাত দিয়ে সম্প্রতি এক সরকারি তথ্য বিবরণীতে এসব কথা জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, এবারই প্রথম ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনশুমারি কার্যক্রম পরিচালিত হতে যাচ্ছে। একটি ওয়েবভিত্তিক ইনটিগ্রেটেড সেনসাস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (আইসিএমএস) প্রস্তুতসহ জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সিস্টেমে (জিআইএস) গণনা এলাকার বিভিন্ন পর্যায়ের কন্ট্রোল ম্যাপ প্রস্তুত করা হয়েছে।

জনশুমারির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে শুমারি কর্মী হিসেবে সারা দেশে প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার গণনাকারী, ৬৪ হাজার সুপারভাইজার এবং বিবিএস’র সাড়ে ৪ হাজারের অধিক কর্মচারী এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত রয়েছেন। এছাড়াও বিবিএস বহির্ভূত বিভিন্ন সরকারি দফতরের প্রায় ৯০০ জন কর্মচারী জোনাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

শুমারিতে সঠিক তথ্য প্রদানে উদ্বুদ্ধকরণ বিষয়ক গান, নাটিকা, ডকুড্রামা, শুমারি কাউন্ট ডাউন, ডকুমেন্টারি দেশের সকল সরকারি-বেসরকারি গণমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। জেলা তথ্য অফিসের মাধ্যমে স্থানীয় ক্যাবল টিভিতে জনশুমারি প্রচার, প্রচার সামগ্রী বিতরণ, ডকুমেন্টারি প্রচারসহ শুমারি চলাকালে মাইকিংও করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনায় ১৯৭৪ সালে প্রথম আদমশুমারি ও গৃহগণনা পরিচালিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় দশ বছর পর পর ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১ এবং ২০১১ সালে যথাক্রমে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ এবং পঞ্চম আদমশুমারি ও গৃহগণনা অনুষ্ঠিত হয়।

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়