ঢাকা, রোববার   ১৭ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ২ ১৪২৮

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯:২৩, ১৯ জুন ২০২১
আপডেট: ২২:১৪, ১৯ জুন ২০২১

মসজিদের দানবাক্সে মিললো দুই কোটি ৩৩ লাখ টাকা, চার কেজি অলঙ্কার

টাকা গণনার দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

টাকা গণনার দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলে এবার পাওয়া গেছে দুই কোটি ৩৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। শুধু টাকা নয়, সেখানে সোনা-রূপার অলঙ্কারের সঙ্গে ইউএস ডলারসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রা পাওয়া গেছে। 

শনিবার (১৯ জুন) সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত অন্তত দুই শতাধিক লোক টাকাগুলো গুণে শেষ করে। গণনা শেষে কঠোর নিরাপত্তায় টাকাগুলো রূপালি ব্যাংকে নিয়ে যাওয়া হয়।

সর্বশেষ গত ২৩ জানুয়ারি দানবাক্স খোলা হয়েছিল। সেবার দুই কোটি ৩৮ লাখ ৫৫ হাজার ৫৪৫ টাকা পাওয়া যায়। এর আগে, গত বছরের ২২ আগস্ট সিন্দুক খোলা হয়েছিল। তখন এক কোটি ৭৪ লাখ ৮৩ হাজার ৭১ টাকা পাওয়া যায়। এবার আগেরবারের চেয়ে দানের টাকা কিছু কম পড়েছে।  

সাধারণত তিন মাস পর পর পাগলা মসজিদের দানবাক্স খোলা হয়। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে এবার চার মাস ২৬ দিন পর শনিবার (১৯ জুন) খোলা হয়েছে। সকাল ৯টার দিকে জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মসজিদের আটটি দান সিন্দুক খোলা হয়। এরপর এগুলো বস্তায় ভরে মসজিদের দোতলায় গণনার কাজ শুরু করা হয়। 

টাকা গণনা কাজ তদারকি করছেন কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা মাজিস্ট্রেট (এডিএম) ফরিদা ইয়াসমিন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ, মো. ইব্রাহীম, মাহামুদুল হাসান ও মো. উবায়দুর রহমান সাহেল, পাগলা মসজিদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শওকত উদ্দিন ভূঞা প্রমুখ। টাকা গণনার কাজে মসজিদের কর্মকর্তা কর্মচারি ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। এ সময় সিন্দুক খোলা কমিটির সদস্যরা ছাড়াও প্রশাসনের কর্মকর্তা, মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ ও সার্বক্ষণিক দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারিগণ উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদের সভাপতি মোহাম্মদ শামীম আলম দুপুরের দিকে টাকা গণনার কাজ দেখতে মসজিদে যান। তখন তিনি বলেন, পাগলা মসজিদে লোকজনের দানের টাকায় মসজিদ উন্নয়নসহ সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজও হচ্ছে। এবার করোনা মোকাবেলায় বিভিন্ন হাসপাতালে পাগলা মসজিদ থেকে সাজ-সরঞ্জাম কিনতে অনুদান দেওয়া হয়। তাছাড়া গরিব অসহায় লোকজনের চিকিৎসাতেও সহযোগিতা করা হয়।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, পাগলা মসজিদের হিসাবে সব মিলিয়ে বর্তমানে ১৭ কোটি টাকার মতো রয়েছে।

পাগলা মসজিদের প্রসঙ্গে যা জানা যাচ্ছে

কিশোরগঞ্জ শহরের ঐতিহাসিক স্থাপনার মধ্যে পাগলা মসজিদ অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান। শহরের পশ্চিমে হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে মাত্র ১০ শতাংশ ভূমির ওপর এই মসজিদটি গড়ে উঠেছিল। সময়ের বিবর্তনে আজ এ মসজিদের পরিধির সাথে সাথে বেড়েছে এর খ্যাতি ও ঐতিহাসিক মূল্যও। 

বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মজিবুর রহমান বলছেন, ''যতদূর জানতে পাওয়া যায়, অনেকদিন আগে একজন পাগলা সাধক এখানে অবস্থান করতেন। পরে তিনি সেখানেই মারা যান। পরবর্তীতে ওইখানে মসজিদ হয় আর সেটার নামকরণ হয় পাগলা মসজিদ।''

তিনি আরও জানান,

মসজিদটিতে মুসলমানদের পাশাপাশি ভিন্ন ধর্মাবলম্বীরাও দান করেন। জনশ্রুতি আছে, এখানে মানত করলে তাদের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয়। এই কারণে দেখবেন দুই তিনমাস পরপর এখানকার সিন্দুক ভরে যাচ্ছে। 

বাংলাদেশ সরকারের জেলা তথ্য বাতায়ন বলে পরিচিত ওয়েবসাইটে মসজিদটি সম্পর্কে বলা আছে, "আধুনিক স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত পাগলা মসজিদটি নানা ধরণের ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থাপনা হিসেবে খ্যাত। জনশ্রুতি আছে যে, পাগলবেশী এক আধ্যাত্মিক পুরুষ খরস্রোতা নরসুন্দা নদীর মধ্যস্থলে মাদুর পেতে ভেসে এসে বর্তমান মসজিদের কাছে স্থিত হন এবং তাঁকে ঘিরে আশেপাশে অনেক ভক্তকূল সমবেত হন। উক্ত পাগলের মৃত্যুর পর তাঁর সমাধির পাশে পরবর্তীতে এই মসজিদটি গড়ে উঠে। তাই কালক্রমে এটি পাগলা মসজিদ নামে পরিচিত হয়। মসজিদটি শুধু ইসলাম ধর্মাবলম্বীর কাছেই নয়, সকল ধর্মাবলম্বীর কাছে অত্যন্ত পবিত্র ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে পরিগণিত"।

আইনিউজ/এসডি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়