Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, শুক্রবার   ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,   ফাল্গুন ৭ ১৪৩২

মোহাম্মদ মকিস মনসুর

প্রকাশিত: ২৩:৩০, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নাজাতের বার্তা নিয়ে এলো পবিত্র মাহে রামাদ্বান

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

রহমত (আল্লাহর অনুগ্রহ), মাগফিরাত (ক্ষমা) ও নাজাত (দোজখের আগুন থেকে মুক্তি) এই মহিমান্বিত বার্তা নিয়ে বিশ্বময় ফিরে এলো পবিত্র মাহে রামাদ্বান। দীর্ঘ এক বছর পর আবারও ইমানদারদের দোরগোড়ায় উপস্থিত হলো তাকওয়া, আত্মশুদ্ধি ও অবারিত পুণ্যের মাস।

ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ ‘রোজা’। ফারসি শব্দ ‘রোজা’র আরবি পরিভাষা ‘সাওম’ (বহুবচনে সিয়াম), যার অর্থ বিরত থাকা বা সংযম অবলম্বন করা। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, স্ত্রী-সহবাস এবং সব ধরনের পাপাচার থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে মুসলমানরা এ ইবাদত আদায় করেন। তবে শুধু উপবাস থাকাই রোজা নয়; বরং আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় অন্যায়-অবিচার, লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, গিবত ও মিথ্যাচার পরিহার করে পরিশুদ্ধ জীবন গঠনের চর্চাই প্রকৃত সিয়াম।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।” (সুরা বাকারা: ১৮৩)

রমজান কোরআন নাজিলের মাস। এই মাসেই নাজিল হয়েছে মহাগ্রন্থ আল-কোরআন, যা মানবজাতির জন্য হেদায়েত, সত্য-মিথ্যার পার্থক্য নির্ণায়ক। আল্লাহ তাআলা বলেন, “রমজান মাসেই নাজিল করা হয়েছে কোরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সৎপথের সুস্পষ্ট নিদর্শন ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী।” (সুরা বাকারা: ১৮৫)

হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন “যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখে, তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।” (সহিহ বুখারি) আরও বলেন, “রোজা ঢালস্বরূপ।” (সহিহ বুখারি) এমনকি জান্নাতে ‘রাইয়্যান’ নামে একটি বিশেষ দরজা রয়েছে, যা দিয়ে শুধু রোজাদাররাই প্রবেশ করবেন।

রমজান মাসের বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে- ফরজ রোজা পালন, কোরআন নাজিল, লাইলাতুল কদর লাভ, দোয়া কবুল, গুনাহ মাফ, জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া, জাহান্নামের দরজা বন্ধ রাখা এবং শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা।

রমজানের করণীয় আমলসমূহের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো- ফরজ রোজা যথাযথভাবে আদায়, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে যত্নবান হওয়া, জামাতে তারাবিহ আদায়, তাহাজ্জুদ নামাজ, বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত ও অধ্যয়ন, তওবা-ইস্তিগফার, দান-সদকা, সদকাতুল ফিতর আদায়, ইতেকাফ এবং বিশেষ করে জবানের হেফাজত করা।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে রোজাদারের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে।” (তিরমিজি) 

রমজানে দানশীলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রিয় নবী (সা.)। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, রমজানে রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন কল্যাণময় বায়ুর চেয়েও অধিক দানশীল। (বুখারি, মুসলিম)

এ মাসে শ্রমিক ও অধীনস্থদের প্রতিও সদয় আচরণ করার নির্দেশ রয়েছে। প্রিয় নবী (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি রমজানে তার কর্মচারীর কাজ সহজ করে দেয়, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার হিসাব সহজ করে দেবেন।”

রমজানের শেষ দশক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এ সময় লাইলাতুল কদর তালাশ করতে নির্দেশ দিয়েছেন নবীজি (সা.)। “তোমরা রমজানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করো।” (সহিহ বুখারি)

রমজানের চাঁদ দেখার সঙ্গে সঙ্গে কল্যাণের দোয়া পড়া সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (সা.) নতুন চাঁদ দেখে দোয়া করতেন—
“আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ঈমান, ওয়াস সালামাতি ওয়াল ইসলাম” চান্দ্র বছরের সঙ্গে সৌর বছরের প্রায় ১১ দিনের পার্থক্যের কারণে প্রতি বছর রমজানের সময় পরিবর্তিত হয়। চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করেই রোজা শুরু হয়।

যুক্তরাজ্যের অন্যান্য মসজিদের ন্যায় এবারও Cardiff-এর Shahjalal Mosque & Islamic Cultural Centre-এ খতমে তারাবিহর নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মুসল্লিদের উপস্থিতি ছিল প্রাণবন্ত ও আনন্দঘন। নামাজ শেষে মসজিদের খতিব মাওলানা শাহ আব্দুল হালিম নুরী মুসলিম উম্মাহর সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন।

রমজান ইবাদতের বসন্তকাল। একটি নফল ইবাদত অন্য মাসের ফরজের সমতুল্য এবং একটি ফরজ ইবাদত সত্তর গুণ অধিক সওয়াবের সুসংবাদ বহন করে এমন ঘোষণা এসেছে হাদিসে।

এই মাহে রামাদ্বানে আমাদের হোক নতুন শপথ পাপের সঙ্গে বিচ্ছেদ, তাকওয়ার পথে প্রত্যাবর্তন, মানবিক মূল্যবোধে আলোকিত জীবন গঠন।

আসুন, আমরা সবাই দোয়া করি মহান আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের রমজানের রহমত, বরকত, মাগফিরাত ও নাজাতে ভূষিত করেন; অসুস্থদের শিফা দান করেন; মৃতদের জান্নাত নসিব করেন এবং সমগ্র মানবজাতিকে শান্তি ও কল্যাণে পরিপূর্ণ করেন।

সংযমের আলোয় উদ্ভাসিত হোক মানবিক পৃথিবী। আমিন, সুম্মা আমিন।

ইএন/এসএইচএ

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়