ঢাকা, রোববার   ১৭ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ২ ১৪২৮

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৬:১৬, ২৫ মে ২০২০
আপডেট: ০৬:২৬, ২৫ মে ২০২০

ঈদের দিনের খাবার,যা আপনাকে সুস্থ রাখবে

ঈদে নতুন জামা ছাড়াও ঘরে ঘরে চলে খাবারের নানা আয়োজন।ভিন্ন স্বাদ ও ভিন্ন ভিন্ন রেসিপি দিয়ে তৈরি হয় নানা রকম খাবার। ৩০ দিন রোজা রাখার পর ঈদের এই নানা স্বাদের খাবার রসনা তৃপ্তি মেটায়। তবে অনেকেই অতিরিক্ত ভূরিভোজ করেন। এই অতিরিক্ত খাবার খাওয়া নানা সমস্যা ডেকে নিয়ে আসে। তাই সুস্থ থাকার জন্য সবারই উচিত স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার মধ্য দিয়ে ঈদ উদযাপন করা। 

সকালের খাবার
ঈদের দিন সকালে খাবার মেন্যু তৈরী করার সময় মাথায় রাখা দরকার, ত্রিশদিন একভাবে রোজা রাখার পর ঈদের সকালে হঠাৎ বেশী খাবার খেয়ে ফেললে বদহযম, পেটে অস্বস্তি সহ অারো নানা সমস্যা হতে পারে। তাই ঈদের সকালের মেন্যু একটু হালকা হলে ভাল। সেক্ষেত্রে ফিরনী হতে পারে খুব ভাল মেন্যু। দুধ, চাল ও গুড় দিয়ে তৈরী ফিরনী থেকে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও মিনারেলস পাওয়া যায়। এছাড়া তেলছাড়া পাতলা পরোটা আর সবজিও হতে পারে ভাল মেন্যু। মনে রাখবেন, সারাদিন অনেক খাবার খেলেও মেন্যুতে সবজি কম থাকে। তাই সকালেই সবজি খেলে সবজির দৈনিক যে চাহিদা তার কিছুটা পূরণ হবে। 

দুপুরের খাবার 
ঈদের দিন দুপুরে পোলাও বা হালকা মসলার খিচুড়ি থাকতে পারে মেন্যুতে। সেইসঙ্গে মাছের কোনো রেসিপি ও সবজি থাকলে ভালো। টক দই, সবজির সালাদ আপনাকে হজমে সাহায্য করবে। তাই সালাদ রাখবেন ঈদের দুপুরের মেন্যুতে।

রাতের খাবার
অনেকেই ঈদের দিন রাতে তেমন খেতে পারেন না। তাই রাতের মেন্যুতে খুব বেশী মেন্যু না করাই ভাল। রুটি বা সাদা ভাতের সাথে মুরগী বা গরুর কাবাব বা সবজি ও মাংসের কোন রেসিপি থাকতে পারে রাতের মেন্যুতে। আবার অনেকে একটু ভিন্নধর্মী খাবারের স্বাদ নিতে চাইলে চাইনিজ ফুডও ঘরে করতে পারেন। কেননা, এই জাতীয় খাবারে তেল মসলা কম থাকে।

 

যাদের রক্তে কলেস্টেরল বেশি বা উচ্চ রক্তচাপ আছে, অথবা হার্টের সমস্যা আছে অথবা যারা মুটিয়ে যাচ্ছেন, তাদের অবশ্যই তেল ও চর্বি এড়িয়ে যেতে হবে। তবে চর্বি ছাড়া গরুর মাংস খাওয়া যাবে পরিমাণ মতো। ভাজা পোড়া খাবেন না, বিশেষ করে ঘরের বাইরে। আগের দিনের বাসি মাংস জ্বাল দিয়ে খাবেন না। মিষ্টিও পরিমাণের বেশি খাওয়া যাবে না। পোলাও কম খাবেন, ভাত হলেই ভালো। ফল, ফলের রস, সালাদ ইত্যাদি বেশি করে খাবেন। বিশেষ করে খাবারের শুরুতে সালাদ খেলে অন্য খাবারের জন্য জায়গা কমে যাবে। এ ছাড়া টক দই খেলে উপকার পাবেন।

কিডনির সমস্যা থাকলে প্রোটিন জাতীয় খাদ্য যেমন মাছ-মাংস অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। দিনে দুই টুকরোর বেশি নয়। ফল খাবার ব্যাপারেও নিষেধাজ্ঞা থাকে। এদের অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নেয়া উচিত ঈদের আগেই। যারা দুধ সহ্য করতে পারেন না, তাদের দুধের তৈরি খাবার এড়ানো ছাড়া উপায় নেই, তবে, বোরহানি বা টক দই খাওয়া যায়। অনেকে সালাদ খেলে সমস্যায় পড়েন, তাদেরও তা এড়াতে হবে। প্রচুর পানি পান করতে হবে যাতে কোষ্ঠকাঠিন্য না হয়।

ঈদে অতিরিক্ত খেয়ে পেট জ্বালা করা, ফাঁপা আর পেপটিক আলসার খুব সাধারণ সমস্যা। যাদের পেটের এই সমস্যা আছে তারা অতিরিক্ত ঝাল, মশলাযুক্ত খাবার পরিহার করবেন। পেট ভরে খাবেন না, গোগ্রাসে না খেয়ে সময় নিয়ে চিবিয়ে খাবেন, খাবার সাথে সাথে পানি না খেয়ে একটু পরে খাবেন, রাতে খাবার পর পরই ঘুমাতে যাবেন না, কিছুক্ষণ হাঁটা চলা করতে পারেন, দুই তিন ঘণ্টা পর ঘুমাবেন।

ঈদের মধ্যে একটি সাধারণ সমস্যা হলো কোষ্ঠকাঠিন্য। একে রোজায় পানি কম খাওয়া হয়, সবজি কম খাওয়া হয়, ভাজা পোড়া খাওয়া হয় বেশি। ঈদেও সেই ধারা বজায় থাকে, উপরন্তু মাংস  তেল চর্বি বেশি খাওয়ায় পানির অভাব আরো বেশি দেখা দেয়। ফলে অনেকেই, বিশেষ করে বৃদ্ধরা সমস্যায় পড়েন। এক্ষেত্রে ঈদের আগের রাতে বা ঈদের সকালে ইসবগুলের ভুষি পানিতে মিশিয়ে খেয়ে নিতে পারেন। সকালে ঈদের নামাজে যাবার আগে সেমাই পায়েসের সাথে সাথে ফলের রস খেতে পারেন। এর সাথে প্রচুর পানি পান করে নিবেন। সব খাবারের ফাঁকে ফাঁকে পানি বা অন্যান্য পানীয় পান করতে হবে।

পরিশেষে,সবার ঈদ ভাল কাটুক।সবার জন্য ঈদ শুভেচ্ছা।

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়