ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২১ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ৬ ১৪২৮

সুমাইয়া সিরাজী

প্রকাশিত: ১৭:৪৭, ২ আগস্ট ২০২১
আপডেট: ১৮:৪০, ২ আগস্ট ২০২১

মা ভালো থাকলেই শিশুরা ভালো থাকে

আমাদের দেশে মেয়েদের কদর সবচেয়ে বেশি বাড়ে যখন তিনি সন্তান সম্ভাবা হোন। সবার চোখের মধ্যমনি হয়ে যান। অন্য সময়ের চেয়ে সবাই বেশি খোঁজখবর রাখেন, সবাই নিত্যনতুন খাবারের আয়োজন করেন, আশেপাশের মানুষজন কি লাগবে কি খাবে সদা ব্যস্ত থাকেন। দেখবেন আপনার চেয়ে বেশি নিজের মানুষগুলো খোঁজখবর রাখে, তদারকি করে ডিম-দুধ খাওয়া হলো কিনা, পছন্দের খাবার এনে দেয়া আরো কত কিছু। 

হবু মা যখন শিশুর জন্ম দিলো দেখবেন মোটামুটি সবার এটেনশন তখন সেই নতুন মানুষের আগমন নিয়ে। খুব কম পরিবারই পেয়েছি আমি যারা সেই নতুন জন্ম দেয়া মায়ের স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ নজর দিচ্ছেন। মায়ের যে এখন আরো দশগুণ যত্ন লাগবে, খাবারের পরিমাণ আরো বাড়বে এগুলো হাতে গোনা কিছু পরিবার জানে। সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়ে আগত নতুন মানুষকে নিয়ে, কি করবে কিসে রাখবে, কি খাবে, কি কি অনুষ্ঠান হবে সেগুলো নিয়ে।  

অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে,

‘গর্ভবতী মায়ের শেষ ৩ মাসে অতিরিক্ত ৩৫০ কিলো ক্যালরি (দিন) আর প্রসূতি মায়ের অতিরিক্ত ৫৫০ কিলো ক্যালরি (দিন)’ 

কতজন মা সন্তান জন্ম দানের পর নিয়মিত চেকআপ করান?

বাংলাদেশ ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ দিচ্ছেন, শিশু জন্মের পর অন্তত ৪ বার প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত  স্বাস্থ্যকর্মী দ্বারা প্রসব পরবর্তী স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে।

  • ১ম চেক আপ: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে 
  • ২য় চেক আপ: প্রসবের ২-৩ দিনের মধ্যে
  • ৩য় চেক আপ: প্রসবের ৭-১৪ দিনের মধ্যে
  • ৪র্থ চেক আপ: প্রসবের ৪২-৪৫ দিনের মধ্যে

প্রসব পরবর্তী সেবা কি হবে সেখানে স্পষ্ট করে বলা আছে- 

‘প্রসূতি মায়েদের শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি তে রাখতে হবে, এতে বুকের দুধ তৈরি ভালো হবে।’ 

দুগ্ধদানকারী মায়েদের জন্য নমুনা খাদ্য যেমন হবে

খিচুড়ি ফর্মুলা

  • ২ মুঠ চাল- খাদ্য শক্তি ( ৬০ গ্রাম)
  • ১ মুঠ ডাল- আমিষ (২৫ গ্রাম)
  • ৮ চামচ তেল- উচ্চ শক্তি (৩২ গ্রাম)
  • ডিম ১ টা- প্রানীজ আমিষ (৫৫ গ্রাম)
  •  রঙিন শাক সবজি ১ মুঠো- ভিটামিন ও মিনারেলস (৩৫ গ্রাম) 

মোট শক্তি মূল্য= ৭৬২ কিলোক্যালরি (Ref: food and nutrition bulletin, vol: 35, no:4, 2014)

আসুন শুনি জাতীয় খাদ্য গ্রহণ নির্দেশিকা কি বলছে? 

• মায়ের দুধ শিশুর জন্য আদর্শ খাবার
• শিশু জন্মের পর ১ ঘণ্টার মধ্যে শাল দুধ পান করান
• শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও সুসাস্থ্যের জন্য মায়ের দুধ সবচেয়ে উপযোগী খাবার যা শিশুর জীবন বাচায়, রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি কমায় এবং জন্ম নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে। 
• ৬ মাস পরে শিশুর শারীরিক বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিপূরক খাবারের প্রয়োজন। পরিপূরক খাবার নিরাপদ না হলে শিশুর নানা রকম অসুস্থতা ও মৃত্যুঝুকি থেকে যায়। 
• পরিপূরক খাবার এমন ভাবে দেয়া উচিত যা শিশু ২ বছর বয়সে পরিবারের স্বাভাবিক খাবারে অভ্যস্ত হয়। 
• প্রসূতি মায়ের জন্য পারিবারিকভাবে আন্তরিক সহযোগিতা ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করুন। মোটামুটি সবখানেই প্রসূতি মায়ের জন্য খাদ্য ও বিশ্রামকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।

 কতজন মা প্রসূতি অবস্থায় নিজের খাদ্য তালিকা ঠিক আছে কিনা জানতে নিউট্রিশনিস্ট এর সহায়তা নিয়েছেন?

এই সংখ্যা নিতান্তই অল্প। অথচ বাবু ব্রেস্ট ফিড করার সাথে সাথেই গর্ভাস্থার চার্ট এর চেয়ে প্রসূতি অবস্থায় চার্ট চেঞ্জ হবে। কি কি খাবার খেলে বুকের দুধ উৎপাদন ভালো হবে জানতে হবে। রক্তে হিমোগ্লোবিন ঠিক আছে কিনা, না থাকলে কি কি খেতে হবে জানতে হবে। কয় বেলা কি পরিমাণে খাবেন, এখন বাড়তি ওজন কিভাবে কমবে এই ব্যাপারে একজন নিউট্রিশনিস্ট বা একজন পুষ্টিবিদ আপনাকে সহায়তা করবে। আপনার নিকটস্থ কোনো পুষ্টিবিদের সাথে পরামর্শ করুন, খাবার সম্পর্কিত ভ্রান্ত ধারণা ও কুসংস্কার এড়িয়ে চলুন। 

বাবাদের কাছে অনুরোধ রইল,  শিশু জন্মদানের পর আরো বেশি খেয়াল রাখুন আপনার স্ত্রীর শরীরের দিকে। তিনি ঠিক মতো খাবার খাচ্ছেন কিনা সেদিকে  নজর দেয়া বাবাদের প্রধান দায়িত্ব। এক সাথে খেতে বসলে ভালো খাবারগুলো নিজে তুলে দিন। প্রতিদিন ডিম ও দুধ খাচ্ছে কিনা না মনে করিয়ে দিন। রাতে ব্রেস্ট ফিড করালে ঘুম ভালো হয় না। আপনি আগে ঘুমিয়ে সকালের দিকে বাচ্চাকে ২-৩ ঘণ্টা রেখে কিছু সময় মায়ের ঘুম নিশ্চিত করুন। আপনার ছুটির দিনগুলোতে মাকে ছুটি দিন। গর্ভধারণের দিন থেকে শিশুর বয়স ২ বছর পর্যন্ত একটা মায়ের কিন্তু ছুটি হয় না। কেননা- 

মা ভালো থাকলেই শিশুরা ভালো থাকবে

সুমাইয়া সিরাজীনিউট্রিশনিস্ট এন্ড স্পেশাল এডুকেটর প্রয়াস, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়