ফেণি: নুসরাত হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে ট্রাইবুনাল। রাফির জবানবন্দি ইন্টারনেটে ছড়ানোর প্রমাণ পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে এ পরোয়ানা জারি করেন
বিচারক মোহাম্মাদ আস সামছ জগলুল হোসেন।
গত মার্চ মাসে নুসরাত সোনাগাজী থানায় অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করেন। পরে এর তদন্তের জন্য ওসি মোয়াজ্জেম থানায় ডেকে নিয়ে নুসরাতের জবানবন্দি নিয়েছিলেন। তার কয়েক দিনের মাথায় নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সারাদেশে নুসরাত হত্যার বিচারের দাবিতে তুমুল আন্দোলন ছড়িয়ে পরে। এর মাঝেই ওসি মোয়াজ্জেমকে দেওয়া জবানবন্দির ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
নুসরাতের মৃত্যুর পর গত ১৫ এপ্রিল ওই ভিডিও ছড়ানোর জন্য ওসি মোয়াজ্জেমকে আসামি করে বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মাদ আস সামছ জগলুল হোসেন ওই অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন পিবিআইকে। পিবিআইর প্রতিবেদনে প্রত্যাহারকৃত ওসির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার কুমার জানান, “যে সব অভিযোগ করা হয়েছে, আমরা তার কিছু প্রমাণ পেয়েছি।” প্রতিবেদনটি সোমবার সাইবার ট্রাইব্যুনালে তোলা হলে বিচারক তা আমলে নিয়ে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেপ্তারের পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। পরোয়ানা জারি আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রসিকিউশন পুলিশের উপ কমিশনার আনিসুর রহমান।
মামলাকারী আইনজীবী সায়েদুল হক সুমন জানান, “১৩ পৃষ্ঠার রিপোর্টে সব উল্লেখ করেছে পিবিআই। আমি যেসব অভিযোগগুলো ওসির বিরুদ্ধে করেছিলাম, তদন্ত রিপোর্টে সেগুলোই উঠে এসেছে।” ফেইসবুকে ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিও নিয়ে আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছিলেন, নির্যাতিতের এ ধরনের ভিডিও ধারণ অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।
নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার সোনাগাজী থানা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় ওসি মোয়াজ্জেমকে। পরে তাকে পুলিশ বাহিনী থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় । তবে ওসি মোয়াজ্জেমের দাবি, তার মোবাইল থেকে নুসরাতের জবানবন্দির ভিডিও কিভাবে ছড়িয়েছে তা তিনি জানেন না।
গত ১৪ এপ্রিল সোনাগাজী থানায় করা এক সাধারণ ডায়েরিতে মোয়াজ্জেম বলেন, অফিসে মোবাইল ফোন রেখে তিনি ওয়াশরুম ও নামাজের জন্য বের হলে ওই সুযোগে স্থানীয় সাংবাদিক আতিয়ার সজল তার মোবাইল ফোন থেকে ভিডিওটি নিয়ে যান। পরে তিনি তার মোবাইল হিস্ট্রির মাধ্যমে তা জানতে পারেন। পরবর্তীতে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে সাংবাদিক আতিয়ার সজল পাল্টা আরেকটি জিডি করেন। সেখানে তিনি বলেন, ওসি মোয়াজ্জেম তার বিরুদ্ধে অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। তিনি জানান, গত ৬ এপ্রিল মাদ্রাসায় নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার দুদিন পর ওসি মোয়াজ্জেমের কাছে তথ্য জানতে চাইলে তিনি নুসরাতের ঘটনাকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে নিজে থেকেই ওই ভিডিও দেখান। পরে ওসি নিজেই তাকে ভিডিওটি দেন।
ওই মামলা করার পরদিন অধ্যক্ষ সিরাজ ও নুসরাতকে থানায় ডাকেন ওসি মোয়াজ্জেম। সেদিন নুসরাতের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছিল।২৬ মার্চ ছাত্রী নুসরাতকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে সিরাজ-উদ দৌলার বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছিল। ওই দিন অধ্যক্ষ সিরাজকেও গ্রেফতার করা হয়েছিল। সিরাজকে গ্রেফতার করার তখন তার মুক্তির দাবিতে একদল কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি নুসরাতকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দিচ্ছিল।
উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়া হয়। মৃত্যুর আগে নুসরাত নিজেই বলে গেছেন, অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে মামলা না তোলায় তার গায়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয় নুসরাতের।
এইচএ/ ইএন