ঢাকা, বুধবার   ১০ জুন ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ২৬ ১৪৩৩

প্রকাশিত: ১৫:১০, ২৭ মে ২০১৯
আপডেট: ১৫:২৭, ২৭ মে ২০১৯

নায়িকা হতে এসে চুরির পথ বেঁছে নিলেন তানিয়া শিকদার

আইনিউজ ডেস্ক:  এ্যানি, নদী, সাদিয়া, ডা. নওশীন এমন অসংখ্য নামের অধিকারী গাজীপুরের তািনয়াকে প্রথম দেখায় যে কারও-ই চোখ আটকে থাকবে। বাহ্যিক সৌন্দর্যকে পুঁজি করেই হাজির হন ঢাকার অভিজাত আবাসিক হোটেল, পার্টি সেন্টারগুলোতে। বিত্তবানদের টাগের্ট করে তাদের বাসা পর্যন্ত যাওয়া এবং সুযোগ বুঝে চুরি করে সরে পড়াই তার মূল লক্ষ। রাজধানীতে তার বিরুদ্ধে ১১টি মামলা । যার মধ্যে চারটি মিরপুর থানায়, একটি দারুস সালাম, একটি আদাবর, একটি তেজগাঁও, দুটি মোহাম্মদপুর, একটি নিউ মার্কেট এবং একটি দক্ষিণখান থানায়।রয়েছে।ঢাকা শহরে ২০টির বেশি চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে মেয়েটি। সম্প্রতি রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে চুরি হয়। সেই ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তে গিয়ে ডিবি তানিয়ার সন্ধান পায়। ডিবি জানতে পারে, তানিয়া প্রথমে বাড়িওয়ালার ছেলের বন্ধুর সঙ্গে আগে একবার ওই বাসায় যান। তখনই চুরির টার্গেট করে আর বাসার সদস্যদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে মেয়েটি। চুরির উদ্দেশ্যে বাসায় প্রবেশের সময় দারোয়ানের কাছে নিজেকে বাড়িওয়ালা আঙ্কেলের মেয়ের বান্ধবী ডা. তানিয়া পরিচয় দেয় মেয়েটি । বাড়িতে প্রবেশের পর আরেক অভিনব কৌশলের আশ্রয় নেন বাড়িওয়ালা আঙ্কেলের সঙ্গে । বলেন, তিনি ওমান থেকে এসেছেন, তার কাছে থাকা বেশকিছু ডলার রাখার মতো নিরাপদ জায়গা না থাকায় এখানে এসেছেন। প্রথমে রাজি না হলেও একপর্যায়ে বৃদ্ধ আঙ্কেল রাজি হয়ে খুলে দেন আলমারি। সে সুযোগে তানিয়া নিয়ে নেন নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার। একই কৌশলে দ্বিতীয় চুরি করেন ঢাকার রেডিসন হোটেলের এক পার্টিতে পরিচয় হওয়া অন্য একজনের বাসায়। তিনি ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে  জানান, সাধারণত চুরি করতে যাওয়ার সময় তিনি তার বিশ্বস্ত এক উবার ড্রাইভার কামালকে ফোন দিয়ে আগে থেকে জানান। অপর সহযোগী আসিফ ড্রাইভার কামালকে নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন। দীর্ঘ তদন্তের পর অবশেষে তানিয়াকে উত্তরা থেকে গ্রেফতার করে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ রোববার রাতে। একই সঙ্গে তার সহযোগী  ড্রাইভার কালাম, আসিফ, দুলারি ওরফে আফসানাকে গ্রেফতার করা হয় । গ্রেফতারের সময় তার ব্যাগ থেকে প্রায় ছয় ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার, চোরাই স্বর্ণ বিক্রির দেড় লাখ টাকা এবং চুরির কাজে ব্যবহৃত উবারচালিত একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়। গ্রেফতারের পর তানিয়াকে ডিবি কার্যালয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর মাসকট প্লাজার একটি স্বর্ণের দোকানে অভিযান চলে। এরপর ওই দোকানের কর্মচারী রায়হানকে গ্রেফতার করা হয়। রায়হান তানিয়ার চোরাই স্বর্ণ কিনে বিক্রি করে। তার কাছ থেকে সাড়ে পাঁচ ভরির গলিত স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। ডিবি কার্যালয়ে অফিসারদের জিজ্ঞাসাবাদে চুরির পথ বেছে নেওয়ার কারন প্রসঙ্গে তানিয়া শিকদার বলেন, ‘ইচ্ছা ছিল নায়িকা হওয়ার। কিন্তু সেটা হতে এসে বিভিন্নজনের কাছে প্রতারিত হয়েছি। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে চুরিকে পেশা হিসেবে বেছে নেই।’ তানিয়ার গ্রেফতার হওয়া বা জেল খাটা এবারই প্রথম নয়। এর আগে দু’দফায় প্রথমে পাঁচ মাস এবং পরে তিন মাস জেল খেটেছেন বলে জানান এই নারী। ডিবি উত্তর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. গোলাম সাকলায়েন বলেন, সম্প্রতি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার দুটি বাসায় স্বর্ণালঙ্কার এবং নগদ অর্থ চুরি হয়। ওই ঘটনায় ভাটারা থানায় দুটি মামলা হয়। থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দারাও ওই চোরচক্রকে খুঁজতে মাঠে নামে। দীর্ঘ তদন্ত ও অভিযানের পর তানিয়া ও তার সঙ্গীদের গ্রেফতারে সফল হয় ডিবি।   এসটি/ইএন  
Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়