ঢাকা, বুধবার   ১০ জুন ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ২৬ ১৪৩৩

প্রকাশিত: ০৬:১৩, ২৬ মে ২০১৯
আপডেট: ০৬:১৩, ২৬ মে ২০১৯

দেড় ঘন্টার পথ যেতে এখন লাগে মাত্র ৮ মিনিট!

আইনিউজ ডেস্ক: মেঘনা-গোমতী সেতু পার হতে আগে সময় লাগতো প্রায় দেড় ঘন্টা। দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতী সেতু চালু হওয়ার পর সেই পথ পাড়ি দিতে এখন সময় লাগে মাত্র ৬ থেকে ৮ মিনিট। গতকাল শনিবার (২৫ মে) নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে দ্বিতীয় মেঘনা ও কুমিল্লার দাউদকান্দিতে দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতী সেতুর উদ্ভোধন করেন। এরপর যান চলাচলের জন্য খোলে দেয়া হয় সেতু দুটি। এরপরেই বদলে যান চলাচলের দৃশ্য। স্বস্তি দেখা দিয়েছে গাড়ির চালক, যাত্রী, ট্রাফিকদের মাঝে। মেঘনা ও মেঘনা-গোমতী সেতুর সঙ্গে জড়িতরা জানান, চার লেন বিশিষ্ট ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে যানবাহন এসে আগে উঠতো এক লেনবিশিষ্ট পুরাতন মেঘনা-গোমতী সেতুতে। তাছাড়া পুরাতন সেতু দু’টি বেশি ঢালু হওয়ার কারণে ধীরগতিতে যান চলাচল করতো। ফলে বিভিন্ন উৎসব-পার্বণ ও সরকারি ছুটির দিনে তীব্র যানজট লেগে থাকতো। এতে করে ভোগান্তি পোহাতে হতো যাত্রী ও চালকদের। কিন্তু এবার ঈদের আগে দ্বিতীয় মেঘনা ও মেঘনা-গোমতী সেতু খুলে দেওয়ায়, মানুষের ভোগান্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। সেতুটি চালু হওয়ায় এ রুটে চলাচলকারী গণপরিবহনের চালকেরা ভীষণ খুশি। শ্যামলী পরিবহনের এক ড্রাইভার জানান, ‘এবার ঈদে যানজটের কোনও আশঙ্কা নেই। আগের সেতুটি ছিল এক লেনের এবং রাস্তা থেকে বেশ উঁচুতে। ফলে চার লেনের সড়ক থেকে ঢাল বেয়ে ধীরগতিতে গাড়িগুলো গিয়ে উঠতো এক লেনের সেতুতে। এতে যানজট লেগেই থাকতো। দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতী সেতু চার লেনের। দুই লেনে গাড়ি যাবে এবং দুই লেনে গাড়ি আসবে। এতে করে সেতুতে কোনও যানজট হবে না।’ সেতু চালু হওয়ায় খুশি হয়েছেন দায়িত্বপালনকারী ট্রাফিক পুলিশও। তাঁরা বলছেন গত ঈদে মেঘনা সেতুতে ডিউটি করতে গিয়ে তাদেরকে হিমশিম খেতে হয়েছে। এক মিনিটের জন্যও দাঁড়িয়ে থাকার সুযোগ পান নি। কিন্তু এবছর ঈদের ডিউটি স্বস্তিতে করতে পারবেন মনে করছেন তাঁরা। তাঁরা আরও জানান,  গত শনিবার নতুন সেতু দুটি খুলে দেওয়ার পর, প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে মহাসড়কে দায়িত্ব পালন করছি। গাড়ি এক মিনিটের জন্যও কোথাও থামছে না। দায়িত্ব পালনে কোনও কষ্ট হচ্ছে না।’ মেঘনা ও মেঘনা-গোমতি সেতুর প্রকল্প ব্যবস্থাপক শওকত আহমেদ মজুমদার জানান, ‘বাংলাদেশে এই প্রথম কোনও বড় প্রকল্পের কাজ নির্দিষ্ট সময়ের আগে সম্পন্ন হলো। এটি সম্ভব হয়েছে মূলেত দুটি কারণে— সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মনিটরিং এবং জাপানের আধুনিক প্রযুক্তি ও তাদের কর্মদক্ষতা প্রয়োগ। এটি দেশের জন্য ও বর্তমান সরকারের জন্য একটি মাইফলক হয়ে থাকবে।’ এইচএ/ ইএন 
Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়