ঢাকা, বুধবার   ১০ জুন ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ২৬ ১৪৩৩

প্রকাশিত: ০৭:৫২, ২৭ মে ২০১৯
আপডেট: ১০:০৪, ২৭ মে ২০১৯

লঞ্চের টিকিটের নিয়ন্ত্রণ মালিকদের হাতে

আইনিউজ ডেস্ক: ঈদুল ফিতরে বাড়ি ফিরতে লঞ্চের টিকিট কাটতে গিয়ে টিকিট পাচ্ছেন না যাত্রীরা। পরিচিত লোকদের জন্য টিকিট রেখে দিচ্ছেন লঞ্চ মালিকরা। ফলে টিকিট সংগ্রহ করতে আসা যাত্রীরা পড়ছেন বিড়ম্বনায়। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচলকারী ২১৫টি লঞ্চের টিকিট বুকিং হয়েছে প্রায় ২০ হাজার । অথচ টিকিট সংগ্রহ করতে পারছেন না সাধারণ যাত্রীরা। তারা অভিযোগ করছেন কেবিনের টিকিটগুলো মূলত নিয়ন্ত্রণ করেন লঞ্চের মালিকেরা। নিজেদের পরিচিত লোকদের জন্য টিকিট রেখে দেন লঞ্চ মালিকরা। অন্যদিকে সাধারণ যাত্রীরা আগেভাগে সংগ্রহ করতে এসেও টিকিট না পেয়ে বিড়ম্বনায় পড়ছেন। গত ১৯ মে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় ২০ মে থেকে কাউন্টারে লঞ্চের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হবে। কিন্তু ২০ তারিখে অধিকাংশ কাউন্টার ছিলো বন্ধ। জানা যায় টিকিট বিক্রি হয়েছে লঞ্চে। এসময় অধিকাংশ কেবিনের টিকিট বুকিং হয়ে গেছে বলে যাত্রীদের জানানো হয়। ঈদ উপলক্ষে বিশেষ লঞ্চ চলাচল শুরু হবে আগামী ৩০ মে থেকে। অথচ প্রায় সব কটি লঞ্চের কেবিনে দেখা দিয়েছে টিকিটের সংকট । লঞ্চের যাত্রীরা কেবিনের টিকিট না পেয়ে অনেকে নিরাশ হয়ে ফিরেছেন। ঢাকার পলাশী থেকে বরিশাল যাওয়ার জন্য টিকিট কিনতে আসেন আফজল হোসেন। তিনি জানান,  অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চের দ্বিতীয় শ্রেণির ডাবল কেবিনে ৩০ তারিখের আগাম টিকিটের জন্য এসেছিলেন তিনি। কিন্তু ওই দিনের কেবিন খালি নেই বলে তাঁকে জানানো হয়। মাস্টার রুম আছে, সেখানে পরিবার নিয়ে থাকা যাবে। ভাড়া লাগবে সাড়ে তিন হাজার টাকা। এত টাকা দিয়ে যাওয়া তাঁর জন্য বাড়তি চাপ হয়ে যাবে। আরেক যাত্রী রাসায়নিকের ব্যবসায়ী ফোরকান মিয়া জানান, টার্মিনালে টিকিট বিক্রির কাউন্টারগুলো বন্ধ পেয়েছি। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর এমভি জামাল-২ লঞ্চের কেবিনের আগাম টিকিটের জন্য খোঁজ নিতে গেলে লঞ্চের কর্মচারী হেলাল উদ্দিন জানান, ১ জুন থেকে ঈদের আগে কোনো কেবিন খালি নেই। এগুলো সপ্তাহখানেক আগেই বুকিং হয়ে গেছে। গত সপ্তাহের বুধবারও এসেছিলাম। সেদিন বলেছিল, বিক্রি শুরু হয়নি। এখন ভাবছি সড়কপথে বাড়ি ফিরব।’
কেবিনের টিকিট না পেয়ে অনেকে নিরাশ হয়ে ফিরেছেন। তাদের অভিযোগ, কেবিনের টিকিটগুলো মূলত নিয়ন্ত্রণ করেন লঞ্চের মালিকেরা। নিজেদের পরিচিত লোকদের জন্য টিকিট রেখে দেন। বরগুনাগামী পূবালী-১ লঞ্চের কর্মচারী সলিম মিয়া জানান, ঈদের আগে তাঁদের লঞ্চের কোনো কেবিন খালি নেই। এসব কেবিন মালিক পক্ষ বুকিং দিয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির কেবিনের আগাম টিকিট তাঁদের কাছে থাকে না। সেগুলো ঈদ মৌসুমে মালিকেরাই নিয়ন্ত্রণ করেন।  
অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল সংস্থার সদস্য ও ঢাকা নদীবন্দরের আহ্বায়ক মামুন অর রশীদ জানান, প্রতিদিনের চেয়ে ঈদ মৌসুমে কেবিনের যাত্রী বেশি থাকে। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী লঞ্চ কম। যাঁরা প্রতিদিন লঞ্চে যাতায়াত করেন, তাঁরা আগে থেকেই টিকিট বুকিং দিয়েছেন। এ সপ্তাহের শেষের দিকে যাত্রীর চাপ বাড়তে শুরু করবে। অথচ আমাদের দাবি করা শ্যামবাজার এলাকায় টার্মিনালসহ দুটি ঘাটে বাড়তি পন্টুন স্থাপন করা হয়নি। এ ছাড়া ওয়াইজঘাট এলাকায় পটুয়াখালী রুটের ঘাটের সামনে ঢাকা সিটি করপোরেশনের ময়লার কনটেইনার রাখার কারণে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।’ বিআইডব্লিউটিএ ঢাকা নদীবন্দরের উপপরিচালক কায়সারুল ইসলাম জানান, দু-এক দিনের মধ্যে লঞ্চমালিকদের চাহিদা মোতাবেক নতুন পন্টুন সংযোগ করা হচ্ছে। তা ছাড়া মাসখানেক আগে থেকেই পন্টুনের সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। এইচএ/ ইএন 
Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়