ঢাকা, বুধবার   ১০ জুন ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ২৬ ১৪৩৩

প্রকাশিত: ০৬:০৪, ২৭ মে ২০১৯
আপডেট: ০৬:০৪, ২৭ মে ২০১৯

এখনো অবিক্রীত ২৩ হাজার টিকিট

আইনিউজ ডেস্ক: গতকাল রবিবার ছিলো আগাম ট্রেনের টিকিট বিক্রির শেষ দিন। রবিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত সব মিলিয়ে ২৩ হাজারের বেশি টিকিট অবিক্রীত আছে। সবমিলিয়ে গত পাঁচ দিনে কাউন্টার থেকে বিক্রি হয়েছে ৫২ হাজার ৬০১টি টিকিট। ঈদের আগে রেলের টিকিট কাটতে গিয়ে প্রতি বছরই ভোগান্তি পোহাতে হয় যাত্রীদের। তবে এবার যাত্রীদের এ ভোগান্তি কমাতে পাঁচটি জায়গা থেকে টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা করে রেল কতৃপক্ষ। অর্ধেক টিকিট অনলাইন ভিত্তিক অ্যাপ 'সেবা' থেকে বিক্রির ব্যবস্থাও করা হয়। তারেপরও কমেনি যাত্রীদের ভোগান্তি। অনেকেই টিকিট না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। অনেক যাত্রী সেহরি খেয়ে না খেয়েই স্টেশনে এসেও সারাদিনে একটি টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন নি বলে জানা যায়।

আগামী ৫ জুন বুধবার ঈদ ধরে গত পাঁচ দিন ধরে ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি করছে রেল কতৃপক্ষ। গতকাল ছিলো আগাম টিকিট বিক্রির শেষ দিন। কমলাপুর স্টেশন কতৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, গত পাঁচ দিনে কাউন্টার থেকে ৫২ হাজার ৬০১টি টিকিট বিক্রি হয়েছে । ১২ হাজার ৫৩টি টিকিট আর অবিক্রীত আছে । অন্যদিকে  অনলাইনে গত পাঁচ দিনে টিকিট বিক্রি হয়েছে ৪৩ হাজার ৫৭৩টি। অবিক্রীত আছে ১১ হাজার ৫৩টি টিকিট।  সব মিলিয়ে ২৩ হাজারের বেশি টিকিট এখনো অবিক্রীত আছে। ঈদ উপলক্ষে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে বিশেষ ট্রেনসহ প্রতিদিন প্রায় ৩১ হাজার টিকিট বিক্রি করার কথা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেলের এক কর্মকর্তা জানান, ঈদে প্রথমে প্রথম শ্রেণি, ঘুমিয়ে যাওয়ার কামরা, শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষের (এসি) আসনের টিকিট বেশি বিক্রি হয়। মানুষ এসব টিকিটের পেছনে ছোটার কারণে নন–এসি শ্রেণি ও কাছের দূরত্বের স্টেশনের টিকিট কম বিক্রি হয়। এ ছাড়া ঈদের আগের রাতে যেসব ট্রেন ছেড়ে যায়, সেগুলোর টিকিটের চাহিদা কম থাকে। ফলে ২০–২৫ হাজার টিকিট অবিক্রীত থেকে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। যাঁরা নিজেদের চাহিদামতো টিকিট পাননি, তাঁরা যাত্রার আগের পাঁচ দিন অবিক্রীত টিকিট সংগ্রহ করবেন। প্রতি ঈদেই এ প্রবণতা দেখা যায়। অবিক্রীত এই টিকিটগুলো আবার অনলাইন ও কাউন্টার থেকেই বিক্রি করা হবে।

ঈদের ছুটিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাওয়ার জন্য কাউন্টারে টিকিট কাটতে আসেন মোঃ উজ্জ্বল মিয়া। তিনি জানান,  ‘রেলের অ্যাপে তো লগইনই করা যায় না। দেড় ঘণ্টা ধরে চেষ্টা করেও টিকিট পেলাম না। শনিবারও অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট কাটার চেষ্টা করতে করতে মোবাইলের একবার চার্জ শেষ করেছি। তা–ও পাইনি টিকিট।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাজমুল হক গতকাল ভোর চারটার দিকে টিকিট কাটতে কমলাপুরে এসেছিলেন। তিনি জানান ‘ভোগান্তি কমাতে পাঁচ জায়গা ও অ্যাপে টিকিট বিক্রি করা হলো। এত উদ্যোগ নিয়ে লাভ তো কিছুই হয়নি। ভোগান্তি আগের মতোই রয়েছে।’

এ সময় সিএনএস লিমিটেডের কর্মকর্তারা জানান, দেড় ঘণ্টায় প্রায় চার হাজার টিকিট বিক্রি হয়েছে।  অ্যাপের টিকিট না পাওয়া প্রসঙ্গে সিএনএসের নির্বাহী পরিচালক মো. জিয়াউল আহসান সারওয়ার জানান, একসঙ্গে অনেক মানুষ  অ্যাপে ঢুকার কারণে এরকম সমস্যা হচ্ছে। সারা দেশের ২০ থেকে ৩০ হাজার টিকিট বিক্রির সাপোর্ট এই অ্যাপের আছে। আজ থেকে অ্যাপে এই চাপটি থাকবে না।

কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ আমিনুল হক জানান, ‘আমাদের কাছে যেসব অভিযোগ আসছে, সে সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সজাগ আছে, কাজও করছে। আমরা এই সমস্যাগুলো সীমিত করার চেষ্টা করব।’ সামনের ঈদে এ সমস্যাগুলো হবে না বলে তিনি আশাবাদী।

এইচএ/ ইএন   
Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়