ঢাকা, বুধবার ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,   ভাদ্র ১৭ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:১১, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

বিদ্যুতের স্পার্ক থেকে মসজিদে আগুন: তিতাস

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা এলাকার বাইতুস সালাত জামে মসজিদটি নির্মাণে কোনো নিয়মই মানা হয়নি। অবৈধ গ্যাস সংযোগের রাইজার ও পাইপ লাইনের ওপর নির্মাণ হয়েছিল মসজিদটি। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় গ্যাসের লাইন। ক্ষতিগ্রস্ত লাইন থেকে নির্গত গ্যাস মসজিদ জমা হয়। অবৈধভাবে নেয়া বিদ্যুতের স্পার্ক থেকে আগুন লাগলে জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণ হয়েছে বলে তিতাসের পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে নারায়ণগঞ্জের মসজিদে বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করে। এ সময় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ উপস্থিত ছিলেন।

তদন্ত কমিটির প্রধান আব্দুল ওহাব বলেন, ‘তিতাস গ্যাসের নিয়ম-কানুন না মেনে, অবহিত না করে গ্রাহক তাদের নিজ উদ্যোগে স্থানীয়ভাবে রাইজারগুলো নরমালভাবে প্লাগ এবং সকেট দিয়ে স্থানান্তর করেছে। এটা ১৯৯৮ সালের ঘটনা। আমাদের এই লাইনগুলো ১৯৯৬ সালে দুর্ঘটনাস্থলের নিচে বসানো ছিল, তারা আমাদের নিয়ম না মেনে লাইনের নিচ দিয়ে বেইজমেন্ট করেছে। এছাড়া ২০০০ সালে নিয়ম না মেনেই মসজিদ নির্মাণ করে। মসজিদটি তৈরি করার সময়ই তারা লাইনগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।’

তিনি বলেন, ‘লিকেজ না হওয়া পর্যন্ত চিহ্নিত করা যায় না। যেহেতু আমাদের গ্যাসলাইন অবৈধভাবে স্থানান্তরিত করে মাটি চাপা দেয়া হয়েছে। পরে মসজিদ নির্মাণের সময় পুরোনো লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেখান থেকে লিকেজ তৈরি হলে গ্যাস লিক হতে থাকে।’

কমিটির প্রধান বলেন, ‘মসজিদের ফ্লোরে ৬-৮ সিসি ঢালাই না থাকায় সেই গ্যাস মসজিদের এসি চেম্বারে গিয়ে জমে। সেখানে বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প লাইন চালু করলে তা স্পার্ক করে এ ঘটনা ঘটে বলে আমরা মনে করছি।’

তিনি বলেন, ‘দেওয়ান ও শওকত আলী নামের দুই ব্যক্তি অবৈধভাবে তিতাসের নিয়ম না মেনে গ্যাসলাইন স্থানান্তর করেন। এছাড়া মসজিদে অবৈধ বিদ্যুৎলাইন ছিল। গ্যাস লিক হচ্ছে সেটা মসজিদ কমিটি বা স্থানীয়রা কাউকে কিছু জানাননি। একই সঙ্গে মসজিদ নির্মাণে রাষ্ট্রীয় অনুমোদন নেয়া দরকার- সেটার কোনো দলিল বা কাগজ তারা (মসজিদ কমিটি) দেখাতে পারেনি।’

আবদুল ওহাব বলেন, ‘মসজিদ কমিটির সভাপতি বলেছেন, গ্যাসলাইন মেরামতের জন্য তাদের কাছে কে বা কারা ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছেন। তিনি তাদের নাম বা এর কোনো প্রমাণও দিতে পারেননি। তিনি কেন বলতে পারছেন না- ওনার কাছে কে টাকা চেয়েছেন? গ্যাস লিক করেছে কমিটি আমাদের জানায়নি।

তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলী মো. আল মামুন বলেন, ‘যেখান থেকে অভিযোগ আসে বা পাচ্ছি সেখানেই আমরা সমাধান করছি। এটা আমাদের নিয়মিত মনিটরিংয়ের মধ্যে পড়ে। তিতাসের কেউ ঘুষ নিয়ে পার পেয়ে যাবেন- তা হতে পারে না। প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এদিকে মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিবেদনে কমিটি তাদের তদন্তে এককভাবে কাউকে দায়ী না করলেও, সমষ্টিগতভাবে অনেকেই এর দায় এড়াতে পারে না বলে জানিয়েছে।

প্রতিবেদন পাওয়ার পর জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, নারায়ণগঞ্জের মসজিদে বিস্ফোরণ ঘটনার দায় কেউ এড়াতে পারবে না। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব অবহেলার বিষয়টি গভীরভাবে যাচাই করে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ৪ সেপ্টেম্বর এশার নামাজ চলাকালে নারায়ণগঞ্জের বাইতুস সালাত মসজিদে বিস্ফোরণ হয়। মুহূর্তের মধ্যে মসজিদের ভেতরে থাকা প্রায় ৫০ জনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হুড়োহুড়ি করে বের হওয়ার চেষ্টা করেন তারা। তাদের মধ্যে দগ্ধ অবস্থায় ৩৭ জনকে শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

এদের মধ্যে ৩১ জন ইতোমধ্যে মারা গেছেন। বর্তমানে হাসপাতালে আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন ৫ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ জন।

আইনিউজ/এসডিপি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়