ঢাকা, বুধবার ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,   ভাদ্র ১৭ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:২০, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
আপডেট: ০০:৩০, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

সরকারি কর্মকর্তারা গণমাধ্যমে কথা বলতে পারবেন, তবে...?

সরকারি কর্মকতারা ইতিবাচক ও সরকারের উন্নয়ন বিষয়গুলো নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলতে পারবেন- বলেছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন- সরকারের উন্নয়নগুলো যদি মানুষের কাছে যায়, তাহলে সকলে জানতে ও বুঝতে পারবে। নাহলে বুঝবে কিভাবে।

প্রতিমন্ত্রী বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি)  এই সময় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বলেন- ‘শুধুমাত্র যেগুলো জন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে অথবা দেশের স্বার্থ নষ্ট হয়, সকারের যে পলিসি বিপরীতাত্মক হয়। অথবা অন্যদেশের সাথে যে সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নষ্ট হয় সেই রকম কিছু করা যাবে না।’

দেশে সরকারের যেসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড রয়েছে, যেটি রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত না করে- সেগুলো বলা যাবে।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালক শারমিন আব্বাসি প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টির আকর্ষণ করে বলেন- ‘সংকটে পড়ে এই দৃষ্টি আকর্ষণ করা। ইতিবাচক কথা বলতে, সরকারের অনেক ভালো কথা বলতে সরকারি অনেক কর্মকর্তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু ভয়ে তারা আসতে চান না।’

শারমিন আব্বাসি বলেন- ‘অনুমতি ছাড়া সরকারি কর্মকর্তারা গণমাধ্যমে কথা বলতে পারবে না! ১৯৭৯ এর একটা বিধিনিষেধ আছে। আবার সুস্পষ্ট করে বলা আছে সরকারের ভালো কাজের জন্য যদি কথা বলেন, তাহেলে অনুমতি লাগবে না।’

এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বিষয়টি স্পষ্ট করেন।

তিনি বলেন- ‘আমাদের ইন্টারনাল কমিউনিকেশনে আমরা জাস্ট স্মরণ করে দিয়েছিলাম। এটি কিন্তু বিরাজমান একটি বিধি। আমরা শুধু বলে দিয়েছি বিধিটাকে স্মরণ করার জন্য।’ 

প্রতিমন্ত্রী বলেন- ‘তারা যদি  একটু পড়ে নেন, তারা কোনগুলো করতে পারবেন। দেখা যাবে যে দেশে সরকারের যেসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড রয়েছে। যেটি রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত না করে, অথবা জন শৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, বা সরকারের পলিসি আছে, সে পলিসি ওপেন পলিসি এবং মানুষের কল্যাণে, জনগণের কল্যাণে। সেগুলোর বিপরীতাত্মক যদি না হয়, তাহলে সে কিন্তু দেশের উন্নয়নমূলক সমস্ত কর্মকাণ্ড এবং যে বিষয়গুলো আছে, সে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। এখানে কিন্তু স্পষ্ট করে দেয়া আছে। প্রথমে তারা শংকা বা  এরমধ্যে তারা না পড়ে আছেন (কর্মকর্তারা বিধি না পড়ে আছেন), আমার মনে হয় তারা এটা পড়ে নিয়ে কথা বলতে পারবেন। বরং এটা বললে আমার মনে হয় সরকারের উন্নয়নগুলো যদি মানুষের কাছে যায়, তাহলে সকলে বুঝতে পারবে। নাহলে বুঝবে কিভাবে।’ 

ভিডিও লিংকhttps://www.youtube.com/watch?v=ZBOZn7KzEJM

উল্লেখ্য- গত ১৮ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে বলা হয়, ‘সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ এর বিধি ২২ এর ব্যত্যয় ঘটিয়ে কোনো কোনো সরকারি কর্মচারী বিভাগীয় প্রধানের পূর্বানুমোদন ছাড়া কিংবা প্রকৃত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্র ছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে গণমাধ্যম যথা— বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন, বিভিন্ন বেসরকারি চ্যানেলের সংবাদ, টকশো, আলোচনা অনুষ্ঠান, পত্র-পত্রিকা বা অনলাইন মাধ্যমে বক্তব্য বা মতামত বা নিবন্ধ বা পত্র প্রকাশ করছেন। সরকারের নীতি-নির্ধারণী অনেক বিষয়ে তারা বক্তব্য বা মতামত দিচ্ছেন।

এমন অবস্থায় সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ এর বিধি ২২ অনুসরণ করার অনুরোধ করা হয়েছে।

আইনিউজ/এইচকে/কেএইচএস

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়