ঢাকা, মঙ্গলবার ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,   ভাদ্র ১৭ ১৪৩৩

জিএম ইমরান

প্রকাশিত: ১১:৪৭, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
আপডেট: ১৯:৫৯, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

হাসু আসবে বলে, পথ চেয়ে বসেছিল ‘পূর্ণ স্বাধীনতা’

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। বেলজিয়ামের ব্রাসেলস থেকে শেখ হাসিনা ও ওয়াজেদ পরিবারের যাবার কথা ছিল ফ্রান্সের প্যারিসে। ভোর ৬টার দিকে হঠাৎ জার্মানির বনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী ফোন করে জানালেন, বাংলাদেশে একটি মিলিটারি ক্যু হয়েছে, কোনভাবেই প্যারিসের দিকে না গিয়ে তারা যেনো এখনি জার্মানী চলে আসেন।

এই খবরটা পাওয়া মাত্রই বেলজিয়ামে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সানাউল হক ওয়াজেদ পরিবার ও শেখ রেহানাকে তার বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। বেলজিয়ামে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে কোন ধরণের সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে শেষ পর্যন্ত বহু কষ্টে তারা জার্মানীতে হুমায়ূন রশীদ সাহেবের কাছে পৌঁছলেন।  

হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার নিরাপত্তা নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন ছিলেন। তিনি মনে করতেন, তারা (শেখ পরিবার) যদি পৃথিবীর কোথাও নিরাপদ থাকে, সেটি ভারত। তিনি পশ্চিম জার্মানীতে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত ওয়াই কে পুরীর সাথে দেখা করলেন। পুরী জানালেন, ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় পাবার প্রক্রিয়াটি খুবই দীর্ঘ এবং জটিল।

তিনি ইন্দিরা গান্ধীর পছন্দের দুইজন পরামর্শদাতা ডি পি ধর এবং পি এন হাক্সর এর সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীকে। দুর্ভাগ্যবশত দুজনই তখন ভারতের বাইরে অবস্থান করছিলেন। হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী খুবই দ্বিধাগ্রস্ত বোধ করতে লাগলেন। কারণ, একমাত্র সরাসরি ইন্দিরা গান্ধীকে ফোন করা ছাড়া তার আর কোন উপায় ছিলো না।

ইন্দিরা গান্ধী তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী, আর তিনি বাংলাদেশের একজন সাধারণ রাষ্ট্রদূত। তাছাড়াও, ভারতে তখন জরুরি অবস্থা চলছিল। রাষ্ট্রদূত পুরীর কাছ থেকে নাম্বার নিয়ে তিনি একদিন ফোন করলেন ইন্দিরা গান্ধীকে, শেষ চেষ্টা হিসেবে। সৌভাগ্যই বলতে হবে, ফোন অপারেটর না, বরং ইন্দিরা গান্ধী নিজেই সেদিন ফোনটি রিসিভ করেছিলেন। হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী পুরো ঘটনা খুলে বলা মাত্র ইন্দিরা গান্ধী এক বিন্দু সময় নষ্ট না করে শেখ মুজিবের দুই কন্যা ও তার পরিবারকে যতো দ্রুত সম্ভব ভারতে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে বলেন।

শেখ হাসিনার ভারত যাত্রা ও নির্বাসিত জীবন:

২৪ আগস্ট সকাল ৯ টায় পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী দূতাবাসের কর্মকর্তা অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে তাদেরকে ফ্র্যাংকফুর্ট বিমানবন্দর নিয়ে যান। এরপর, একটি এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে করে তারা সকাল সাড়ে ৮টায় দিল্লীর পালাম বিমানবন্দর পৌঁছান।

ভারতে আসার পরে বোন আর স্বামী-সন্তানসহ শেখ হাসিনাকে লাজপাত নগরের ৫৬ রিং রোডে একটি ছোট বাসায় থাকতে দেয়া হয়েছিলো সেফ হোম হিসেবে।পরে ডিফেন্স কলোনির একটি বাড়িতে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁদের। আর এখান থেকে শুরু হয় শেখ হাসিনার নির্বাসিত জীবন।

শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হওয়ার প্রস্তাব:

বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই সময়কার আওয়ামী লীগ নেতা ও শেখ মুজিব রহমান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন বলেন, শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী করার বিষয়টি প্রথম প্রস্তাব করেছিলেন দলের অন্যতম সিনিয়র নেতা আব্দুর রাজ্জাক। 

ড. কামাল হোসেন আরও বলেন, ১৯৮০ সালে আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করা হয়। এরপর দলের প্রেসিডেন্ট করা হয় জোহরা তাজউদ্দীনকে এবং সাধারণ সম্পাদক হন আব্দুর রাজ্জাক। রাত দু'টোর সময় এই সিদ্ধান্ত হয়, আর ঠিক হয় পরদিন এ ব্যাপারে ঘোষণা দেয়া হবে।

কিন্তু পরদিন সকালে ঘটলো ভিন্ন এক ঘটনা, যা মোড় পাল্টে দিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের।

ড. কামাল হোসেন বলেন, "সকাল সকাল আমার কাছে আসেন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর স্বামী। তিনি এসে বললেন, খুব ভালো কাজ হয়েছে কাল রাতে, পার্টি বাঁচিয়ে দিয়েছেন। দেখুন আর একটা কাজ করা যায় কিনা - আপনি তো বলেছিলেন শেখ হাসিনাকে সসম্মানে আনবেন। ওকে তো নিয়ে আসার একটা সুযোগ হয়েছে। ওকে চেয়ারম্যান করে দিন না! ওর তো ক্ষমতা বঙ্গবন্ধুর ঐক্যের প্রতীক হিসেবে, ওকে যদি চেয়ারম্যান করে এটা বলা যাবে।"

এর পরের ঘটনা সম্পর্কে কামাল হোসেন বলেন, "আমি বেগম তাজউদ্দীনকে বললাম, তার যে উদারতা ... বলার সঙ্গে সঙ্গে তিনি বললেন 'অবশ্যই অবশ্যই ...আমি (বেগম তাজউদ্দীন) প্রস্তাব দেবো ওকে চেয়ারম্যান করার জন্য'। আমি (কামাল হোসেন) তখন বললাম 'আপনি বললে আমি সমর্থন দেবো'। এবং এটাই হল ... বেগম তাজউদ্দীন বললেন, আমি সমর্থন করলাম ...ওকে নিয়ে আসো। কেননা হাসিনা কোনদিন এটা দাবি করবে অথবা চিন্তাও করবে, সেটা চিন্তার বাইরে ছিল।"

ড. কামাল হোসেন বলেন, তারপর কাউন্সিল করে, সবাইকে এক জায়গায় এনে উনাকে (শেখ হাসিনাকে) নিয়ে আসা হল একদম স্বেচ্ছায়। বঙ্গবন্ধুর কন্যা হিসেবে এই ঐক্যটা রক্ষা করবে সে এবং আমরা তাকে শ্রদ্ধা-সমর্থন সব-ই করবো।"

স্বামী ওয়াজেদের ‘না’: 

এম এ ওয়াজেদ মিয়ার লিখিত বই 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ঘিরে কিছু ঘটনা ও বাংলাদেশ' এ উদ্ধৃতি দিয়ে বিবিসির এক খবরে বলা হয়, শেখ হাসিনা এবং ওয়াজেদ মিয়া যখন ভারতে অবস্থান করছিলেন, তখন ১৯৭৯ ও ১৯৮০ - এই দু'বছরে কয়েকজন সিনিয়র আওয়ামী লীগ নেতা বিভিন্ন সময় দিল্লি যান তাদের খোঁজ-খবর নিতেন।

এ প্রসঙ্গে ওয়াজেদ মিয়া তার বইতে লিখেছেন, "আওয়ামী লীগের উপরোল্লিখিত নেতৃবৃন্দের দিল্লীতে আমাদের কাছে আসার অন্যতম কারণ ছিল ঢাকায় ১৯৮১ সালের ১৩- ১৫ই ফেব্রুয়ারি তারিখে অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনের ব্যাপারে হাসিনার সঙ্গে মতবিনিময় করা। এদের সবাই এবং হাসিনার চাচী (বেগম নাসের), ফুফু আম্মারা এবং ফুফাতো ভাইয়েরা চাচ্ছিলেন যেন হাসিনা আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হয়। আমি এ প্রস্তাবে কখনোই সম্মত ছিলাম না।"

তিনি আরও লিখেছেন, "আমি তাদের সকলকে বলেছিলাম যে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের অকল্পনীয় মর্মান্তিক ঘটনার পর বঙ্গবন্ধুর আত্মীয়-স্বজনদের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করা উচিত হবে না। অন্ততঃ বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত।"

শেখ হাসিনা আওয়ামীলীগের সভানেত্রী:

শেখ হাসিনাকে তার অনুপস্থিতিতেই তাঁকে ঘোষণা করা হয় দলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে। ড. মিয়ার বইতে ওই বিবরণ আসে এভাবে: "১৬ই ফেব্রুয়ারি (১৯৮১) তারিখের সকালে লন্ডন থেকে ফোনে সংবাদ পাওয়া যায় যে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১৩-১৫ই ফেব্রুয়ারি তারিখে অনুষ্ঠিত দ্বিবার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে হাসিনাকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করা হয়েছে। এর কিছুক্ষণ পর শেখ সেলিমও হাসিনাকে ফোনে একই সংবাদ দেন। এরপর ঢাকা ও লন্ডন থেকে আরও অনেকে টেলিফোনে হাসিনাকে অভিনন্দন জানান।"

তিনি আরও লেখেন, পরের দিন দিল্লিস্থ অনেক সাংবাদিক শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার নিয়ে পত্র-পত্রিকায় বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর মন্তব্য ও মতামত প্রকাশ করেন।

এর এক সপ্তাহ পরে আওয়ামী লীগের ওই সময়কার শীর্ষ নেতারা যান দিল্লিতে।

"২৪শে ফেব্রুয়ারি (১৯৮১) তারিখে ঢাকা থেকে আওয়ামী লীগের আব্দুল মালেক উকিল, ড. কামাল হোসেন, অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান, আব্দুল মান্নান, আব্দুস সামাদ, এম কোরবান আলী, বেগম জোহরা তাজউদ্দীন, স্বামী গোলাম আকবার চৌধুরীসহ বেগম সাজেদা চৌধুরী, আমির হোসেন আমু, বেগম আইভি রহমান, আব্দুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ দিল্লী পৌঁছান"। তারা শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ২৮শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কয়েকটি বৈঠকে মিলিত হন বলেও জানান ওয়াজেদ মিয়া তাঁর লেখায়।

এরপর ড. কামাল হোসেন ও সাজেদা চৌধুরী ছাড়া সবাই ঢাকায় ফিরে যান।

"ড. কামাল হোসেন এবং বেগম সাজেদা চৌধুরীর ওপর দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল আমাদের পারিবারিক ও অন্যান্য বিষয়ে বিস্তারিত আলাপ করে হাসিনার ঢাকা ফেরার তারিখ চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করার জন্যে", লেখেন ওয়াজেদ মিয়া।

হাসু আসবে বলে,পথ চেয়ে বসে ছিল ‘পূর্ণ স্বাধীনতা’:

৭৫’ এর হত্যাকান্ডের পর কারাগারে হত্যা করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহকর্মী জাতীয় চার নেতাকে, অধ্যাদেশ জারি করে রদ করা হয়েছে,  মুক্তিযোদ্ধা সেনা অফিসারদের  হত্যা করা হয়েছে, আওয়ামী লীগসহ প্রগতিশীল নেতাকর্মীদের কারাবন্দি করে বিনা বিচারে নির্যাতন করা হয়েছে, দালাল আইন ও ধর্মীয় রাজনীতির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে ’৭১ এর ঘাতক  দালালদের রাজনীতি ও সমাজে পুনর্বাসনের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে।

সমাজ, রাজনীতি ও সংস্কৃতির প্রতিটি স্তরে এক প্রবল হতাশা বিরাজ করছিলো এই সামরিক ও সাম্প্রদায়িক দানবকে রুখতে না পারার ব্যর্থতায়। বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চারনেতা হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের বিপুল সংখ্যক নিবেদিত প্রাণ কর্মী শোকে, ক্ষোভে উত্তাল থাকলেও নেতৃত্বহীনতায় তারা বিমুঢ় ছিলেন। একই অবস্থা ছিলো অন্য সব প্রগতিশীল রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক শক্তিগুলোর। সামরিক শাসনের প্রশ্রয়ে সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান ও আক্রমণে প্রগাঢ় অন্ধকার গ্রাস করছিল বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও সমাজকে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে যে স্বাধীনতা উপহার দেওয়া হয়েছিল ৭ কোটি স্বাধীনতাকামী বাঙালীকে, তাঁর হত্যাকান্ডের পর এমন অরাজকতাপূর্ণ অবস্থায় তার অনেকটাই অপূর্ণ থেকে যায়।

আর এ অপূর্ণ স্বাধীনতাকে পূর্ণতা দিতে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল স্বাধীনতার মুক্তিকামী দল ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’ এর দেশের শাসনভার গ্রহণ। আর আওয়ামী লীগের দরকার ছিল হাসু তথা শেখ হাসিনার ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বের।

শেখ হাসিনার রাজকীয় স্ব-দেশ প্রত্যাবর্তন:

১৯৮১ সালে ফেব্রুয়ারির ১৪, ১৫ ও ১৬ তারিখে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী করা হলে ঐ বছরেরই ১৭ মে তারিখে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তিনি বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। এদিন বিকেল সাড়ে ৪টায় ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের বোয়িং বিমানে তিনি ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে কলকাতা হয়ে তৎকালীন ঢাকা কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। 

ওই দিনটি ছিল রবিবার। দৈনিক ইত্তেফাকের রিপোর্টে লেখা হয়, শেখ হাসিনাকে লইয়া মিছিল শুরু হওয়ার পরপরই চারদিক অন্ধকার করিয়া ঝড় ও মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। .বাসের ছাদে ও খোলা ট্রাকের লোকজন প্রায় দুই ঘণ্টা-কাল ধরিয়ে বৃষ্টিতে ভিজিয়া দীর্ঘপথ অতিক্রম করে। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে তাকে একনজর দেখার জন্য কুর্মিটোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শেরেবাংলা নগর পর্যন্ত এলাকাজুড়ে লাখো জনতার ঢল নামে। 

এম এ ওয়াজেদ মিয়া তার 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ঘিরে কিছু ঘটনা ও বাংলাদেশ' গ্রন্থে লিখেছেন, ঐদিন তাকে সম্বর্ধনা জানানোর জন্য ১০-১২ লাখ লোকের সমাগম হয়েছে বলে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা সূত্রে বলা হয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মতে, ওই দিন ঢাকায় নূন্যতম ১৫ লাখ লোকের সমাগম হয়েছিল।

এই সময় উন্মত্ত জনতা ঝড়-বৃষ্টির আকাশ কাঁপিয়ে শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রাকের চার পাশে স্লোগান ওঠে- 
পিতৃ হত্যার বদলা নিতে/লক্ষ ভাই বেঁচে আছে
শেখ হাসিনার ভয় নাই/রাজপথ ছাড়ি নাই।

হাসু’র হাত ধরে ‘অপূর্ণ স্বাধীনতা’র ‘পূর্ণতা’: 

১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগ সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে দেশে ফেরার পরপরই আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্রায়াত্ত এবং সমাজতান্ত্রিক চিন্তার আদর্শ থেকে সরিয়ে এনে  জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশকে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো। 

১৯৯১ এর নির্বাচনে পরাজয়ের পরেও সংসদীয় গণতন্ত্রের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে একটি নতুন মাইলফলক তৈরি করা।

২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ শুরু করা।

দলীয় সরকারের অধীনে কারচুপির নির্বাচন বন্ধে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা উপস্থাপন করে এবং তীব্র গণ আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ওই দাবি বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ বিজয়ী  জাসদের আ স ম আব্দুর রব, জাতীয় পার্টির আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করে ঐক্যমতের রাজনীতির এক নতুন দিগন্ত স্থাপন করা।

২০০১ সালে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে নির্যাতিত মানুষের নেতা হিসেবে আবির্ভূত হওয়া।

গ্রেনেড হামলার পর মানসিক দৃঢ়তা রেখে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অগণতান্ত্রিক শক্তির হস্তক্ষেপ চিরতরে বন্ধে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করা।

দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা এবং ‘রূপকল্প-২০৪১’ প্রণয়ণ।

জাতীয় পার্টিকে মহাজোটের মোড়কে রেখে আওয়ামী বিরোধী শক্তিকে খণ্ডিত করে যোগ্য নেতৃত্বে দেশকে সুফল এনে দেওয়াসহ বিভিন্ন গুরুত্ব পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশের রাজনীতিতে অমরত্বের মর্যাদা পেয়েছেন শেখ হাসিনা ।

আর ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ার নিভৃত পল্লীতে জন্ম নেওয়া এবং দাদা শেখ লুৎফর রহমান ও দাদি সাহেরা খাতুনের কোলে-পিঠে মানুষ হয়ে ওঠা ‘হাসু’র হাত ধরেই  বাংলাদেশ আস্বাদন করে এক পূর্ণ স্বাধীনতার সোরাব। 

সূত্র: বিবিসি/ বাংলা-ইনসাইডার/ সমকাল/ সারা বাংলা/ বাংলা নিউজ/ উইকিপিডিয়া।


জিএম ইমরান/ নিজস্ব প্রতিবেদক/আইনিউজ।

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়