নিজস্ব প্রতিবেদক
যে ঘটনার অনুসন্ধানে হতবাক সিআইডিও
সংগৃহীত ছবি
পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)। সারাদেশের বিভিন্ন ধরনের অপরাধ বিষয়ক ঘটনার তদন্ত করে প্রতিষ্ঠানটি। এতে করে নানা ধরনের ঘটনা ও বিভৎসতার সম্মুখীন হতে হয় সিআইডি সদস্যদের। এ সমস্ত ঘটনার কারণে সাধারণ মানুষের তুলনায় তারা মানসিকভাবে শক্ত প্রকৃতির হয়ে থাকেন। তবে, এবারের ঘটনা অনুসন্ধান করতে গিয়ে হতবাক খোদ সিআইডির সদস্যরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে মুন্না ভগত নামের সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গের ডোম সহকারীকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। যে গত এক বছরে ৫/৬ মৃত নারীকে ধর্ষণ করেছে।
সিআইডি জানায়, মুন্না ভগতের হিসাবে মরদেহ দুই প্রকারের হয়ে থাকে। একটি হলো ভালো মরদেহ। আরেকটি খারাপ মরদেহ। খারাপ মরদেহ হলো- যেসব মরদেহ অর্ধগলিত বা বেশ কিছুদিন হয়েছে মারা গিয়েছে এমন। আর ভালো মরদেহ হলো- ১২ থেকে ২০ বছর বয়সের তরুণীদের মরদেহ। মূলত এসব মরদেহগুলোকেই ধর্ষণ করতো সে।
সিআইডি বলছে, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গের ডোম সহকারী হিসেবে প্রায় ৪ বছর ধরে কাজ করছে মুন্না। শুরু থেকে মর্গেই থাকে সে। ময়নাতদন্তের আগে লাশ রাতে পাহারা দেওয়ার সময় এই কাজে লিপ্ত হতো সে। সিআইডি কর্মকর্তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মুন্না তার এসব অপকর্মের কথা স্বীকার করেছে।
ছয় নারীর এইচভিএসে (হাই ভ্যাজাইনাল সোয়াব) মুন্নার ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। লাশগুলো আত্মহত্যাজনিত কারণে মৃত ছিল।
সিআইডি সূত্র জানায়, ২০১২ সালে বাংলাদেশ পুলিশের প্রথম ডিএনএ ল্যাব স্থাপিত হয়। ল্যাব স্থাপনের পর থেকে ধর্ষণ ও হত্যাসহ আদালতের নির্দেশে প্রেরিত সব আলামতের ডিএনএ পরীক্ষা ও প্রোফাইল তৈরি করে সিআইডি। গত বছরের মার্চ থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ কয়েকটি নমুনা পাঠিয়েছিল সিআইডিকে। সেখানে মৃত নারীর এইচভিএসে পুরুষ বীর্যের উপস্থিতি পাওয়া যাওয়ায় পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করার চেষ্টা করে তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিআইডির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘কোডিস (CODIS) সফটওয়ার আমরা সার্চ দিয়ে দেখি, মোহাম্মদপুর ও কাফরুল থানার কয়েকটি ঘটনায় প্রাপ্ত ডিএনএ’র প্রোফাইলের সঙ্গে একই ব্যক্তির ডিএনএ বারবার ম্যাচ করছে। যেটা অনেকটাই অস্বাভাবিক ছিল। ধারণা করা হয়, একজন ব্যক্তি কর্তৃক ধর্ষণ পরবর্তী হত্যা অথবা ধর্ষণজনিত কারণে আত্মহত্যা হয়েছে। কিন্ত মরদেহগুলোতে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না।
সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, আমরা তখন মনে করি, কোনো না কোনোভাবে ভিকটিমদের মৃতদেহের ওপরে কোনো ব্যক্তির বিকৃত যৌন লালসা চরিতার্থ হয়েছে। প্রতিটি মৃতদেহ মর্গে আনার পর তার মৃত্যুর কারণ জানতে ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ বিশ্লেষণ করা হয়। সব মরদেহই ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রেখে দেওয়া হয়।
সেখানে বেশ কয়েকজন ডোম নিয়মিত পাহারা দিতো। কিন্তু এই মরদেহগুলোর ক্ষেত্রে একজন ডোম সহকারী নিয়মিত ডিউটিতে থাকতো। প্রাথমিকভাবে তাকে সন্দেহ হয় আমাদের। পরবর্তীতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। অনুসন্ধান করতে বাইরে নিয়ে গিয়ে কথা বলার নামে, চা খাওয়ার ছলে তার ডিএনএ সংগ্রহ করি আমরা। সেটা সিআইডি ল্যাবে নিয়ে এসে বিশ্লেষণ করলে ওই ছয় মরদেহের ডিএনএ’র সঙ্গে ম্যাচ করে। তখন শতভাগ নিশ্চিত হয়ে তাকে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।
শুক্রবার সিআইডি সদর দপ্তরে সিআইডির এক কর্মকর্তা জানান, মুন্নার ডিএনএ প্রোফাইল মিলে যাওয়ায় মৃতদেহের ওপর সে যে বিকৃত যৌনাচার করেছে সেটা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ হয়েছে। এতে সে ঘটনার দায় স্বীকার না করলেও সেই যে অপরাধী তা প্রমাণিত। এই ধরনের অপরাধের শাস্তি সর্বনিম্ন ১০ বছর সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন। আসামিকে আদালতে পাঠিয়ে আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে। রিমান্ডে এনে সে কতোদিন ধরে এ কাজ করতো, কেউ এর সঙ্গে জড়িত কিনা তা বিস্তারিত জানা যাবে।
সিআইডির এই কর্মকর্তা আরো বলেন, আমরা অনেক ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে থাকি। তবে মৃতদেহের সঙ্গে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনায় আমরা সত্যিই হতবাক।
- বেইলি রোডে আগুন : ৩ জন আটক
- এই নৌকা নূহ নবীর নৌকা: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী
- 'জাতীয় মুক্তি মঞ্চ' গঠনের ঘোষণা
- কাল থেকে যেসব শাখায় পাওয়া যাবে নতুন টাকার নোট
- এক বছরেই শক্তি, ক্ষিপ্রতা জৌলুস হারিয়ে 'হীরা' এখন বৃদ্ধ মৃত্যুপথযাত্রী
- ওয়াহিদ সরদার: গাছ বাঁচাতে লড়ে যাওয়া এক সৈনিক
- ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের ইতিকথা (প্রথম পর্ব)
- মায়েরখাবারের জন্য ভিক্ষা করছে শিশু
- এবার ভাইরাস বিরোধী মাস্ক বানিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিলো বাংলাদেশ
- ২৫ কেজি স্বর্ণ বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক





















