ঢাকা, রোববার ৩০ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ১৫ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ১৭:৪২, ২২ নভেম্বর ২০২০
আপডেট: ১৭:৪৯, ২২ নভেম্বর ২০২০

কতোটা সাইবার ঝুঁকিতে দেশের ব্যাংক প্রতিষ্ঠান?

ছবি- অনলাইন

ছবি- অনলাইন

বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোতে আবারও সাইবার হামলা হতে পারে বলে সতর্কতা জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এ নিয়ে দেশের ব্যাংকগুলোকে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলো।

চিঠিতে বলা হয়, ‘উত্তর কোরিয়াভিত্তিক হ্যাকার গ্রুপ ‘বিগল বয়েজ’ ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির সঙ্গে জড়িত ছিল। তারা আবার বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলন ও সুইফট নেটওয়ার্কে হ্যাক করতে পারে।‘

সতর্ক বার্তা পাওয়ার পর দেশের ব্যাংক প্রতিষ্ঠানগুলো অনলাইনে লেনদেন ব্যবস্থা এবং এটিএম বুথে নজরদারি বাড়িয়েছে। কোনো কোনো ব্যাংক রাতে এটিএম বুথ বন্ধ রাখা শুরু করেছে।

এদিকে সার্ভার ত্রুটির কারণে বন্ধ আছে সরকারি ৪৮৪টি ওয়েবসাইট। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দপ্তর, অধিদপ্তরের এসব ওয়েবসাইটের সার্ভার সম্প্রসারণের কাজ শেষে আগামী দুই দিনের মধ্যে ওয়েবসাইটগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে জানা গেছে। সরকারের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্প সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

এমন অবস্থা স্মরণ করিয়ে দেয় বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগেও একবার ঘটে যাওয়া সাইবার হামলার ঘটনাকে। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে প্রচুর পরিমাণ অর্থ চুরি হয়েছিল। যা নিয়ে পরবর্তীতে গোটা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি যাওয়ার ওই অর্থের পরিমাণ ছিলো ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার।

সাইবার হামলার এ বিষয়টি নিয়ে সেসময় ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিজার্ভ চুরি যাওয়ার অনেক আগেই হ্যাকাররা ব্যাংকটির লেনদেন প্রক্রিয়ায় ম্যালওয়্যার স্থাপন করেছিল। ম্যালওয়্যার স্থাপনের বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক জানতে পারে রিজার্ভ চুরি যাওয়ার পর।

কতোটা ঝুঁকিতে দেশের ব্যাংক?

এফটির ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সাইবার হামলায় আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি বুঝতেই অনেক দেরি করে।

বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, বাংলাদেশের অর্ধেক ব্যাংক এখনও সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকায় একে বড় ধরণের বিপর্যয় হিসেবে দেখছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানা গেছে যে দেশের মোট ব্যাংকের ৫০ ভাগ সাইবার নিরাপত্তায় নেক্সট জেনারেশন ফায়ারওয়াল (এনজিএফডব্লিউ) সফটওয়্যার পুরোপুরি স্থাপন করতে পারেনি।

প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, ৩৫ শতাংশ ব্যাংক আংশিক এবং ১৫ শতাংশ ব্যাংক এই ফায়ারওয়াল স্থাপনের অনুমোদন পর্যায়ে রয়েছে। ফলে এই ৫০ শতাংশ ব্যাংকের সাইবার নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ জাকারিয়া স্বপন।

প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, ৩৫ শতাংশ ব্যাংক আংশিক এবং ১৫ শতাংশ ব্যাংক এই ফায়ারওয়াল স্থাপনের অনুমোদন পর্যায়ে রয়েছে।

ফলে এই ৫০ শতাংশ ব্যাংকের সাইবার নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ জাকারিয়া স্বপন।

রিজার্ভ চুরির ঘটনার তদন্তে দোষ দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকেকেই

ওই সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের টাকা চুরির পর একটি তদন্ত প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের অদক্ষতা ও অবহেলাকেই দায়ী করা হয় অর্থ চুরির জন্য। সেখানে আরও বলা হয়েছিলো, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রক্ষিত বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভ চুরির ক্ষেত্র প্রস্তুত করে রেখেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেই। নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল অরক্ষিত, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ছিলেন দায়িত্বহীন। আর চূড়ান্ত সর্বনাশ ঘটানো হয় সুইফট সার্ভারের সঙ্গে স্থানীয় নেটওয়ার্ক জুড়ে দিয়ে। এর ছয় মাসের মধ্যেই গোপন সংকেত বা পাসওয়ার্ড জেনে নিয়ে চুরি হয় ৮ কোটি ১০ লাখ ১ হাজার ৬২৩ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮১০ কোটি টাকা)।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে পদত্যাগ করেছিলেন গভর্নর আতিউর রহমান

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান গভর্নর আতিউর রহমান এই অর্থ চুরির ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার শিকার হন। এর প্রেক্ষিতে পদত্যাগও করেন আতিউর রহমান। ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ তিনি প্রধানমন্ত্রীর নিকট তার পদত্যাগ পত্র জমা দেন। পদত্যাগ পত্র জমা দেওয়ার পূর্বে তিনি জনসমক্ষে বলেন, তিনি দেশের স্বার্থে পদত্যাগ করার জন্য প্রস্তুত।

তবে বাংলাদেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন অর্থ চুরির ঘটনায় সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের হাত আছে আর তাদের আড়াল করতেই গভর্নর আতিউর রহমানকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি ব্যাংকিং সিস্টেমের সাইবার নিরাপত্তা যদি হুমকির মুখে থাকে তাহলে তার পরিণতি কতোটা ক্ষতিকর হতে পারে সেটা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা থেকেই আঁচ করা যায়।

আইনিউজ/এইচএ

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়