ঢাকা, রোববার ৩০ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ১৫ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯:৩৭, ২৪ নভেম্বর ২০২০

পেট্রল পাম্পে যুবকের গায়ে অকটেন ঢেলে আগুন দিয়ে হত্যাচেষ্টা

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

রাজধানীর শ্যামপুর এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফিলিং স্টেশনে রিয়াদ হোসেন (২০) নামে এক যুবকের গায়ে অকটেন ঢেলে আগুন লাগিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে তার সহকর্মীরা। তিনি ওই ফিলিং স্টেশনেরই কর্মচারী।

দগ্ধ অবস্থায় তাকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। 

আজ (মঙ্গলবার) ভোর পৌনে ৪টার দিকে শ্যামপুর জুরাইনের সালাউদ্দিন পেট্রল পাম্পে এ ঘটনাটি ঘটে।

শ্যামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মফিজুল ইসলাম জানান, এস আহমেদ নামে পেট্রল পাম্পে ৪ জন অপারেটর রাতে ডিউটি করছিলেন। তাদের মধ্যে মাহমুদুল হাসান ইমন (২২) নামে এক অপারেটর ঘুমিয়ে পড়েন। পরে রিয়াদ তাকে ডাকতে যান। ডাকাডাকি করা হলে সে উঠে না। না উঠলে সামান্য একটু অকটেন ইমনের গায়ে ছিটিয়ে দেন রিয়াদ।

ইমন ঘুম থেকে জেগে একটি বোতলে অকটেন ভরে রিয়াদের গায়ে ঢেলে দেন। পরে ইমন ম্যাচ দিয়ে আগুন ধরিয়ে রিয়াদের গায়ে ছুঁড়ে মারেন। এতে রিয়াদের শরীরে মুহূর্তেই আগুন ধরে যায়। পরে পাম্পের অন্য কর্মচারীরা তাকে ভোরেই উদ্ধার করে বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেন।

তিনি আরো জানান, এই ঘটনায় রিয়াদের বাবা একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ইমনসহ অপর দুই অপারেটর ফাহাদ আহমেদ পাভেল (২৮) ও শহিদুল ইসলাম রনিকে (১৮) গ্রেফতার করা হয়েছে।

জুরাইন কমিশনার রোডের ১৩২৭/১ নম্বর বাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন রিয়াদ। তার বাবা ফরিদ মিয়া গাড়িচালক। দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় তিনি। চলতি বছরই রিয়াদ সিদ্ধেশ্বরী কলেজে অনার্সে ভর্তি হন। 
 
তার বাবা ফরিদ মিয়া জানান, মাসিক ৫ হাজার টাকা বেতনে পার্টটাইম চাকরি হিসেবে চলতি মাসের ৪ তারিখে ওই পাম্পে যোগ দেয় রিয়াদ। 

তিনি বলেন, সকাল ৭টার দিকে পাম্পের লোকজন ফোন দিয়ে আমাদের হাসপাতালে আসতে বলেন। এখানে এসে রিয়াদকে দগ্ধ অবস্থায় দেখতে পাই। তার শরীরের ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। বর্তমানে সে আইসিইউতে রয়েছে।  

ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ ইন্সপেক্টর বাচ্চু মিয়া ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকের বরাত দিয়ে জানান, দগ্ধ ওই ছাত্রের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়