ঢাকা, মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ৯ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:৩৭, ৫ এপ্রিল ২০২১
আপডেট: ১০:০০, ৫ এপ্রিল ২০২১

সংঘর্ষ হলে গদি টিকে থাকবে না: সরকারকে হেফাজতের হুঁশিয়ারি

সম্প্রতি আলোচিত হেফাজত নেতা মামুনুল হক ইস্যুতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন রাজি সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হেফাজতের সাথে সংঘর্ষ হলে কারও গদি টিকে থাকবে না। 

এইসময় তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আজকের বক্তব্যের পর তিনি আর বেশিদিন ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না।

রোববার (৪ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে হেফাজতে ইসলামের ডাকা এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন রাজি। তিনি বলেন, হেফাজত রাজনীতি করে না, তবে হেফাজতের সাথে সংঘর্ষ হলে কারও গদি টিকে থাকবে না।

তিনি বলেন, গতকালে যে ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে সরকার দলীয় অঙ্গ সংগঠনের নেতারা তাতে আজ ঢাকায় কমপক্ষে পাঁচ লাখ লোকের সমাগম হতো। এর জন্য হেফাজতের পাঁচ ঘণ্টাও অপেক্ষা করতে হতো না। আমরা কোনভাবেই সংঘাতে জড়াতে চাই না। আমরা এখনও প্রশাসনের ওপর আস্থা রাখতে চাই। তাদের বিবেক ও মানবতাবোধ জাগ্রত করতে চাই।

রাজি অভিযোগ করেন, এভাবে দেশ চলে না। একজন প্রশাসনের লোক থাকবে আর সাথে ২০/২৫ জন সন্ত্রাসী থাকবে, আবার কেউ নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেবে এটা হতে পারে না। দেশের আইনের প্রতি যদি সরকারের আস্থা না থাকে তাহলে সাধারণ মানুষের কীভাবে আস্থা থাকবে?

তিনি বলেন. একজন সঙ্গী/সাথী নারীর ওপরে অপবাদ দেয়া আল্লাহ কোনদিন বরদাস্ত করবেন না। আপনাদের মাধ্যমে আমি সরকার প্রধানকে তওবা করার আহ্বান জানাই। আপনি ভুলে যাচ্ছেন, আপনি ভুল তথ্যর ওপরে নির্ভর করে আছেন। আমি আশা করবো আপনি আপনার বক্তব্যের ওপর থেকে ফিরে আসবেন।

উল্লেখ্য, শনিবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যার দিকে বর্তমান সময়ের আলোচিত ধর্মীয় সংগঠন হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হক নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় এক হোটেলে নারীসহ অবরুদ্ধ ছিলেন। খবর পেয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী তাকে আটক করে। পরে তাৎক্ষণিকভাবে র‍্যাব-১১, পুলিশ ও প্রশাসনের মানুষজন ঘটনাস্থলে হাজির হন।

সন্ধ্যার দিকে আটক হওয়ার পর মামুনুল ইসলাম ঐ রিসোর্টেই ছিলেন। মামুনুল হককে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের রয়েল রিসোর্ট থেকে নিয়ে গেছেন তার সমর্থকরা।

মামুনুল হক অবরুদ্ধ থাকার সংবাদ শুনে কয়েকশ মানুষ রিসোর্টটির সামনে এসে জড়ো হয়। এ সময় তারা স্লোগান দিয়ে ভাঙচুর শুরু করে। পরে সেখান থেকে তাকে পাশের একটি মসজিদে নিয়ে যায় তারা।

এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) তবিদুর রহমান বলেন, রিসোর্টে হামলা চালিয়ে মামুনুল হককে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে হেফাজতের কর্মীরা।

এছাড়াও এরপর এক ভিডিওতে নিজেদের মধ্যে একান্তে সময় কাটাতে সোনারগাঁয়ের ওই রিসোর্টে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন মামুনুল হকের ওই 'দ্বিতীয় স্ত্রী'।

এতে নিজেকে ফরিদপুরের আলফাডাঙার আমিনা তৈয়বা  বলে পরিচয় দেন ওই নারী। আমিনা তৈয়বা বলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখতে দেখতে আমরা এদিকে এসেছি। জোহরের পর একটু রেস্ট নেওয়ার জন্য এখানে এসেছিলাম। লাঞ্চ করে একটু রেস্ট নিচ্ছিলাম। 

আইনিউজ/এসডি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়