ঢাকা, মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ৯ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১:১৭, ৫ এপ্রিল ২০২১
আপডেট: ০৯:৫২, ৫ এপ্রিল ২০২১

কার সাথে আটক হয়েছিলেন মামুনুল? জেনে নিন সেই নারীর পরিচয়

কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী ও মামুনুল হক

কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী ও মামুনুল হক

ধর্মীয় সংগঠন হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হক রিসোর্টে এক নারীর সাথে আটক হওয়ায় তিনি ও তার সংগঠন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এই ইস্যুতে একইসাথে আলোচিত হচ্ছেন মামুনুলের সঙ্গী ওই নারীও। সেই সাথে তাকে ঘিরে সৃষ্টি হচ্ছে রহস্যও। 

তবে পাওয়া গেছে সেই নারীর পরিচয়। ওই নারীর নাম জান্নাত আরা ঝর্না (৩০)। ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের কামারগ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মো. ওলিয়ার রহমান ওরফে ওলি মিয়ার মেজো মেয়ে তিনি।

ওলিয়ার রহমান গোপালপুর ইউনিয়নের কামারগ্রাম ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি।

রোববার (৪ এপ্রিল) ঝর্নার বাড়িতে গিয়ে কথা বলেন গণমাধ্যমকর্মীরা। 

এখানে আরও একটা আলোচিত বিষয় হলো, মাওলানা মামুনুল হক ওই নারীকে দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করে নাম আমিনা তৈয়বা বললেও জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার নাম জান্নাত আরা ঝর্না। এ বিষয়টি খোদ ঝর্নার পরিবারের মানুষই নিশ্চিত করেছেন। 

একইসাথে ঝর্নার পরিচয় জানতে গিয়ে বেরিয়ে আসে আরও একটি তথ্য। আগে ঝর্নার আরেকটি বিয়ে হয়েছে; দুটি সন্তান আছে।

ঝর্নার আগের বিয়ের কথা, দুটি সন্তানের কথা এলাকার সবাই জানেন, তবে দ্বিতীয় বিয়ে হয়েছে তার আর সেটিও মামুনুল হকের সাথে এ বিষয়ে কেউ কিছু জানেন না বলছেন এলাকাবাসীরা। 

ওলিয়ার রহমান বলেন, ‘জান্নাত আরা ঝর্নার নয় বছর বয়সে বিয়ে হয়েছিল হাফেজ শহীদুল ইসলাম ওরফে শহীদুল্লাহ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে। তার বাড়ি বাগেরহাটের চিতলমারীর চর-কচুড়িয়া গ্রামে। শহীদুল্লাহ ও ঝর্না দম্পতির আব্দুর রহমান (১৭) ও তামীম (১২) নামে দুই পুত্রসন্তান রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পারিবারিক কলহের জেরে আড়াই বছর আগে শহীদুল্লাহ ও ঝর্নার ডিভোর্স হয়ে যায়। দুই বছর আগে পরিবার থেকে পাত্র দেখে মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরে নিজেই বিয়ে করেছে বলে জানায় ঝর্না। তবে কাকে বিয়ে করেছে তা আমাদের জানায়নি।’

শনিবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যার দিকে বর্তমান সময়ের আলোচিত ধর্মীয় সংগঠন হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হক নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় এক হোটেলে নারীসহ অবরুদ্ধ ছিলেন। খবর পেয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী তাকে আটক করে। পরে তাৎক্ষণিকভাবে র‍্যাব-১১, পুলিশ ও প্রশাসনের মানুষজন ঘটনাস্থলে হাজির হন।

পরে ওই নারীকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে পরিচয় দেন তিনি। এ বিষয়ে ওই নারীর পরিচয় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ওই নারীও নিজেকে মামুনুল হকের স্ত্রী বলেই পরিচয় দেন ওইসময়।

কিন্তু সবকিছু ওলট-পালট করে দেয় মামুনুল হকের ভাইরাল হওয়া একটি ফোনালাপ। তাতে তিনি ওই নারীকে ‘শহীদুল ইসলাম ভাইয়ের ওয়াইফ’ বলছেন।

উল্লেখ্য, সন্ধ্যার দিকে আটক হওয়ার পর মামুনুল ইসলাম ঐ রিসোর্টেই ছিলেন। মামুনুল হককে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের রয়েল রিসোর্ট থেকে নিয়ে গেছেন তার সমর্থকরা।

মামুনুল হক অবরুদ্ধ থাকার সংবাদ শুনে কয়েকশ মানুষ রিসোর্টটির সামনে এসে জড়ো হয়। এ সময় তারা স্লোগান দিয়ে ভাঙচুর শুরু করে। পরে সেখান থেকে তাকে পাশের একটি মসজিদে নিয়ে যায় তারা।

এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) তবিদুর রহমান বলেন, রিসোর্টে হামলা চালিয়ে মামুনুল হককে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে হেফাজতের কর্মীরা।

এছাড়াও এরপর এক ভিডিওতে নিজেদের মধ্যে একান্তে সময় কাটাতে সোনারগাঁয়ের ওই রিসোর্টে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন মামুনুল হকের ওই 'দ্বিতীয় স্ত্রী'।

এতে নিজেকে ফরিদপুরের আলফাডাঙার আমিনা তৈয়বা  বলে পরিচয় দেন ওই নারী। আমিনা তৈয়বা বলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখতে দেখতে আমরা এদিকে এসেছি। জোহরের পর একটু রেস্ট নেওয়ার জন্য এখানে এসেছিলাম। লাঞ্চ করে একটু রেস্ট নিচ্ছিলাম। 

আইনিউজ/এসডি

[আইনিউজের ফেসবুক পেইজে মামুনুল হককে আটকের ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন]

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়