ঢাকা, রোববার ০৯ আগস্ট ২০২৬,   শ্রাবণ ২৫ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬:৪৩, ৫ এপ্রিল ২০২১
আপডেট: ১৬:৪৪, ৫ এপ্রিল ২০২১

এবার ছেলের সাথে মামুনুলের কথিত স্ত্রীর ফোনালাপ ফাঁস

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হক রিসোর্টে এক নারীর সাথে আটক হওয়ায় তিনি ও তার সংগঠন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এই ইস্যুতে একইসাথে আলোচিত হচ্ছেন মামুনুলের সঙ্গী ওই নারীও।

তবে পাওয়া গেছে সেই নারীর পরিচয়। ওই নারীর নাম জান্নাত আরা ঝর্না (৩০)। ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের কামারগ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মো. ওলিয়ার রহমান ওরফে ওলি মিয়ার মেজো মেয়ে তিনি।

ঝর্নার আগের বিয়ের কথা, দুটি সন্তানের কথা এলাকার সবাই জানেন, তবে দ্বিতীয় বিয়ে হয়েছে তার আর সেটিও মামুনুল হকের সাথে এ বিষয়ে কেউ কিছু জানেন না বলছেন এলাকাবাসীরা। 

রোববার (৪ এপ্রিল) মামুনুল হকের দাবি করা দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্না ও ওই নারীর ছেলের কথোকোপথনের একটি অডিও ভাইরাল হয়ে যায়। অডিওটি সামনে নিয়ে এসেছে দেশের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একাত্তর টিভি।

ফোনালাপটি জান্নাত আরা ঝর্নার সঙ্গে তার ছেলে আব্দুর রহমানের। ছেলের বয়স ১৭। নয় বছর বয়সে ঝর্নার সঙ্গে হাফেজ শহীদুল ইসলামের বিয়ে হয়। পারিবারিক কলহের জেরে আড়াই বছর আগে তাদের ডিভোর্স হয়। শহীদুল্লাহ ও ঝর্না দম্পতির আব্দুর রহমান ও তামীম নামে দুই ছেলে আছে।

ফোনালাপের একপর্যায়ে তাদের তামীমের ব্যাপারে জানতে চাইলে আব্দুর রহমান জানায়, সে তার সঙ্গে দেখা করতে যাবে। এরপর ঝর্না বলেন, আমার সঙ্গে আপাতত দেখা করতে আইসো না। দেখা করতে আরো লেইট (দেরি) হবে।

তখন আব্দুর রহমান বলে, সেই বোঝাপড়া আমরা দু’ভাই করে আসবানে! কোন সময় দেখা করতে হয় কোন সময় কি করতে হয়! এরপরই ঝর্না বলে ওঠেন, এখন ঝামেলা দিও না। বহুত ঝামেলার মধ্যে আছি। আর ঝামেলা করিও না।

আব্দুর রহমান বলে, তাঁর জন্য দরদ দেখিও না। সে কিন্তু প্রচণ্ড পরিমাণে মাইর খাবে। খুলনা থেকে আসলে। সে কিন্তু জানে না আমরা দুই ভাই। এই কথা শুনার পর ঝর্না বলেন, শুন আজকে আমি মৃত্যুর হাত থেকে বের হলাম। সত্য গোপন থাকে না। আম্মু খারাপ করছে, আরেকজন খারাপ করছে বুঝলাম। কিন্তু তুমি তো ভালো করবা। 

এই সময় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। আব্দুর রহমান বলে, ‘আমার ভালো করার দরকার নেই। আমার সঙ্গে কথা বলো না।’ এরপর মা ছেলেকে বলেন, মেজাজ ঠাণ্ড করে পরে ফোন করার জন্য। কিন্তু ছেলে বলে ওঠে, মেজাজ ঠাণ্ড হবে তখন যখন ওনার সঙ্গে দেখা হবে। সেদিন যে কি হবে উনার! আমি মিডিয়ার সামনে বলবো তো, উনি কেমনে বন্ধুর স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করলো। কেমনে বিয়ে করলো। কিসের ইয়েতে! এগুলো মিডিয়ার সামনে বলবো।

শনিবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যার দিকে বর্তমান সময়ের আলোচিত ধর্মীয় সংগঠন হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হক নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় এক হোটেলে নারীসহ অবরুদ্ধ ছিলেন। খবর পেয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী তাকে আটক করে। পরে তাৎক্ষণিকভাবে র‍্যাব-১১, পুলিশ ও প্রশাসনের মানুষজন ঘটনাস্থলে হাজির হন।

পরে ওই নারীকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে পরিচয় দেন তিনি। এ বিষয়ে ওই নারীর পরিচয় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ওই নারীও নিজেকে মামুনুল হকের স্ত্রী বলেই পরিচয় দেন ওইসময়।

কিন্তু সবকিছু ওলট-পালট করে দেয় মামুনুল হকের ভাইরাল হওয়া একটি ফোনালাপ। তাতে তিনি ওই নারীকে ‘শহীদুল ইসলাম ভাইয়ের ওয়াইফ’ বলছেন।

উল্লেখ্য, সন্ধ্যার দিকে আটক হওয়ার পর মামুনুল ইসলাম ঐ রিসোর্টেই ছিলেন। মামুনুল হককে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের রয়েল রিসোর্ট থেকে নিয়ে গেছেন তার সমর্থকরা।

মামুনুল হক অবরুদ্ধ থাকার সংবাদ শুনে কয়েকশ মানুষ রিসোর্টটির সামনে এসে জড়ো হয়। এ সময় তারা স্লোগান দিয়ে ভাঙচুর শুরু করে। পরে সেখান থেকে তাকে পাশের একটি মসজিদে নিয়ে যায় তারা।

এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) তবিদুর রহমান বলেন, রিসোর্টে হামলা চালিয়ে মামুনুল হককে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে হেফাজতের কর্মীরা।

এছাড়াও এরপর এক ভিডিওতে নিজেদের মধ্যে একান্তে সময় কাটাতে সোনারগাঁয়ের ওই রিসোর্টে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন মামুনুল হকের ওই 'দ্বিতীয় স্ত্রী'।

এতে নিজেকে ফরিদপুরের আলফাডাঙার আমিনা তৈয়বা  বলে পরিচয় দেন ওই নারী। আমিনা তৈয়বা বলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখতে দেখতে আমরা এদিকে এসেছি। জোহরের পর একটু রেস্ট নেওয়ার জন্য এখানে এসেছিলাম। লাঞ্চ করে একটু রেস্ট নিচ্ছিলাম। 

আইনিউজ/এসডি

[আইনিউজের ফেসবুক পেইজে মামুনুল হককে আটকের ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন]

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়