ঢাকা, রোববার   ১১ এপ্রিল ২০২১,   চৈত্র ২৮ ১৪২৭

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯:৩৮, ৭ এপ্রিল ২০২১
আপডেট: ১৯:৩৮, ৭ এপ্রিল ২০২১

রিসোর্টে হামলা করায় মামুনুলসহ ৮৩ জনের বিরুদ্ধে ৩ মামলা

রয়্যাল রিসোর্টে হেফাজতকর্মীদের হামলা

রয়্যাল রিসোর্টে হেফাজতকর্মীদের হামলা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানার রয়্যাল রিসোর্টে ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকসহ ৮৩ জনের নামে দুটি মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় আরও ৫০০ থেকে ৬০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

এছাড়া, লাইভ প্রচারের অভিযোগে মারধরের শিকার এক সাংবাদিক বাদী হয়ে পৃথক আরেকটি মামলা করেছেন।

বুধবার (৭ এপ্রিল) বিকালে হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকসহ অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান।

তিনি বলেন, গতকাল রাতে এসব মামলা দায়ের করা হয়েছে। মোট তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ বাদী হয়ে দুটি করেছে। আর একটি একজন সাংবাদিক বাদী হয়ে করেছেন। ৬/১০৩ নম্বর একটি মামলার বাদী হয়েছেন সোনারগাঁও থানার পরিদর্শক (এসআই) আরিফ হাওলাদার।

গত ৩ এপ্রিল রাতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের রয়্যাল রিসোর্টে নারীসহ বেড়াতে গিয়ে স্থানীয় জনগণের হামলার মুখে পড়েন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মামুনুল হক। ওই দিন বিকাল তিনটায় রয়াল রিসোর্টের ৫ম তালার ৫০১ নম্বর কক্ষে তাকে অবরুদ্ধ ও লাঞ্ছিত করা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

মামুনুল হকের দাবি, সঙ্গে থাকা নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। পরে খবর পেয়ে বিপুল সংখ্যক হেফাজত সমর্থক রিসোর্ট থেকে মামুনুল হককে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এসময় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

মামুনুল হক গত শনিবার (৩ এপ্রিল) এক নারীকে নিয়ে সোনারগাঁয়ের রয়্যাল রিসোর্টে যাওয়ার পর স্থানীয় লোকজন তাকে ঘেরাও করে। মামুনুল ওই নারীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করলেও তার নাম, শ্বশুরবাড়ি, শ্বশুরের নাম সম্পর্কে যে তথ্য দিয়েছেন, তার সঙ্গে সেই নারীর দেয়া তথ্যের কোনো মিল নেই।

এর আগেও ঝর্নার সাথে তার ছেলের একটি ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। 

সবকিছু ওলট-পালট করে দেয় মামুনুল হকের ভাইরাল হওয়া একটি ফোনালাপ। তাতে তিনি ওই নারীকে ‘শহীদুল ইসলাম ভাইয়ের ওয়াইফ’ বলছেন।

উল্লেখ্য, সন্ধ্যার দিকে আটক হওয়ার পর মামুনুল হক ঐ রিসোর্টেই ছিলেন। মামুনুল হককে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের রয়েল রিসোর্ট থেকে নিয়ে গেছেন তার সমর্থকরা।

মামুনুল হক অবরুদ্ধ থাকার সংবাদ শুনে কয়েকশ মানুষ রিসোর্টটির সামনে এসে জড়ো হয়। এ সময় তারা স্লোগান দিয়ে ভাঙচুর শুরু করে। পরে সেখান থেকে তাকে পাশের একটি মসজিদে নিয়ে যায় তারা।

এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) তবিদুর রহমান বলেন, রিসোর্টে হামলা চালিয়ে মামুনুল হককে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে হেফাজতের কর্মীরা।

এছাড়াও এরপর এক ভিডিওতে নিজেদের মধ্যে একান্তে সময় কাটাতে সোনারগাঁয়ের ওই রিসোর্টে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন মামুনুল হকের ওই 'দ্বিতীয় স্ত্রী'।

এতে নিজেকে ফরিদপুরের আলফাডাঙার আমিনা তৈয়বা  বলে পরিচয় দেন ওই নারী। আমিনা তৈয়বা বলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখতে দেখতে আমরা এদিকে এসেছি। জোহরের পর একটু রেস্ট নেওয়ার জন্য এখানে এসেছিলাম। লাঞ্চ করে একটু রেস্ট নিচ্ছিলাম। 

আইনিউজ/এসডি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়