শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারে ৭ উপজেলায় একমাত্র নারী চেয়ারম্যান প্রার্থী গীতা রানী

কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী গীতা রানী কানু। ছবি- আই নিউজ
মৌলভীবাজার জেলার সাত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে একমাত্র নারী প্রার্থী গীতা রানী কানু (৪৩)। যিনি কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন। উপজেলার চা-বাগান কুরমাতে তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা। দারিদ্র্যসহ নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন পিছিয়ে থাকা চা জনগোষ্ঠীর এই নারী।
গীতা রানী কানু থাকেন কমলগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের ইসলামপুর ইউনিয়নের ভারত সীমান্তবর্তী চা-বাগান কুরমাতে। বৃহস্পতিবার (২৩ মে) সকালে তাঁকে দেখা গেল কাকা সীতারাম কানু, কাকি শংকরী রায় কানুসহ আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইতে। আলাপে তিনি জানালেন, জনগণ চাঁদা তুলে আমাকে নির্বাচন করার জন্য জামানতের টাকা দিয়েছেন।
গীতা রানী কানু বলেন, কমলগঞ্জে ২২টি চা-বাগান। এই চা-বাগানসহ চা জনগোষ্ঠীর নানা অধিকারের কথা তিনি অনেক দিন ধরে বলছেন। চা জনগোষ্ঠীর দাবিদাওয়া আদায়, তাদের দুঃখ-কষ্টের কথা বলতে নানা পর্যায়ের সংগঠনে যুক্ত হয়েছেন। জনপ্রতিনিধি হওয়ার এই ইচ্ছার পেছনেও আছে হতদরিদ্র, পিছিয়ে থাকা মানুষগুলোর জীবনের উন্নয়ন চাওয়া।
উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার মতো সাহস অর্জন করতে অনেকটা বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে হয়েছে গীতা রানী কানুকে। বাড়ির কাছে ইসলামপুর পিএনপি হাইস্কুলে তিনি পড়ালেখা করেছেন। বাবার মুদি দোকান ছিল, পাশাপাশি ছিলেন চা-বাগানের শ্রমিক। মা ছিলেন গৃহিণী। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। স্কুল পর্যায় শেষে তিনি মুদি দোকানের ব্যবসায় যুক্ত হন। বলেন, দোকানে অভাবী মানুষ আসেন। তাঁদের সাধ্যমতো সাহায্য করি। মানুষকে সাহায্য করতে আমি পছন্দ করি। ত্যাগেই আমার আনন্দ।
মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছা থেকে গীতা রানী কানু ২০১৪ সালে কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হন। জয়ী হতে পারেননি। পরিবারের লোকজন তাঁর পাশে থাকেননি। একপর্যায়ে কিছুটা অভিমান নিয়ে তিনি ২০১৬ সালে ভারতে চলে যান। তবে দুই মাস পর তিনি সেখানে থেকে ফিরে আসেন। মানুষের জন্য কিছু করার তাগিদ বোধ করেন। এখন তিনি বাংলাদেশ চা-শ্রমিক নারী ফোরামের আহ্বায়ক, চা জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন পরিষদের সদস্যসচিব এবং চা-শ্রমিক মহা সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক।
এই প্রার্থীর কাকা সীতারাম কানু বলেন, মানুষ বেশ সাড়া দিচ্ছে। তাঁর কাকী শংকরী রায় কানু বলেন, প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াইছে, এতেই ভালো লাগছে। এখন সবকিছু মানুষের হাতে।
আই নিউজ/এইচএ
- দুলাভাইয়ের ধর্ষণের শিকার শ্যালিকা
- মৌলভীবাজারের রাজনগরে
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিধবা রুবির বিউটি পার্লার - `প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের ধোকা দেওয়া হচ্ছে`
- রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে রাস উৎসব শুরু
- মেয়ের বাড়িতে ইফতার: সিলেটি প্রথার বিলুপ্তি চায় নতুন প্রজন্ম
- কমলগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
- দেশের চতুর্থ ধনী বিভাগ সিলেট
- অবশেষে ক্লাস করার অনুমতি পেল শ্রীমঙ্গলের শিশু শিক্ষার্থী নাঈম
- শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
মৌলভীবাজারে অনলাইন জুয়ায় রাতারাতি কোটিপতি সাগর - এসএসসির ফলাফলে বিভাগে ৩য় স্থানে মৌলভীবাজার