Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, শুক্রবার   ০৯ মে ২০২৫,   বৈশাখ ২৬ ১৪৩২

আই নিউজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬:২২, ১৬ জুন ২০২৪

মৌলভীবাজারে কোরবানির চাহিদা মেটাচ্ছে স্থানীয় গরু

মৌলভীবাজারের পশুর হাটগুলোতে এবছর দেশীয় গরুর চাহিদাই সবার বেশি। ছবি- আই নিউজ

মৌলভীবাজারের পশুর হাটগুলোতে এবছর দেশীয় গরুর চাহিদাই সবার বেশি। ছবি- আই নিউজ

ঈদুল আজহা রাত পোহালেই। সময় যতো ঘনিয়ে আসছে মৌলভীবাজার জেলার পশুর হাটগুলোতে বাড়ছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাক। শেষ বাজার থেকে গরু কিনতে অনেকেই আসছেন পরিবার নিয়ে। এবার ঈদে জেলার স্থানীয় খামারি ও কৃষকদের আনন্দও অন্যবারের চেয়ে বেশি। প্রায় সব বাজারেই বিদেশী জাতের গরু না থাকায় দেশী জাতের স্থানীয় গরুর প্রতি ঝোঁক বেশি ক্রেতাদের।

শনিবার (১৫ জুন) বিকেল থেকে সরেজমিনে জেলার দিঘীরপাড় বাজার, স্টেডিয়াম সংলগ্ন পশুর হাট, চাঁদনীঘাট পশুর হাট, শমশেরগঞ্জ পশুর হাট, কাগাবলা পশুর হাট,  টেংরা বাজার পশুর হাট, মুন্সিবাজার পশুর হাট্সহ বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা গেছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উচ্ছ্বসিত উপস্থিতি।


বিভিন্ন বাজার ঘুরে জানা যায়, এবছর ঈদে পশুর হাটগুলোতে নেই বিদেশী জাতের গরুর উপস্থিতি। ফলে, দেশীয় জাতের গরু নিয়ে বাজারে ওঠা বিক্রেতা ও গরু ব্যবসায়ীরা এবছর কিছুটা স্বস্তিতে বেচাবিক্রি করছেন। বাজারে আসা ক্রেতারাও আগ্রহ দেখাচ্ছেন স্থানীয় গরুর দিকে। বিদেশী জাতের বড় আকারের গরুর বদলে বেশিরভাগই কিনতে চাইছেন মাঝারি থেকে ছোট আকারের দেশীয় জাতের গরু।

মৌলভীবাজারের ঐতিহ্যবাহী দিঘীরপাড় পশুর হাটে বিক্রেতারা জানান, এই বাজারে ওঠা বেশিরভাগ গরু এবার এসেছে আশেপাশের গ্রাম থেকে। গ্রামের স্থানীয় কৃষকদের লালনপালন করা গরুই হাটে ওঠেছে বেশি। দামও পাওয়া যাচ্ছে আশানুরূপ। বাজারে অন্যান্য বারের মতো বিদেশি গরু না থাকায় ক্রেতারাও স্থানীয় গরু নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

বিক্রেতাদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, দিঘীরপাড় বাজারে গরু এসেছে বাহারমর্দন, একাগোপাল, রাখা, জগৎসী, আটঘর, আট গাঁও, শাহবন্দর, কাগাবলা, আথানগিরি, রতনপুর, আদোপাশা, নারায়ানপাশা, মির্জাপুরসহ নানা এলাকা থেকে। এরমধ্যে কিছু গরুর মালিকের সাথে আলাপ করেছেন আইনিউজ প্রতিবেদক।

রতনপুর গ্রাম থেকে নিজের দুইটি ষাড় গরু নিয়ে হাটে এসেছেন গিয়াস উদ্দিন আহমদ। তিনি তাঁর গরু দুইটির দাম হেঁকেছিলেন এক লাখ বিশ হাজার টাকা। যদিও, শেষে ৯০ হাজার টাকা দরে দুইটি গরুই বিক্রি করেছেন তিনি। বাজারে এসে গরুর এই দাম পেয়ে বেশ খুশি গিয়াস উদ্দিন।

রাখা এলাকা নিজের পালিত ৬টি গরু নিয়ে হাটে  এসেছেন সুজন খা। সুজন বলেন, এবছর বাজারে বিদেশী গরু তেমন একটা নেই। বাইরের জেলা থেকে আসা গরু ব্যবসায়ীদের দাপটও নেই। সব আমাদের লোকাম খামারি ও মানুষের লালনপালন করা গরু। তাই বেচাবিক্রি করতে ভালো লাগছে এবছর।

বাজারে বিদেশী জাতের গরু এবছর কম। তবে, মাঝেমধ্যে শাহীওয়াল, ফ্রিজিয়ান, জার্সিসহ নানা জাতের দুই একটি গরুর দেখা মেলে বাজার ঘুরতে ঘুরতে। তেমনি শাহীওয়াল জাতের একটি গরু নিয়ে এসেছেন আদোপাশা গ্রামের আব্দুল আলী। তিনি জানান, নিজের গরুকে তিনি বাড়িতেই ধান, খর ঘাস খাইয়ে বড় করেছেন। কোনো ধরনের ভেজাল দ্রব্য, ওষধ ব্যবহার করেননি। তিনি তাঁর গরুর দাম চেয়েছেন ১ লাখ ৮৮ হাজার। শাহীওয়াল গরুটির কাছেই রাখা প্রায় ১০ মন ওজনের একটি হলস্টিন ফ্রিজিয়ান গরু। এটির দাম চাওয়া হয়েছে সাড়ে ৫ লাখ টাকার বেশি। যদিও ক্রেতারা সাড়ে ৩ লাখের বেশি দিতে রাজি না এই গরুর জন্য।

তবে বাজার ঘুরে ক্রেতারা বলছেন, এবছর বাজারে বিদেশী গরুর বাড়বাড়ন্ত নেই। এটা স্বস্তিদায়ক। দেশি গরুর প্রতিই সকলে ঝুঁকছেন। বেশিরভাগ গরুই বিক্রি হচ্ছে ৭০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা দামে। এই দরের মধ্যের গরু বেশি বিক্রি হচ্ছে। দেড় লক্ষ টাকা বাজেটের মধ্যেই গরু কিনছেন বেশিরভাগ মানুষ। সে তুলনায় বড় গরুর প্রতি ক্রেতারা ঝুঁকছেন কম।

মৌলভীবাজারের স্টেডিয়াম সংলগ্ন কোরবানির পশুর হাটে গরু বিক্রেতা সুলতান মিয়া নাজিরাবাদ ইউনিয়নের সিকরাইল গ্রাম থেকে নিজের পালিত ৪টি গরু নিয়ে হাটে এসেছেন। সুলতান মিয়া বলেন, বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি ভালো। এরিমধ্যে আমার দুইটা গরু বিক্রিও করে ফেলেছি। আশা করি বাকি দুইটাও বিক্রি করে ফেলতে পারব।

সদর উপজেলার শাহবন্দর এলাকা থেকে রফিক মিয়া ৬টি গরু তোলেছেন এবারের হাটে। তিনি বলেন, বাজারে এসে শুরুর দিকে ক্রেতা না পেয়ে হতাশ ছিলাম। বাজার শুরুর দিকে একদমই ক্রেতা ছিল না। তবে, গত দুইদিন ধরে চিত্র বদলে গেছে। বাজারে এখন অসংখ্য ক্রেতারা আসছেন। আশা করি বাকি দুইদিনে গরুগুলো বিক্রি করতে পারব।

পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, সারিবদ্ধ ভাবে নির্ধারিত স্থানে নিজেদের পশু নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন নানা জায়গার ব্যবসায়ীরা। গরু রাখার জায়গা প্রায় পরিপূর্ণ হয়ে আছে অসংখ্য গরুর উপস্থিতিতে। হাটে সারিবদ্ধভাবে কোরবানির পশু রাখার ব্যবস্থা করে দিয়েছে পৌরসভা। প্রায় সব সারিতেই রয়েছে গরুর উপস্থিতি। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন ঈদের আগের দিন পশুর হাটের বেচাবিক্রি আরও বেশি হবে। তাই, শেষ সময়ে ভালো বিক্রির আশায় তারা।

আই নিউজ/এইচএ 

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়