Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,   মাঘ ২৮ ১৪৩২

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১:২৯, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নির্বাচনি প্রচারণায় বাধা ও হামলার অভিযোগ রিকশা প্রতীকের প্রার্থীর

নির্বাচনি প্রচারণায় বাধা ও হামলার অভিযোগ রিকশা প্রতীকের প্রার্থীর। ছবি: আই নিউজ

নির্বাচনি প্রচারণায় বাধা ও হামলার অভিযোগ রিকশা প্রতীকের প্রার্থীর। ছবি: আই নিউজ

মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত রিকশা প্রতীকের প্রার্থী শেখ নূরে আলম হামিদী তার নির্বাচনি প্রচারণায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে একাধিক বাধা, হামলা, হুমকি ও গালিগালাজের অভিযোগ তুলেছেন।

সোমবার সকালে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণার পর তিনি এসব অভিযোগ করেন।

শেখ নূরে আলম হামিদী অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনি প্রচারণাকালে তার কর্মীদের মারধর করে রক্তাক্ত করা হয়েছে। তিন দিন আগে শ্রীমঙ্গলের সিন্দুরখান রোডে তার গাড়িবহরে হামলার চেষ্টা করা হয়। এছাড়া কমলগঞ্জের ইসলামপুর ও শ্রীমঙ্গলের মির্জাপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় তার নির্বাচনি অফিস বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং প্রচারণায় বাধা সৃষ্টি করা হয়।

তিনি আরও বলেন, “রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) কমলগঞ্জের রামেশ্বরপুর এলাকায় আমার গাড়ি আটকে খারাপ ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং প্রচারণা বন্ধের হুমকি দেওয়া হয়। শ্রীমঙ্গলের কলেজ রোডে আমার সমর্থকদের হুমকি ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে। এমনকি বিভিন্ন মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যা কোনোভাবেই কল্যাণকর নয়।”

নির্বাচনে প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান রেখে তিনি বলেন, “নির্বাচনে আমার প্রতিপক্ষ সবাইকে আমি সম্মান করি। তাদের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগতভাবে ভালো সম্পর্ক রয়েছে। তবে কিছু সংখ্যক দলীয় নেতা-কর্মী এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছেন। এর ফল তারা নিজেরাই ভোগ করবেন।”

তিনি দাবি করেন, “যেখানেই আমাদের প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে, সেখানেই রিকশা প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত হচ্ছে। যারা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের নাম-ঠিকানা আমরা সংগ্রহ করেছি। প্রশাসনকে লিখিত ও মৌখিকভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং প্রশাসন বিষয়টি অবগত।”

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শেখ নূরে আলম হামিদী বলেন, “আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্য আছে—আমরা কাউকে আঘাত করতে চাই না। বড়রা আমাদের সবর করার পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ সবরে মেওয়া ফলে। তাই আমরা ধৈর্যের পথই বেছে নিয়েছি। এসব ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কিছু ভাই জড়িত।”

সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার ২২ দফা নির্বাচনি ইশতেহার তুলে ধরেন। ইশতেহারে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জকে ‘গ্রিন ও ক্লিন সিটি’তে রূপান্তরের অঙ্গীকার করেন তিনি।

ইশতেহারের উল্লেখযোগ্য দফাগুলোর মধ্যে রয়েছে— শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন, কৃষি ও মৎস্য খাতের আধুনিকীকরণ, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারী শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, চা শ্রমিক ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, কমলগঞ্জে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন, শ্রীমঙ্গলে চা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও নিলাম কেন্দ্র আধুনিকীকরণ, শমসেরনগর বিমানবন্দর পুনরায় চালু এবং প্রবাসীদের জন্য নিরাপদ অভিবাসন ও পুনর্বাসন সুবিধা।

তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য একটাই—শান্তি, সমৃদ্ধি ও মানুষের কল্যাণ। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে মৌলভীবাজার-৪ আসনকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকমুক্ত একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ জনপদে রূপান্তর করব। সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ এখানে সমান নিরাপত্তা ও উন্নত জীবনযাপন করবে।”

সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

ইএন/এসএইচএ

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়