ঢাকা, শনিবার   ১৬ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ১ ১৪২৮

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩:৫৪, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
আপডেট: ১৩:৫৮, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

রাতারগুল ও বিছনাকান্দি যাওয়ার আগে জেনে নিন

নৌকা নিয়ে হারিয়ে যেতে পারেন রাতারগুলের জলাবনে। ছবি- সংগৃহীত।

নৌকা নিয়ে হারিয়ে যেতে পারেন রাতারগুলের জলাবনে। ছবি- সংগৃহীত।

কর্মজীবনে একঘেয়েমি কাজে আছে ক্লান্তি। শরীরের ক্লান্তি দূর করতে কাজের ফাঁকে একটু সময় তো আপনাকে বের করে নিতেই হবে। আপনি জানেন কি শরীর ও মনকে চাঙা করতে ভ্রমণের জুড়ি নেই। আপনার পছন্দের কোনো জায়গা থেকে ঘুরে আসতে পারেবেন সহজেই। সেটা হতে পারে দেশে বা দেশের বাইরে। ঘোরাঘুরি আপনার দেহে ও মনে ভরে দেবে প্রশান্তিতে। 

তবে আপনার সেই ভ্রমণের জায়গাটি যদি হয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের স্বর্গ, তাহলে ভ্রমণের প্রশান্তি বেড়ে যায় কয়েকগুন। সিলেটের রাতারগুল ও বিছানাকান্দিও এমন দুইটি স্থান। এবার ভ্রমণপিপাসু পাঠকদের জন্য দেওয়া হবে এই দুই প্রাকৃতিক স্বর্গে কিভাবে যাবেন, কি দেখবেন, টাকা-পয়সা কেমন লাগবে সব বিস্তারিত।

রাতারগুল সম্পর্কে কি বলছে উইকিপিডিয়া?

রাতারগুল জলাবন বা বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা (রাতারগুল) বা রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট বাংলাদেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবন এবং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, যা সিলেটের গোয়াইনঘাটে অবস্থিত। বনের আয়তন ৩,৩২৫.৬১ একর, আর এর মধ্যে ৫০৪ একর বনকে ১৯৭৩ সালে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এছাড়াও ২০৪.২৫ হেক্টর বনভুমিকে ৩১ মে ২০১৫ তারিখে বাংলাদেশের বন অধিদপ্তর বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা ঘোষণা করে।

এটি পৃথিবীর মাত্র কয়েকটি জলাবনের মধ্যে অন্যতম একটি। এই বনকে বাংলাদেশ সরকারের বনবিভাগের অধীনে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

বিছনাকান্দি

বিছনাকান্দি (Bisnakandi) সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নে অবস্থিত। বিছনাকান্দি মূলত জাফলং ও ভোলাগঞ্জের মতই একটি পাথর কোয়ারী। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের খাসিয়া পাহাড়ের অনেকগুলো ধাপ দুই পাশ থেকে এসে বিছনাকান্দিতে মিলিত হয়েছে। সেই সাথে মেঘালয় পাহাড়ের খাঁজে থাকা সুউচ্চ ঝর্ণা বিছনাকান্দির প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা।

পর্যটকদের কাছে বিছানাকান্দির মূল আকর্ষন হচ্ছে পাথরের উপর দিয়ে বয়ে চলা স্বচ্ছ জলধারা আর পাহাড়ে পাহাড়ে শুভ্র মেঘের উড়াউড়ি। প্রথম দেখায় আপনার মনে হবে এ যেন এক পাথরের বিছানা, আর স্বচ্ছ পানিতে গা এলিয়ে দিতেই যে মানসিক প্রশান্তি পাবেন এই প্রশান্তি আপনাকে বিছানাকান্দি টেনে নিয়ে যাবে বারবার। এ যেন পাহাড়, নদী, ঝর্ণা আর পাথর মিলিয়ে প্রাকৃতিক মায়াজাল বিছিয়ে রেখেছে বিছানাকান্দি।

কখন যাবেন?

যে কোনও সময়েই যাওয়া যায় রাতারগুল কিংবা বিছনাকান্দিতে। তবে বর্ষাকালই সাজেস্ট করা হবে। তখন সবুজ প্রকৃতি হয়ে ওঠে আরও সবুজ, যেটা অবশ্যই উপভোগ করা উচিত।

ঢাকা থেকে সিলেট যাওয়া

বাসে ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে বাস ছেড়ে যায় গাবতলী এবং সায়েদাবাদ থেকে। বাসগুলো সকাল থেকে রাত পৌনে ১টা পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময় পরপর ছেড়ে যায়। ঢাকার ফকিরাপুল, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস স্টেশন থেকে সিলেটের বাসগুলো ছাড়ে।

ট্রেনে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে মঙ্গলবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে যায় আন্তঃনগর ট্রেন পারাবত এক্সপ্রেস। প্রতিদিন দুপুর ২টায় ছাড়ে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস এবং বুধবার ছাড়া প্রতিদিন রাত ৯টা ৫০ মিনিটে ছাড়ে উপবন এক্সপ্রেস। শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৪টায় ছাড়ে কালনী এক্সপ্রেস।

এছাড়াও ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশসহ বেশকিছু এয়ারের বিমান প্রতিদিন যায় সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দরে।

কোথায় থাকবেন

সিলেটে থাকার মতো অনেকগুলো হোটেল আছে। তবে ঈদের সময় সিট সংকট থাকতে পারে। তাই যাওয়ার ২-৩ দিন আগে বুকিং দিলে ভালো হয়। এছাড়াও সিলেট শহরের সব জায়গায় বেশকিছু হোটেল আছে।

কোথায় খাবেন

খাওয়ার জন্য সিলেটের জিন্দাবাজারে বেশ ভালো তিনটি খাওয়ার হোটেল আছে। এগুলোতে প্রায় ২৯ প্রকারের ভর্তা পাওয়া যায়। গাড়িতে সব সময় রুটি, কলা, কেক, বিস্কুট, পর্যাপ্ত পানি, স্যালাইন রাখবেন।

সিলেট এসে কিভাবে যাবেন বিছনাকান্দি ও রাতারগুল?

বিছনাকান্দি যেতে হলে আপনাকে যেতে হবে হাদারপাড়। সিলেট থেকে হাদারপাড় যেতে দেড় থেকে দুই ঘন্টার মত লাগবে। হাদারপাড় বাজারে এসে নৌকা রিসার্ভ করে বিছনাকান্দি ও পান্তুমাই ঝর্ণা যেতে হবে। হাদারপাড় বাজারের কাছেই নৌকা ঘাট আছে, সেখানে আপনাকে আবার দামাদামি করে নৌকা ঠিক করতে হবে। এক নৌকা দিয়েই বিছনাকান্দি দেখে তারপর পান্তুমাই ঘুরে আসতে পারবেন। আর চাইলে পান্তুমাই না গিয়ে শুধু বিছনাকান্দি ঘুরতে পারবেন। বিছনাকান্দি ও পান্তুমাই একসাথে ঘুরে দেখার জন্যে নৌকা ভাড়া লাগবে ১৫০০-২০০০ টাকা। আর শুধু বিছনাকান্দি হলে ১০০০-১৫০০ টাকায় পেয়ে যাবেন। তবে আবারও সেই একই কথা, দামাদামি করতে জানতে হবে আপনার। পিক সিজনে ভ্রমণকারীদের চাপ বেশি থাকলে অনেক বেশি টাকা চাইবে।

হাদারপার থেকে নৌকা নিয়ে প্রথমে বিছনাকান্দি ঘুরতে যান। বিছনাকান্দি যেতে ৩০-৪০ মিনিট সময় লাগবে। আর অবশ্যই মনে রাখবেন আপনার হাতে সময় স্বল্প। বিছনাকান্দিতে আপনি ৪০-৫০ মিনিটের বেশি সময় দিলে অন্য জায়গায় যাওয়ার সময়ে টান লেগে যাবে। বিছনাকান্দি ঘুরে দেখে এইবার নৌকা নিয়ে পান্তুমাই ঝর্ণা দেখতে চলে যান। যেতে সময় লাগবে প্রায় ১ ঘন্টা। পান্থুমাই ঝর্ণা ভারতে থাকার কারণে আপনাকে দূর থেকেই দেখতে হবে। তবে চাইলে সেখানে ছোট ডিঙ্গি নৌকা নিয়ে কিছুটা কাছে যেতে পারবেন। বর্ডার এলাকা তাই সাবধানে থাকবেন। পান্তুমাই ঝর্ণা দেখার জন্যে ৩০-৪০ মিনিটের বেশি সময় নিবেন না। ঝর্ণা দেখা শেষ করে ফিরে আসুন হাদারপাড় বাজারে।

হাদারপাড় বাজারে দুপুরের খাবার খেয়ে নিন। এইখানে খুব ভাল না হলেও মোটামুটি মানের কিছু স্থানীয় খাবার হোটেল আছে। ভাত, মাছ, মুরগি, সবজি দিয়ে খেয়ে নিতে পারবেন। খাওয়া শেষ করেই এইবার রওনা হয়ে যান রাতারগুলের জন্যে। মাথায় রাখুন রাতারগুল দেখার জন্যে দুপুর ২টার মধ্যেই রওনা হতে হবে হাদারপার থেকে। আপনার বিছনাকান্দি ঘুরে দেখার পর যদি দেখেন সময় মিলবেনা রাতারগুল যাবার তাহলে পান্থুমাই ঝর্ণা বাদ দিয়ে শুধু বিছনাকান্দি ঘুরেই চলে আসুন।

পাখির চোখে রাতারগুল।

হাদারপাড় থেকে রাতারগুল যেতে প্রায় ঘন্টাখানে সময় লাগবে। রাতারগুলে বেশ কয়েকটি পয়েন্ট আছে, সবচেয়ে ভালো হবে চৌরঙ্গী ঘাটে চলে আসলে। চৌরঙ্গী ঘাটে ২ ঘন্টা ঘুরার জন্যে নৌকা পাবেন ৮৫০ টাকা ভাড়ায়। রাতারগুল জলাবন ঘুরে দেখে এইবার আবার সিলেট ফিরে আসুন আপনার গাড়িতে করে। রাতারগুল থেকে যেন সন্ধ্যা হবার আগেই রওনা হয়ে যেতে পারেন সেইদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখবেন।

আইনিউজ/এসডি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়