ঢাকা, রোববার   ২৯ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রাহায়ণ ১৫ ১৪২৭

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০:২৪, ১৩ নভেম্বর ২০২০
আপডেট: ১০:২৪, ১৩ নভেম্বর ২০২০

জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন আজ

হুমায়ূন আহমেদ

হুমায়ূন আহমেদ

হুমায়ূন আহমেদ। একাধারে ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার, গীতিকার, চিত্রনাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা। তিনি বিংশ শতাব্দীর বাঙালি কথাসাহিত্যিকদের মধ্যে একজন। সাহিত্যকর্ম দিয়ে তিনি জিতেছেন ছোট-মেজো-বড় সকল পাঠকের মন। আজ ১৩ নভেম্বর এই শ্রেষ্ঠ লেখকের ৭২তম জন্মদিন। 

১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর ময়মনসিংহ জেলার অন্তর্গত নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়ার কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। হুমায়ূন আহমেদের পিতার নাম ফয়জুর রহমান। মা আয়েশা ফয়েজ। বাবা ছিলেন একজন পুলিশ কর্মকর্তা।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের শ্রেষ্ঠ লেখক হিসেবে গণ্য করা হয় হুমায়ূন আহমেদকে। বাংলা কথাসাহিত্যে তিনি সংলাপপ্রধান নতুন শৈলীর জনক। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা তিন শতাধিক। হুমায়ূন আহমেদের অনেক গ্রন্থ স্ক্যুল-কলেজের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।

তার রচিত উপন্যাস থেকে জানা যায় যে, ছোটকালে হুমায়ূন আহমেদের নাম রাখা হয়েছিল শামসুর রহমান; ডাকনাম কাজল। তার পিতা (ফয়জুর রহমান) নিজের নামের সঙ্গে মিল রেখে ছেলের নাম রাখেন শামসুর রহমান। পরবর্তীতে আবার তিনি নিজেই ছেলের নাম পরিবর্তন করে ‌হুমায়ূন আহমেদ রাখেন। হুমায়ূন আহমেদের ভাষায়, তার পিতা ছেলে-মেয়েদের নাম পরিবর্তন করতে পছন্দ করতেন। তার ছোট ভাই মুহম্মদ জাফর ইকবালের নাম আগে ছিল বাবুল এবং ছোটবোন সুফিয়ার নাম ছিল শেফালি। ১৯৬২-৬৪ সালে চট্টগ্রামে থাকাকালে হুমায়ুন আহমেদের নাম ছিল বাচ্চু।

বাংলা সাহিত্য, নাটক, চলচ্চিত্র ও গান পালাবদলের এ কারিগর ১৯৭২ সালে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ দিয়ে সাহিত্য জগতে পা রাখেন। ১৯৯০-এর গোড়ার দিকে চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করেন। তার পরিচালনায় প্রথম চলচ্চিত্র ‘আগুনের পরশমণি’ মুক্তি পায় ১৯৯৪ সালে। বদলে দেন নির্মাণের বাঁক। ২০০০ সালে ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ ও ২০০১ সালে ‘দুই দুয়ারী’ দর্শকের কাছে দারুণ গ্রহণযোগ্যতা পায়। ২০০৩-এ নির্মাণ করেন ‘চন্দ্রকথা’।

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ২০০৪ সালে নির্মাণ করেন ‘শ্যামলছায়া’ সিনেমাটি। এটি ২০০৬ সালে ‘সেরা বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র’ বিভাগে একাডেমি পুরস্কারের জন্য বাংলাদেশ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। এছাড়াও এটি কয়েকটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়। এরপর ২০০৬ সালে মুক্তি পায় ‘৯ নম্বর বিপদ সংকেত’। ২০০৮-এ ‘আমার আছে জল’ চলচ্চিত্রটি তিনি পরিচালনা করেন। ২০১২ সালে তার পরিচালনার সর্বশেষ ছবি ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ মুক্তি পায়।

টেলিভিশন নাটকেও চমক দেখিয়েছেন তিনি। কখনো চিত্রনাট্যে কখনোবা নির্মাণে তিনি উপহার দিয়েছেন ‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘অয়োময়’, ‘বহুব্রীহি’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘আজ রবিবার’, ‘নক্ষত্রের রাত’, ‘উড়ে যায় বকপক্ষী’, ‘কালা কইতর’, ‘সবুজ ছায়া’র মতো ধারাবাহিকগুলো। আর অসংখ্য খণ্ড নাটক আজও তাকে এদেশের সেরা নাট্যকার ও পরিচালক হিসেবে কিংবদন্তি করে রেখেছে।

হুমায়ূন আহমেদের প্রথম স্ত্রীর নাম গুলতেকিন আহমেদ। তাদের বিয়ে হয় ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে। এই দম্পতির তিন মেয়ে এবং দুই ছেলে। তিন মেয়ের নাম বিপাশা আহমেদ, নোভা আহমেদ, শীলা আহমেদ এবং ছেলের নাম নুহাশ আহমেদ। অন্য আরেকটি ছেলে অকালে মারা যায়। ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যভাগ থেকে শীলার বান্ধবী এবং তার বেশ কিছু নাটক-চলচ্চিত্রে অভিনয় করা অভিনেত্রী শাওনের সঙ্গে হুমায়ূন আহমেদের ঘনিষ্ঠতা হয়। এর ফলে সৃষ্ট পারিবারিক অশান্তির অবসানকল্পে ২০০৫-এ গুলতেকিনের সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয় এবং ওই বছরই শাওনকে বিয়ে করেন। এ ঘরে তাদের তিন ছেলে-মেয়ে জন্মগ্রহণ করে। প্রথম ভূমিষ্ঠ কন্যাটি মারা যায়। ছেলেদের নাম নিষাদ হুমায়ূন ও নিনিত হুমায়ূন।

২০১০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তার ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই কোটি বাঙালিকে কাঁদিয়ে মৃত্যুবরণ করেন হুমায়ূন আহমেদ।

হুমায়ূন আহমেদ চলে গেলেও এখনো কোটি বাঙালির প্রাণে রয়ে গেছেন। তার সৃষ্টি হিমু আর মিসির আলী এখনো দাগ কেটে আছে বাংলাদেশের যুবকশ্রেণীতে। তিনি থাকবেন আজীবন বাঙালিদের মাঝে তার সাহিত্যকর্ম দিয়ে।

আইনিউজ/এসডিপি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়