ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২২ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৭ ১৪২৭

চট্টগাম প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৬:০৫, ৩১ মে ২০২০
আপডেট: ২০:৫০, ৩১ মে ২০২০

দারিদ্র্যতায় ফিকে হয়ে যাওয়া শিশুদের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন তারা

স্বপ্ন ছাড়া বাঁচে কয়জন? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া কঠিন। তবে স্বপ্নকে পুঁজি করেই মানুষ বেঁচে থাকে। আর শিশুদের বেঁচে থাকার কিংবা স্বপ্ন দেখার অধিকারটা সবচেয়ে বেশি। আপন তুলিতে নিজের জগৎটাকে রাঙিয়ে দেওয়ার অধিকার সব শিশুরই আছে।

কিন্তু দারিদ্র্যতার আঘাতে তাদের মনের রঙগুলো যেন ফিকে হয়ে পড়ছে। হয়ত সে শিশুটি স্বপ্ন কি তাও জানে না। "এমনই সব শিশুদের স্বপ্ন দেখাতে কাজ করছে ড্রিম ফাউন্ডেশন। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কিছু একটা করতে হবে। এমন ইচ্ছা থেকেই জন্ম হয় এ সংগঠনটির"।

স্বপ্নের এই যাত্রা নিয়ে কথা বলেন ড্রিম ফাউন্ডেশনের ফাউন্ডার সাবরিনা ইসলাম রাহা ও কো-ফাউন্ডার আতাহার আলী চৌধুরী রাহাত। তিনি বলেন- আমাদের আশেপাশেই রয়েছে অসংখ্য সুবিধাবঞ্চিত শিশু। অনেক শিশুই টাকার অভাবে পড়াশোনা করতে পারছেনা, বই কিনতে পারছেনা। অনেকে লজ্জায় কারো কাছে টাকা খুঁজে নেয় না। অনেক শিশু পরিবারের খরচের যোগান দিতে গিয়ে পড়াশোনা বন্ধ করে দেয়। তাদের হয়তো মেধা আছে, কিন্তু মেধা বিকাশের মাধ্যমটি হারিয়ে যাচ্ছে দারিদ্রতায়।

ড্রিম ফাউন্ডেশন তাদেরই সাহায্য করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। সুবিধাবঞ্চিত অসংখ্য শিশুদের স্বপ্ন দেখাতে কাজ করে যাচ্ছে ড্রিম ফাউন্ডেশনের প্রতিটি সদস্য। শিক্ষা ছাড়া দেশকে বদলে দেওয়া অসম্ভব।

এজন্য শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। একটি শিশুও যেন শিক্ষা অভাবে না ভোগে, এমনই স্বপ্ন নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে সংগঠনটি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত ৯ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশুর এইচএসসি পর্যন্ত সকল শিক্ষা ব্যয়ভার বহন করেছে ড্রীম ফাউন্ডেশন।

এছাড়াও প্রত্যেক বৃহস্পতিবার ফ্রি আর্ট শেখানো হয় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের। তার পাশাপাশি শিশুদের মেধা বিকাশে নাচ, গান, কবিতায়ও পারদর্শী করে তুলছে ড্রীম ফাউন্ডেশন।

এই করোনা পরিস্থিতিতে, দেশের লকডাউনের শুরুর দিক থেকে পুরো রমজান মাস জুড়ে ড্রীম ফাউন্ডেশন কাজ করেছে দিনমজুরদের জন্য। যাদের উপার্জন বন্ধ হয়ে গিয়েছে তাদের পাশে দাড়িয়েছে। চট্টগ্রাম শহর অঞ্চল থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন অভাবী ও অসহায় পরিবারের পাশে থাকার চেষ্টা করেছে। অসহায় দরিদ্র পরিবারগুলোকে খুঁজে বের করে তাদেরকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ

ছাড়াও ড্রীম ফাউন্ডেশন এর আর্ট স্কুলের বাচ্চাদের মাঝে মাস্ক ও সাবান বিতরণ করা হয়। ড্রীম ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রতি রমজানের মত এবারো "Share The Happiness" বিভিন্ন এতিম ও হেফজখানায় ছোট ছোট বাচ্চা ও কোরআনে হাফেজদের কাছে কিছু ভালোবাসা পৌঁছে দেওয়া হয়।

প্রতি রমজানে ড্রীম ফাউন্ডেশন এর লক্ষ্য থাকে সকলের মুখে হাসি ফোটানো, মহান আল্লাহ তা'য়ালার নেয়ামত সকলের সাথে ভাগাভাগি করে নেয়ার। তারই ধারাবাহিকতায় ড্রীম ফাউন্ডেশনের পক্ষ হতে দেওয়ান সুলতান এতিমখানা, গোলজারে মদিনা হেফজখানা এবং আল হেরা এতিমখানা ও হেফজখানায় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। দেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে এভাবেই সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থাকতে চায় ড্রীম ফাউন্ডেশন।

Green Tea
সারাবাংলা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়