ঢাকা, রোববার   ১৭ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ২ ১৪২৮

কামরুল হাসান শাওন, মৌলভীবাজার

প্রকাশিত: ১৯:৩৬, ১৭ জুলাই ২০২১
আপডেট: ১৯:৪০, ১৭ জুলাই ২০২১

প্রজনন মৌসুমে পোনা শিকারে কমছে দেশীয় মাছের উৎপাদন

শোল মাছের মা ও ছোট বাচ্চা।

শোল মাছের মা ও ছোট বাচ্চা।

বর্ষার নতুন পানি দেশীয় মাছের প্রজননের জন্য সর্বোৎকৃষ্ট। কিন্তু এ সময় পোনা ও ডিমওয়ালা মা মাছ নিধনের কারণে মৌলভীবাজারসহ সারাদেশে কমছে দেশীয় মাছের উৎপাদন।

জানা গেছে, আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে নতুন পানিতে থইথই করে হাওর, পুকুর-ডোবা, খাল-বিল ও নদী-নালাগুলো। এ সময় পানিতে বিচরণ করে পোনা আর ডিমওয়ালা মাছ। আর এই সময়টাইতেই মাছ শিকারে মেতে ওঠে পেশাদার জেলেসহ মৌসুমী জেলেরা। ঝাঁকে-ঝাঁকে ধরা পড়ে দেশি পোনা ও ডিমওয়ালা মাছ। প্রকাশ্যে বিক্রি হয় হাট-বাজার, বিলের ধার, নদীর পাড় ও রাস্তার ধারে। যদিও পোনা ও ডিমওয়ালা মাছ শিকার, ক্রয়-বিক্রয় আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু সাধারণ মৎস্যজীবীরা আইন অমান্য করে প্রতিনিয়ত পোনা মাছ শিকার করে যাচ্ছেন।

এ অবস্থায় মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় প্রতিনিয়ত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অবৈধ জাল, মাছ ধরার ফিক্সড ইঞ্জিনসহ নানা ধরনের জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হচ্ছে। মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন-১৯৫০ (ধারা-৩) এবং মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ বিধিমালা-১৯৮৫ (বিধি -০৩, ১০, ১২) অনুযায়ী নদ-নদী ও খাল-বিলে দেশীয় প্রজাতির ছোট মাছ রক্ষার ধারামতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার জেলে গৌরা সরকার বলেন, পুঁটি, মলা, ঢেলা, টাকি, শোল, বোয়াল, চিংড়ি, মাগুর, শিং, কৈ, টেংরা মাছসহ নানান জাতের দেশি মাছে ভরপুর ছিল আমাদের অন্ধমনু, কুশিয়ারা, মনু নদসহ মৌলভীবাজারের বিভিন্ন খাল-বিল। কিন্তু এখন আর আগের মতো মাছ দেখাই যায় না। দেশি মাছের চাহিদা পূরণ করতে বিভিন্ন ফিশারি এখন এই মাছ চাষ করে, কিন্তু আগের মত স্বাদ পাওয়া যায় না। 
প্রজনন মৌসুমে পোনা ও ডিমওয়ালা মাছ নিধন বন্ধ না করা এবং আগের মতো উন্মুক্ত জলাশয় না থাকায় এসব মাছে সংকট দেখা দিয়েছে। আবার কিছু প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হতেও বসেছে।

স্থানীয় সচেতন নাগরিক নিয়াজ মোর্শেদ বলেন, একেকটি মা মাছ থেকে ২০-২৫ হাজার পোনা পাওয়া সম্ভব। এসব পোনা মাছ বড় হওয়ার সুযোগ দিলে দেশীয় মাছের চাহিদা পূরণ করে বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব। কিন্তু অসাধু মাছশিকারীরা বিভিন্ন চায়না ও নিষিদ্ধ জাল দিয়ে এমন ভাবে মাছ শিকার করছে। একবারে ছোট মাছ থেকে বড় মাছ সব ধরনের মাছ এই জালে আটকা পরে। এভাবে মাছ শিকার করলে আগামীদিনে আমরা দেশীয় মাছ আর পাবো না। পোনা মাছ নিধনের কারেন্ট জালসহ চায়না এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এছাড়াও বিভিন্ন বিলের কাছের মানুষরা মাছের পোনা নিধন করে বিক্রি করছে আর কিছু মানুষ তা খাওয়ার জন্য কিনে নিয়ে যাচ্ছে এজন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজার সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) মো. ফারাজুল কবির বলেন, বর্ষাকাল দেশীয় মাছের প্রজনন মৌসুম। এই মৌসুমে অবৈধ জাল ব্যবহার করে ছোট মাছ ও ডিমওয়ালা মাছ ধ্বংস করা হচ্ছে। ছোট মাছ রক্ষার্থে ও উৎপাদন বৃদ্ধিকল্পে আমাদের অভিযান চলমান আছে।

আইনিউজ/কামরুল হাসান শাওন/এসডি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়