ঢাকা, শুক্রবার   ২২ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ৭ ১৪২৮

ফিচার ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:১৩, ১২ জুন ২০২০

আমাজনের রহস্যময় নিঃসঙ্গ এক মানুষের গল্প

আমাজন অরণ্যের কেন্দ্রস্থলে বাস করে এক রহস্যময় নিঃসঙ্গ মানুষ

আমাজন অরণ্যের কেন্দ্রস্থলে বাস করে এক রহস্যময় নিঃসঙ্গ মানুষ

আমাজন—এই নামের মধ্যেই যেন কতশত রহস্য লুকিয়ে আছে। বিশ্বের বৃহত্তম এই বৃষ্টিচ্ছায় অরণ্য পৃথিবীর ২০ শতাংশ অক্সিজেন সরবরাহ করে। তাই দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন নদীর অববাহিকীয় গড়ে ওঠা এই গভীর রেনফরেস্টকে পৃথিবীর ফুসফুসও বলা হয়। ভয়ঙ্কর ও দুর্ভেদ্য আমাজন অরণ্যের কেন্দ্রস্থলে বাস করে এক রহস্যময় নিঃসঙ্গ মানুষ। একসময় তার গোষ্ঠী, পরিবার ছিল। আজ নেই, তাই সে একা।

আমাজনের আদিম মানুষদের নিয়ে কাজ করে ‘ফুনাই’ নামের ব্রাজিলের একটি সরকারি সংস্থা। ব্রাজিলের রোন্দোনিয়া প্রদেশের জঙ্গলে ১৯৯৬ সালে ওই মানুষটিকে প্রথম দেখতে পেয়েছিলেন গবেষকরা। তারপর প্রায় একদশকেরও বেশি সময় ধরে নিঁখোজ ছিল মানুষটি। আবার তাকে দেখতে পাওয়া গিয়েছিল ২০১৯ সালে।

গবেষকরা বলছেন, মানুষটির বয়স পঞ্চাশের আশেপাশে এবং আদিবাসী মানুষটি আমাজনের মত দুর্ভেদ্য জঙ্গলে ২৫ বছর ধরে একা বাস করছে। কখনও তাকে জঙ্গলের বাইরে আসতে দেখেনি কেউ। তার ছবি তোলার জন্য বছরের পর বছর জঙ্গলে পড়ে থেকেও ব্যর্থ হয়েছেন। শুধুমাত্র জঙ্গলে রেখে আসা ক্যামেরায় এক ভিডিওচিত্রে ধরা দেয় মানুষটি।

জঙ্গলে রেখে আসা ক্যামেরায় এক ভিডিওচিত্রে ধরা দেয় মানুষটি

যেভাবে একা হয়ে পড়লেন

আমাজনের গভীরে বাস করে প্রায় ১১৩ টি আদিম উপজাতি। বিংশ-শতাব্দীর শেষ ভাগে আমাজনে সভ্যতার চরম থাবাটি পড়েছিল। জঙ্গলের ভেতরের সম্পদের লোভে সভ্য জগতের মানুষরা হামলা চালিয়েছে বার বার। আদিম জনগোষ্ঠীর মানুষদের নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছিল। কিছু উপজাতি, আমাজনের আরো গভীরে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল। গভীর জঙ্গলে তাদের শুরু করতে হয়েছিল হিংস্র বন্যপ্রাণী ও সাপের সঙ্গে অস্তিত্বের লড়াই।

গবেষকরা বলছেন, আমাজনের বুকে হাজার হাজার বছর ধরে বাস করে আসা এক আদিম উপজাতির শেষ প্রতিনিধি এই মানুষটি। ২৫ বছর ধরে ভয়াল ভয়ঙ্কর আমাজন অরণ্যে একা মৃত্যুর সঙ্গে সংগ্রাম চালিয়ে বেঁচে রয়েছে মানুষটি। ১৯৯৫ সালেও তার উপজাতির আরো পাঁচজন জীবিত ছিলেন। সে বছর আধুনিক জগতের মানুষের আক্রমনে তারা মারা যান।

একটা ছোট্ট ঘাসে ছাওয়া কুঁড়ে ঘর আছে তার

কী করে সেই মানুষটি

ফুনাই সংস্থাটি ২০১৯ সালে ওই মানুষটিকে ফের দেখার পর তার গতিবিধির দিকে নজর রেখে চলেছে। দেখা গেছে, একটা ছোট্ট ঘাসে ছাওয়া কুঁড়ে ঘর আছে তার। ঘরটির চারদিকে ভুট্টা ও পেঁপের চাষ করেছে সে। তার পরনে পোশাক বলতে, এক চিলতে পশুর ছাল। সংস্থার কর্মীরা ঘাসের কুঁড়েটির সামনে তার তৈরি আদিম যন্ত্রপাতিও দেখতে পেয়েছেন। সেই সব যন্ত্র ব্যবহার করে সুড়ঙ্গ খোঁড়ে, শিকার করে, মাছ ধরে রহস্যময় মানব।

২০ হাজার বছর আগে যেভাবে তার পুর্বপুরুষরা বাঁচতো, ২০২০ সালে সেভাবেই জীবনযাপন করছে মানুষটি। সুড়ঙ্গ-মানব ভয় পায় না ভয়ংকর অ্যানাকোন্ডাকেও। তার ভয় সভ্য জগতের মানুষকে। যারা তার বাবা-মা, ভাই-বোন, স্ত্রী এমনকী দুধের শিশুদেরও মেরে ফেলেছে। এক বুক হতাশা আর অভিমান নিয়ে সেও হয়তো একদিন হারিয়ে যাবে আমাজনের অন্ধকারে।

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়