ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২১,   অগ্রাহায়ণ ১৮ ১৪২৮

তনিমা রশীদ

প্রকাশিত: ২১:৫৪, ১৮ নভেম্বর ২০২১
আপডেট: ০০:৫৭, ১৯ নভেম্বর ২০২১

ফেসবুক থেকে মেটা : মার্ক জাকারবার্গের পরিকল্পনা কী?

ফেসবুক মেটা কী

বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের নাম বদলে নতুন নাম হবে 'মেটা (meta)' এমনি ধারণা অনেকেরই। কিন্তু আসলে ফেসবুক অ্যাপটি নয় বরং ফেসবুক এর মূল কোম্পানির নতুন নাম হতে যাচ্ছে 'মেটা'। গত বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) রাতে ফেসবুক লাইভে সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মার্ক জাকারবার্গ জানান, যে ফেসবুক কোম্পানি এখন থেকে ‘Meta platforms Inc' বা সংক্ষেপে ‘Meta' নামে পরিচিত হবে। এই নতুন নামের কোম্পানির লোগো হলো কিছুটা ‘ইনফিনিটি’ চিহ্নের মতো, নীল রঙের। তবে এই ফেসবুক থেকে মেটা হওয়ার ক্ষেত্রে মার্ক জাকারবার্গের রয়েছে দীর্ঘ পরিকল্পনা।

কেনো কোম্পানির নাম পরিবর্তন করা হয় : ২০০৪ সালে ফেসবুক নামে একটি যোগাযোগ মাধ্যম তৈরী করেছিলেন মার্ক জাকারবার্গ। পরে এই নামে একটি কোম্পানি তৈরী করেন জাকারবার্গ। কিন্তু বর্তমানে এই কোম্পানির অধীনে রয়েছে ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ এর মতো অন্যান্য মাধ্যমও। এই সবগুলো অ্যাপ দিন দিন উন্নত হচ্ছে। শুধুমাত্র ছবি বা ভিডিও আপলোড কিংবা যোগাযোগ মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় এই অ্যাপ গুলো। এদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ভিডিও অডিওকল,  লাইভ স্ট্রিমিং এর মতো আরো নানাধরণের অসংখ্য ফিচার। কেউ কেউ একেকটি অ্যাপের মাধ্যমে শুরু করেছেন ব্যবসা, কেউ বা রাতারাতি তারকা বনে যাচ্ছেন এরকম আরো নানাধরণের বৃহত্তর কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত হচ্ছেন অনেকেই। কিন্তু কোম্পানির এই বিস্তৃত কর্মকাণ্ডকে “ফেসবুক” নামে চিহ্নিত করা যায় না। এই নামটি শুধু মাত্র একটি দিকেই নির্দেশ করে। তাই মার্ক জাকারবার্গ ও তার সহকর্মীরা এর নাম পরিবর্তন করেন। এইসব বিস্তৃত কর্মকাণ্ডকে ধরে রাখতে পারে এমন একটি মানানসই নাম হিসেবে তারা “মেটা”কে বেছে নেন।

কেন 'মেটা' নামই রাখা হয়

অনেকেরই মনে এই প্রশ্ন জাগে কেনো 'মেটা' নামই রাখা হয়। 'মেটা' শব্দটি এসেছে গ্রীক শব্দ থেকে, যার অর্থ 'গণ্ডির বাইরে'। এই নাম নেওয়ার আসল কারণ হলো 'মেটা' কোম্পানি বা 'ফেসবুক' কোম্পানির নতুন অ্যাপ 'মেটাভার্স'। 'মেটাভার্স' এর লক্ষ্য থেকেই কোম্পানির নতুন নাম রাখা হয় মেটা।

মেটাভার্স কী এবং তার লক্ষ্য কী

'মেটাভার্স' শব্দটি আমেরিকান লেখক নিল স্টিফেনসনের ডিস্টোপিয়ান উপন্যাস 'স্নো ক্র্যাশ'-এ সর্বপ্রথম উল্লেখ করা হয়েছিলো। এই উপন্যাসটি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী উপন্যাস।

মেটাভার্স-কে জাকারবার্গ বলেছেন, ভার্চুয়াল বিশ্বের ভবিষ্যৎ। মেটাভার্স যেকোনো পরিবেশকে বহুমাত্রিক রূপে তৈরি করতে পারে। ধরুন আপনি এখন ভিডিও কলের মাধ্যমে কারো সাথে কথা বলছেন। আপনি সেই ব্যক্তিকে আপনার সামনের স্ক্রিনে দেখছেন। কিন্তু আপনি যখন 'মেটাভার্স' এর মাধ্যমে ভিডিও কল করবেন তখন সেই ব্যক্তিকে আপনার স্ক্রিনের সামনে নয় বরং তাকে আপনার সাথে দেখতে পাবেন। মনে হবে সে ব্যক্তির সাথে আপনি সরাসরি কথা বলছেন।

আবার ধরেন আপনি ফেসবুকে একটি সুন্দর পার্বত্য অঞ্চলের ছবি দেখছেন কিন্তু 'মেটাভার্স' এর মাধ্যমে যদি সে একই ছবি আপনি দেখেন তাহলে আপনার মনে হবে ওই স্থানে পৌঁছে গেছেন এবং স্ব শরীরে স্থনটি দেখছেন। একটি মেটাভার্স হেডসেটের মাধ্যমে এসব কিছু করা যাবে।

আশা করা হচ্ছে যে, 'মেটাভার্স' এর ভার্চুয়াল জগতটি পরিবার ও বন্ধুবান্ধবের সাথে যোগাযোগ থেকে শুরু করে কাজ, খেলা এবং কনসার্ট এর জন্যও ব্যবহার করা যাবে। অর্থাৎ 'মেটাভার্স' হলো বাস্তব জগতের সাথে ভার্চুয়াল জগতের মেলবন্ধন।

আইনিউজ/এসডি

১৫ হাজার টাকার মধ্যে বাজারের সেরা ৫ ফোন

বাংলাদেশের বাজারে এলো করোনার মুখে খাওয়ার ক্যাপসুল

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়