ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২১ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৮ ১৪২৭

সাহিত্য ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৪২, ২ জানুয়ারি ২০২১
আপডেট: ১১:৪৩, ২ জানুয়ারি ২০২১

শুভ জন্মদিন ‘বাংলার গোর্কি’

বাংলা কথাসাহিত্যে আধুনিকতার পথিকৃৎ 'বাংলার গোর্কি' খ্যাত শওকত ওসমানের ১০৫তম জন্মদিন আজ। ১৯১৭ সালের এই দিনে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শওকত ওসমান।

ছাত্রজীবনেই পিতৃদত্ত নাম শেখ আজিজুর রহমান বাদ দিয়ে সাহিত্যিক হিসেবে শওকত ওসমান নামে তার আত্মপ্রকাশ ঘটে। আজীবন অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তচিন্তার ধারক ছিলেন তিনি। তীক্ষষ্ট সমাজ সচেতনতা আর ব্যঙ্গ-বিদ্রুপে তার গল্প-উপন্যাস প্রখর জীবনবাদী।

তার রচিত ‘ক্রীতদাসের হাসি’ বাংলা সাহিত্যে মহাগ্রন্থের মতো করে ঠাই নিয়ে আছে। শওকত ওসমান নিজের সম্পর্কে একবার বলেছিলেন তিনি লেখক নন, তিনি মূলত ‘ঝাড়ুদার’। সমাজে জমানো জঞ্জাল তিনি আমৃত্যু ঝাড়ু দিয়ে সাফ করে যাবেন লেখার মাধ্যমে।

তাঁর রক্তের মধ্যে ঢুকে গিয়েছিল এমনই ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ-ঠাট্টা, ইয়ার্কি, উপহাস। এটাকে তিনি ব্যবহার করেছিলেন অস্ত্র হিসেবে। সমাজের ক্লাউনদের, হিপোক্রেটদের, মৌলবাদী দৈত্যদের বুকে তিনি নিক্ষেপ করতেন এই অস্ত্র। বাস্তবিক অর্থে ধর্মীয় কূপমণ্ডূকতা নামের শত্রু সারা জীবন ধাওয়া করেছে তাঁকে।

শওকত ওসমান কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৪১ সালে বাংলা সাহিত্যে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর বাংলাদেশে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) চলে আসেন তিনি। ঢাকা কলেজে শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে তার পেশাজীবন শুরু। এ ছাড়া চট্টগ্রাম কমার্স কলেজে শিক্ষকতা করেছেন। ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকারেও চাকরি করেছেন তিনি।

তিনি প্রধানত গল্প ও উপন্যাস রচনা করে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। ‘জননী’, ‘ক্রীতদাসের হাসি’, ‘সমাগম’, ‘চৌরসন্ধি’, ‘রাজা উপাখ্যান’, ‘জাহান্নাম হইতে বিদায়’ তার উল্লেখযোগ্য উপন্যাস।

গল্পগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প’, ‘মনিব ও তাহার কুকুর’, ‘ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী’ প্রভৃতি। স্মৃতিকথার মধ্যে রয়েছে ‘স্বজন সংগ্রাম’, ‘কালরাত্রি খ চিত্র’, ‘অনেক কথন’, ‘গুডবাই জাস্টিস মাসুদ’, ‘মুজিবনগর’ ইত্যাদি।

সাহিত্যকর্মে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক, স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, প্রেসিডেন্ট প্রাইড অব পারফরমেন্স পদক, নাসিরউদ্দীন স্বর্ণপদক, মুক্তধারা সাহিত্য পুরস্কার, ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার, টেনাশিস পুরস্কার ও মাহবুবউল্লাহ ফাউন্ডেশন পদক পেয়েছেন।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর প্রায় পাঁচ বছর কলকাতায় স্বেচ্ছানির্বাসনে ছিলেন শওকত ওসমান। ১৯৯৮ সালের ২৯ মার্চ সেরিব্রাল অ্যাটাকে আক্রান্ত হন। একই বছরের ১৪ মে সকালে পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নেন তিনি।

আইনিউজ/এইচএ

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়