Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, বুধবার   ০৪ মার্চ ২০২৬,   ফাল্গুন ১৯ ১৪৩২

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:১৩, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত এলেন আরও ২৯ বাংলাদেশি

ছবি: আই নিউজ

ছবি: আই নিউজ

অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে আরও ২৯ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ভাড়া করা একটি বিশেষ ফ্লাইটে তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ পৌঁছান।

বিএমইটির ছাড়পত্র নিয়ে ব্রাজিল, এরপর অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ

বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক ও এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক)-এর সহায়তায় ফেরত আসা ব্যক্তিদের জরুরি সহায়তা ও নিজ নিজ বাড়িতে যাওয়ার পরিবহন সুবিধা প্রদান করে ব্র্যাক-এর মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।

২০২৫ সালে ফেরত ৩২২ জন
এ নিয়ে ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো বাংলাদেশির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২২ জনে। সর্বশেষ গত ২০ জানুয়ারি ৩৬ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল।

আজ ফেরত আসা ২৯ জনের মধ্যে নোয়াখালীর ১৪ জন, ঢাকার ৭ জন, কুমিল্লার ২ জন, মুন্সীগঞ্জের ৩ জন এবং ফেনী, মৌলভীবাজার, সিলেট ও মাদারীপুরের একজন করে রয়েছেন।

ব্রাজিল হয়ে মেক্সিকো, এরপর যুক্তরাষ্ট্র
ফেরত আসা ব্যক্তিদের অধিকাংশই প্রথমে বৈধভাবে ব্রাজিল-এ যান। এরপর সেখান থেকে দালালের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ হয়ে মেক্সিকো পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্র-এ প্রবেশ করেন।

এভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে জনপ্রতি প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা, কারও ক্ষেত্রে ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর তারা রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় মার্কিন প্রশাসন তাদের প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্ত নেয়।

ফেরত আসাদের বক্তব্য
ফেরত আসা নোয়াখালী জেলার সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি ২০২৪ সালে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র নিয়ে ব্রাজিলে যান। পরে দালালের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ হয়ে মেক্সিকো সীমান্ত পাড়ি দিতে গিয়ে তিনি গ্রেপ্তার হন।

দিয়াদ চৌধুরী জানান, ২২ লাখ টাকা খরচ করে তিনি ২০২৪ সালের শেষের দিকে ব্রাজিল যান। সেখান থেকে মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। প্রায় এক বছর কারাভোগের পর তিনি দেশে ফিরেছেন।

মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার আব্দুল সবুর বলেন, ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর ভিজিট ভিসায় ব্রাজিলে যান তিনি। একাধিক দেশ ঘুরে ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান। আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

ব্রাজিলে গমন, নজরদারির প্রশ্ন
বিএমইটির ছাড়পত্র নিয়ে ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১,৪১০ জন বাংলাদেশি ব্রাজিলে গেছেন, যার মধ্যে নোয়াখালীর ৯৯০ জন। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের একটি বড় অংশ মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র-এর প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের একাধিক দফায় ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

এর আগে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর ৩১ জন, ২৮ নভেম্বর চার্টার্ড ফ্লাইটে ৩৯ জন এবং ৮ জুন চার্টার্ড ফ্লাইটে ৪২ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। এছাড়া চলতি বছরের ৬ মার্চ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত একাধিক ফ্লাইটে অন্তত ৩৪ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল।

আইনি প্রক্রিয়া ও প্রত্যাবাসন
মার্কিন আইন অনুযায়ী, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থানকারী অভিবাসীদের আদালতের রায় বা প্রশাসনিক আদেশে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো যায়। আশ্রয়ের আবেদন ব্যর্থ হলে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই) প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করে। সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রক্রিয়া দ্রুততর হওয়ায় চার্টার্ড ও সামরিক ফ্লাইটের ব্যবহার বেড়েছে।

জবাবদিহিতার দাবি
এ বিষয়ে ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) শরিফুল হাসান বলেন, বাংলাদেশ থেকে বিএমইটির ছাড়পত্র নিয়ে বৈধভাবে ব্রাজিলে গিয়ে সেখান থেকে নানা দেশ হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাচারের ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে।

তার মতে, বিএমইটি যে শত শত কর্মীকে ব্রাজিলে পাঠানোর অনুমোদন দিচ্ছে, তারা প্রকৃতপক্ষে সেখানে কর্মসংস্থানের জন্য যাচ্ছেন, নাকি যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ট্রানজিট হিসেবে ব্রাজিলকে ব্যবহার করছেন—সে বিষয়ে কার্যকর নজরদারি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। সংশ্লিষ্ট এজেন্সি ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা প্রয়োজন। নতুন করে ব্রাজিলে কর্মী পাঠানোর অনুমতি দেওয়ার আগে সরকারকে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ইএন/এসএইচএ

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়