ঢাকা, সোমবার ৩১ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ১৬ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১:২১, ২২ অক্টোবর ২০২০
আপডেট: ০১:২১, ২২ অক্টোবর ২০২০

কাদের মোল্লাকে ‘শহীদ’ লিখেছিলেন রুহুল আমিন গাজী

মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসিতে দণ্ডিত কসাই আবদুল কাদের মোল্লাকে ‘শহীদ’ লিখেছিলেন দৈনিক সংগ্রামের প্রধান প্রতিবেদক ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী।

এই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ১০ মাসের বেশি সময় ধরে কারাগারে আছেন পত্রিকাটির সম্পাদক আবুল আসাদ।

সম্প্রতি আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করায় বুধবার সন্ধ্যার পর মগবাজারে সংগ্রামের কার্যালয় থেকে রুহুল আমিন গাজীকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. ওয়ালিদ হোসেন জানিয়েছেন।

সংগ্রামের প্রধান প্রতিবেদক রুহুল আমিন গাজী বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের বিএনপি-জামায়াতপন্থি সাংবাদিকদের অংশের সভাপতির দায়িত্বে আছেন।

গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর আফজাল হোসেন নামে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা দৈনিক সংগ্রামের  সম্পাদক আবুল আসাদ ও প্রধান প্রতিবেদক রুহুল আমিন গাজীসহ আট জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। ওই দিন রাতেই আবুল আসাদকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এজাহারে অভিযোগে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসি হয় ২০১৩ সালে। তখন কাদের মোল্লাকে ‘কসাই কাদের’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। দেশের সর্বোচ্চ আদালত কাদের মোল্লাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন। ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর কসাই কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়। কিন্তু রাজাকার অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তির দোসররা দেশের বিরুদ্ধে, মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে এবং সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আসছেন।

অভিযোগে বলা হয়, এরই ধারাবাহিকতায় ১২ ডিসেম্বর দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার প্রথম পাতায় ‘শহীদ আবদুল কাদের মোল্লার ষষ্ঠ শাহাদতবার্ষিকী আজ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। ওই প্রতিবেদনে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দেওয়া হয়। আসামি আবুল আসাদসহ অন্য আসামিরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ব্যক্তিদের খেপিয়ে তোলার জন্য এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আঘাত আনার জন্যই এমন মিথ্যা ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশন করে।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঘোলাটে করার জন্য এ ধরনের উসকানিমূলক সংবাদ পরিবেশন করেন এই আসামিসহ অন্যরা। সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য আসামিরা সর্বদা সচেষ্ট রয়েছেন। এই আসামিসহ অন্য আসামিরা রাষ্ট্রদ্রোহী সংঘবদ্ধচক্রের সহায়তায় এই ধরনের উসকানিমূলক তথ্য প্রচারসহ দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সংবিধানকে অস্বীকার করেন।

কাদের মোল্লাকে নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তথ্য মন্ত্রণালয় দৈনিক সংগ্রামের ডিএফপি বাতিল করে। তবে ডিক্লারেশন বহাল থাকায় এখনো পত্রিকাটি প্রতিদিন বের হচ্ছে।

তাকে গ্রেপ্তারের পর ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, “দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার চিফ রিপোর্টার রুহুল আমিন গাজী তার অপর দুজন সহযোগীর সাথে পরস্পর যোগসাজশে ১২.১২.২০১৯ ইং তারিখ দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার ৩, ৪ ও ৫ নং কলামজুড়ে বোল্ড লেটারে ‘শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লার ৬ষ্ঠ শাহাদৎ বার্ষিকী আজ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে যাতে যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লাকে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিংপ্রাপ্ত আখ্যা দিয়ে ’২৩ মার্চ, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জেসিও মফিজুর রহমানের ডাকে এলাকার বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পড়ুয়াদের সাথে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিংয়ে অংশগ্রহণ করেন আব্দুল কাদের মোল্লা’- মর্মে প্রতিবেদন প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আঘাত করার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিকে ক্ষেপিয়ে তুলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঘোলাটে করার লক্ষ্যে এ উসকানিমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।”

একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর ফাঁসি কার্যকর করা হয় ‘মিরপুরের কসাই’ খ্যাত কাদের মোল্লার। সেই দিনের স্মরণে গত বছর ১২ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীর মুখপত্র হিসেবে পরিচিত দৈনিক সংগ্রামের প্রথম পাতায় ‘শহীদ আবদুল কাদের মোল্লার ৬ষ্ঠ শাহাদাত বার্ষিকী আজ’ শিরোনামে ওই প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।

দৈনিক সংগ্রামের কার্যালয়টি জামায়াত-শিবিরের অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে অভিযোগ করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পত্রিকাটির ‘ডিক্লারেশন’ বাতিলের দাবি জানানো হয় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামের একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে।

আইনিউজ/এইচকে

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়