ঢাকা, সোমবার ২৪ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ৯ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০:৪৬, ১১ এপ্রিল ২০২১
আপডেট: ১২:৫৫, ১১ এপ্রিল ২০২১

‘খোঁজ মিলছে না’ মামুনুলের কথিত স্ত্রী ঝর্ণার, ছেলের জিডি

রয়্যাল রিসোর্টে মামুনুল ও ঝর্ণা (বাঁয়ে), ভিডিও বার্তায় জামি।

রয়্যাল রিসোর্টে মামুনুল ও ঝর্ণা (বাঁয়ে), ভিডিও বার্তায় জামি।

হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হকের সাথে রয়্যাল রিসোর্টে আটক হওয়া কথিত স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়টি উল্লেখ করে ঝর্ণার বড় ছেলে আবদুর রহমান জামি একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

শনিবার (১০ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর পল্টন থানায় এ জিডি করা হয় বলে জানিয়েছেন ওসি আবদুল লতিফ। একই সঙ্গে আবদুর রহমান জিডিতে নিজের নিরাপত্তা চেয়েছেন।

পল্টন থানার ওসি আবদুল লতিফ শনিবার রাতে বলেন, ‘আবদুর রহমান তার মায়ের সন্ধান ও নিজের নিরাপত্তা চেয়ে জিডি করেছেন। একজন এসআইকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছি।’

মামুনুল হকের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণার দুই সন্তান আবদুর রহমান ও তামিম তাদের বাবার সঙ্গে খুলনায় থাকে। আবদুর রহমান কয়েক দিন আগে ফেসবুক লাইভে এসে মামুনুল হক সম্পর্কে ক্ষোভ প্রকাশ করে তার বিচার দাবি করে। পাশাপাশি আবদুর রহমান তার মা-বাবার বিচ্ছেদ ও তাদের পরিবার ধ্বংসের জন্য সরাসরি মামুনুল হককে দায়ী করে।

৩ এপ্রিল সন্ধ্যার দিকে বর্তমান সময়ের আলোচিত ধর্মীয় সংগঠন হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হক নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় এক হোটেলে নারীসহ অবরুদ্ধ ছিলেন। খবর পেয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী তাকে আটক করে। পরে তাৎক্ষণিকভাবে র‍্যাব-১১, পুলিশ ও প্রশাসনের মানুষজন ঘটনাস্থলে হাজির হন।

পরে ওই নারীকে (জান্নাত আরা ঝর্না) দ্বিতীয় স্ত্রী বলে পরিচয় দেন তিনি। এ বিষয়ে ওই নারীর পরিচয় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। 

কিন্তু সবকিছু ওলট-পালট করে দেয় মামুনুল হকের ভাইরাল হওয়া ওই ফোনালাপ। তাতে তিনি ওই নারীকে ‘শহীদুল ইসলাম ভাইয়ের ওয়াইফ’ বলছেন। 

সন্ধ্যার দিকে আটক হওয়ার পর মামুনুল ইসলাম ঐ রিসোর্টেই ছিলেন। মামুনুল হককে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের রয়েল রিসোর্ট থেকে নিয়ে গেছেন তার সমর্থকরা।

মামুনুল হক অবরুদ্ধ থাকার সংবাদ শুনে কয়েকশ মানুষ রিসোর্টটির সামনে এসে জড়ো হয়। এ সময় তারা স্লোগান দিয়ে ভাঙচুর শুরু করে। পরে সেখান থেকে তাকে পাশের একটি মসজিদে নিয়ে যায় তারা।

এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) তবিদুর রহমান বলেন, রিসোর্টে হামলা চালিয়ে মামুনুল হককে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে হেফাজতের কর্মীরা।

এছাড়াও এরপর এক ভিডিওতে নিজেদের মধ্যে একান্তে সময় কাটাতে সোনারগাঁয়ের ওই রিসোর্টে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন মামুনুল হকের ওই 'দ্বিতীয় স্ত্রী'।

এতে নিজেকে ফরিদপুরের আলফাডাঙার আমিনা তৈয়ব  বলে পরিচয় দেন ওই নারী। আমিনা তৈয়ব বলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখতে দেখতে আমরা এদিকে এসেছি। জোহরের পর একটু রেস্ট নেওয়ার জন্য এখানে এসেছিলাম। লাঞ্চ করে একটু রেস্ট নিচ্ছিলাম। 

পরে জান্নাত আরার লিখা ডায়েরি থেকে বেরিয়ে আসে আরও তথ্য। আর্থিক দায়িত্ব নেওয়ার বিনিময়ে ২০১৯ সালের ২০শে ফেব্রুয়ারি কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরার সঙ্গে গোপন সম্পর্ককে চুক্তিভিত্তিক সম্পর্কে রূপ দেন রিসোর্ট কাণ্ডে আলোচিত হেফাজত নেতা মামুনুল হক। জান্নাতের তিনটি ডায়েরি অনুযায়ী তাদের মধ্যে চলতি বছরের ৬ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরাসরি বিয়ের তথ্য নেই।

আইনিউজ/এসডি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়