ঢাকা, সোমবার ২৪ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ৯ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩:০০, ১২ এপ্রিল ২০২১
আপডেট: ২৩:১১, ১২ এপ্রিল ২০২১

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ

মৃত্যুর মিছিল, দেশে ১২ দিনে লাশ হলেন ৭৭৬ জন

করোনায় মৃতের দাফন

করোনায় মৃতের দাফন

চীনের উহান শহর থেকে বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে। বাংলাদেশে এই ভাইরাস শনাক্ত হয় ২০২০ সালের ৮ মার্চ। সেই থেকে বাংলাদেশে ৯ হাজার ৮২২ জনের প্রাণহানি হয়েছে। তবে এর মধ্যে ৭৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে মাত্র ১২ দিনেই।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। এতে সংক্রমণ বৃদ্ধির পাশাপাশি বেড়েছে মৃত্যুও। স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী ১ এপ্রিল থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৭৭৬ জন মারা গেছেন।

তারিখ

মৃত্যু সংখ্যা

১ এপ্রিল

৫৯

২ এপ্রিল

৫০

৩ এপ্রিল

৫৮

৪ এপ্রিল

৫৩

৫এপ্রিল

৫২

৬ এপ্রিল

৬৬

৭ এপ্রিল

৬৩

৮ এপ্রিল

৭৪

৯ এপ্রিল

৬৩

১০ এপ্রিল

৭৭

১১ এপ্রিল

৭৮

১২ এপ্রিল

৮৩

মোট

৭৭৬

গত বছরের মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে দেশে করোনা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই রোগী শনাক্তের হার চলে যায় ২০ শতাংশের ওপর। পরবর্তীতে জুন মাসে সংক্রমণ তীব্র আকার ধারণ করে। তবে আগস্ট মাস থেকে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা কমতে থাকে। চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারিতে শনাক্তের হার নেমে আসে দুই দশমিক ৯২ শতাংশে।

কিন্তু মার্চের শুরু থেকে দেশে হঠাৎ করে বাড়তে শুরু করে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা। একই সাথে মৃত্যুর সংখ্যা। এখন তহ প্রতিদিনই মৃত্যুর নতুন নতুন রেকর্ড তৈরি হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, করোনা সংক্রমণের উচ্চ হার অব্যাহত থাকলে স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে পড়তে পারে।

দেশে আইসিইউ সংকট

করোনা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় দেশে আক্রান্তের পাশাপাশি বাড়ছে মুমূর্ষু রোগীর সংখ্যা। ফলে এদের চিকিৎসায় আইসিইউ বা ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের শয্যার সংকট দেখা দিয়েছে।

দেশে সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকা ৩১ জেলার মধ্যে ১৫ টিতেই নেই আইসিইউ। ফলে অনেক সময় জটিল রোগীকে পাঠাতে হয় অন্য জেলায়। এতে অনেক রোগী একেবারে শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে আসছেন। কিন্তু ততক্ষণে রোগী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

সংক্রমণ কেনো বাড়ছে?

শীতের সময়ে করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা করলেও বাংলাদেশে হয়েছে তার উল্টো। তাছাড়া যুক্তরাজ্য এবং দক্ষিণ আফ্রিকান করোনার নতুন ভেরিয়েন্ট  শনাক্ত হয়েছে দেশে। যা দ্রুতগতিতে ছড়াচ্ছে সংক্রমণ।

তাছাড়া সাম্প্রতিককালে অনেকের মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি না মানার, সামাজিক অনুষ্ঠানে যাবার প্রবণতা বাড়িয়ে তুলছে করোনার সংক্রমণ। তাছাড়া চলতি বছরের শুরুতে বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে যাওয়ার ধুম লেগেছিল মানুষের।

এ নিয়ে একবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছিলেন, ‘মানুষ যেভাবে কক্সবাজার যাচ্ছে, সিলেটে যাচ্ছে, যেভাবে সামাজিক অনুষ্ঠান হচ্ছে, মাস্ক পরার বালাই নাই, সামাজিক দূরত্বের বালাই নাই-সংক্রমণ তো বাড়বেই। হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে আগের তুলনায়।’

সংক্রমণ রোধে আটদিনের ‘কঠোর লকডাউন’

রোনাভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত কঠোর লকডাউন জারি করেছে সরকার। এই লকডাউনে সরকারি-বেসরকারি অফিস এবং গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। শুধুমাত্র শিল্প কারখানাগুলো এই আওতার বাইরে থাকবে।

পাশাপাশি বাজার-মার্কেট, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কেউই বাসার বাইরে বের হতে পারবেন না বলেও প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।

এখন দেখার বিষয় এই ‘কঠোর লকডাউন’ দেশের করোনা সংক্রমণ কিছুটা হলেও আটকাতে পারে কি না।  

আইনিউজ/এসডিপি

আরও পড়ুন:

বাংলাদেশে একদিনে মৃত্যুর নতুন রেকর্ড

লকডাউনে সাতদিনে যা করা যাবে, যা করা যাবে না

কঠোর লকডাউনে নেয়া যাবে করোনা টিকা, তবে....

বিধিনিষেধ মানাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ

আটদিনের কঠোর লকডাউনে বন্ধ থাকবে ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠান

লকডাউনে বন্ধ থাকবে সব রিকশাও

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়