Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, শুক্রবার   ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,   ফাল্গুন ৭ ১৪৩২

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭:৩৮, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২২

পাঁচ ভাইয়ের মৃত্যু : চালকের নেই লাইসেন্স, পিকআপ ফিটনেসবিহীন

পিকআপচালক সহিদুল ইসলাম

পিকআপচালক সহিদুল ইসলাম

কক্সবাজারের চকরিয়ায় বাবার শ্রাদ্ধ শেষে ফেরার পথে বেপরোয়া গতির পিকআপের চাপায় পাঁচ ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় পিকআপচালক সহিদুল ইসলাম ওরফে সাইফুলকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। এ নিয়ে শনিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলন করেন র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলেও দুই বছর ধরে পিকআপ, চান্দের গাড়ি চালিয়ে আসছিলেন সহিদুল ইসলাম। দুর্ঘটনার সময় ঘন কুয়াশার মধ্যে বেপরোয়া গতিতে পিকআপ চালাচ্ছিলেন তিনি। পরে মালিকের নির্দেশনায় আত্মগোপনে চলে যান।

এদিকে গত ৪ বছর ধরে ওই পিকআপের ফিটনেস, ট্যাক্স টোকেন নেই। আর গত তিন বছর ধরে রুটপারমিট মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল।  শুক্রবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে চালক সহিদুল ইসলাম ওরফে সাইফুলকে গ্রেফতার করা হয়। তার বাড়ি বান্দরবান। তিনি লামার আলী জাফরের ছেলে।

আরও পড়ুন- শাবির এমিরেটাস অধ্যাপক হতে ইচ্ছুক নন জাফর ইকবাল দম্পতি

খন্দকার আল মঈন বলেন, গত ৮ ফেব্রুয়ারি ভোরবেলা কক্সবাজারের চকরিয়ার মালুমঘাট নামক স্থানে একটি পিকআপের চাপায় চার সহোদর অনুপম সুশীল (৪৬), নিরুপম সুশীল (৪০), দীপক সুশীল (৩৫) ও চম্পক সুশীল (৩০) ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে  হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরেক সহোদর স্বরণ সুশীলের (২৪) মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন আরেক ভাই রক্তিম সুশীল ও বোন হীরা সুশীল। বর্তমানে রক্তিম সুশীল চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন।

কমান্ডার মঈন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চালক সাইফুল গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ঘটনার দিন ভোরে তারেক ও রবিউল নামের দুই ব্যক্তিকে নিয়ে চকরিয়া থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে সবজিবোঝাই পিকআপ নিয়ে তিনি রওনা হন। ঘন কুয়াশা থাকার পরও চালক সাইফুল দ্রুত কক্সবাজার পৌঁছে সবজি ডেলিভারি দেওয়ার জন্য বেপরোয়া গতিতে পিকআপটি চালাচ্ছিলেন।

ঘন কুয়াশা ও অতিরিক্ত গতির কারণে মালুমঘাট বাজারের নার্সারি গেটের সামনে রাস্তা পার হওয়ার জন্য অপেক্ষায় থাকাদের দেখতে পারেননি চালক সাইফুল। অধিক গতি থাকার কারণে কাছাকাছি এসে লক্ষ করলেও পিকআপটি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে দুর্ঘটনাটি ঘটান। এ সময় তার সঙ্গে মালিকের ছেলে তারেক ও ভাগিনা রবিউল ছিলেন।

আরও পড়ুন- শাবির ঘটনায় উপাচার্য ফরিদ উদ্দিনের দুঃখ প্রকাশ

সাইফুল র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় পিকআপটি ঘণ্টায় প্রায় ৬৫-৭০ কিলোমিটার গতিতে চলছিল। থামানোর জন্য ব্রেক করলেও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে পিকআপটি প্রায় ১০০ ফুটের মতো সামনে চলে যায়। পরে চালক পিকআপ থেকে নেমে নিহতদের দেখতে এলেও মালিকের ছেলে তারেকের নির্দেশে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

র‍্যাব জানিয়েছে, সাইফুলের কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলেও দীর্ঘ দুই বছর ধরে তিনি পিকআপ, চাঁদের গাড়ি ও তিন টনের ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যান চালানোর কাজে নিয়োজিত ছিলেন। ঘটনার এক সপ্তাহ আগে তিনি পিকআপটি মালিকের কাছ থেকে দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরিতে চালানো শুরু করেন। ইতোপূর্বে তিনি বান্দরবানের লামাতে একটি রাবার বাগানে চাকরি করতেন।

আরও পড়ুন- করোনায় আরও ২০ মৃত্যু, শনাক্ত ছাড়াল ১৯ লাখ

দুর্ঘটনার পর সাইফুল মালুমঘাট বাজারের একটি স্থানে পিকআপ থামিয়ে মালিককে কল করে বিষয়টি জানায়।  মালিক তাকে পিকআপটি পরের কোনো এক স্টপেজে রেখে লোকাল বাসে করে তার সঙ্গে দেখা করতে বলেন। মালিকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সাইফুল ডুলাহাজরায় এসে পিকআপটি রাখেন এবং লোকাল বাসে করে চকরিয়া গিয়ে মালিকের সঙ্গে দেখা করেন। মালিকের পরামর্শে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন শেষে ঢাকায় আসেন এবং রাজধানীর মোহাম্মদপুর বাস স্ট্যান্ড এলাকা থেকে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন।

পিকআপের মালিক চকরিয়ার মাহামুদুল করিম সবজি পরিবহনের ব্যবসা করেন। তিনি চকরিয়ার সবজির আড়ৎ থেকে কক্সবাজার সদর ও মহেশখালী এলাকায় সবজি সরবরাহ করতেন। তার ছেলে তারেক সবজি সরবরাহের তদারকি করতেন এবং ভাগিনা রবিউল তারেকের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। 

২০১৬ সালে তিনি পিকআপটি কেনেন। গত চার বছর ধরে পিকআপের ফিটনেস ও ট্যাক্স টোকেন এবং গত তিন বছর ধরে রুট পারমিট মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল। দুর্ঘটনার পর পিকআপের মালিক, তার ছেলে তারেক ও ভাগিনা রবিউল আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

এ ঘটনার সঙ্গে কোনো পূর্ব শত্রুতার কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না – জানতে চাইলে কমান্ডার মঈন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এমন কোনো তথ্য মেলেনি। ঘন কুয়াশা ও অতিরিক্ত গতির কারণে চালক সাইফুল সামনের কাউকে দেখতে পারেননি। অধিক গতির কারণে কাছাকাছি এসেও ব্রেক করে পিকআপটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। সাইফুলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

আইনিউজ/এসডিপি 

আইনিউজ ভিডিও 

পোষ মানাতে হাতির বাচ্চাকে নির্মম প্রশিক্ষণ

হাতির আক্রমণে হাতি হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু 

মানুষ হত্যা করেছে মা হাতিকে, দুধের জন্য কাঁদছে বাচ্চা হাতিটি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়