ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৭ জুলাই ২০২২,   আষাঢ় ২৩ ১৪২৯

আইনিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:১০, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২
আপডেট: ২০:০৬, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২

গাড়ি পানিতে পড়ে ডুবে গেলে বাঁচার উপায় কী

প্রতিদিন খবরের পাতায় চোখ বুলালে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সড়ক দূর্ঘটনা্র খবর পাওয়া যায়। এসব দূর্ঘটনার মধ্যে অন্যতম হলো গাড়ি পানিতে ডুবে যাত্রীর মৃত্যু।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে এক গাড়ি দুর্ঘটনায় পাঁচজন মানুষ মারা গেছেন। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের এক পুকুরে পানিতে পড়ার পর গাড়িটির কোন যাত্রীই বের হতে পারেননি, ফলে সব কজন মানুষ পানিতে ডুবে মারা গেছেন।

পুলিশ বলছে, কুমিল্লায় এক বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে ফিরছিলেন তারা।

বাংলাদেশে এ ধরণের সড়ক দুর্ঘটনা বিরল নয়। সাবেক অর্থমন্ত্রী এবং বিএনপি নেতা সাইফুর রহমান এরকম এক দুর্ঘটনাতেই মারা গিয়েছিলেন।

২০০৯ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর সালে সিলেট থেকে ঢাকা আসার পথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কাছে তাঁকে বহনকারী গাড়িটি দুর্ঘটনার শিকার হয়।

২০০৯ সালের ওই দুর্ঘটনায় মি. রহমানের ব্যক্তিগত গাড়িটি উল্টে সড়ক সংলগ্ন খাদের পানিতে পড়ে যায়, যেটি পাঁচ-ছয় ফুট গভীর ছিল।

কিন্তু তাঁর সীট-বেল্ট বাঁধা থাকায় এবং গাড়ির দরজা লক করা থাকায় তাঁকে বের করা যায়নি।

ফলে এক সময়ের প্রবল প্রতাপশালী একজন অর্থমন্ত্রী স্রেফ পানিতে ডুবে মারা গিয়েছিলেন।

ওই ঘটনায় মি. রহমানের সাথে তার চালকও মারা গিয়েছিলেন।

কিন্তু কোন যানবাহন পানিতে পড়লে বাঁচার কোন উপায় কি আছে?

বাংলাদেশে প্রতিদিনই ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা এবং তাতে বহু মানুষ মারা যাচ্ছেন।

এজন্যে চালকের অদক্ষতা ও অসাবধানতা, সড়কে বিপজ্জনক বাঁক, এবং আইনের ফাঁকফোকর এমন নানাবিধ বিষয়কে চিহ্নিত করেন বিশ্লেষকেরা।

পানিতে ডুবে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা না করে কিছু কি করার আছে একজন যাত্রীর?

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক আরমানা সাবিহা হক বলছেন, সাধারণত এ ধরণের দুর্ঘটনায় মানুষ ভীষণ আতংকিত হয়ে যান, আর এ কারণে বাঁচার উপায় সম্পর্কে যুক্তিসংগত চিন্তা করতে পারেন না অনেকেই।

তিনি বলছেন, "এ ধরণের দুর্ঘটনায় প্রথমেই মনে রাখতে হবে যে আপনার হাতে সময় খুব কম, যে সময় আছে সে টুকুর সর্বোচ্চ ব্যবহার করার কথা ভাবতে হবে।"

তার পরামর্শের ভিত্তিতে এ ধরণের দুর্ঘটনায় কয়েকটি করণীয় সম্পর্কে নিচে বর্ণনা করা হলো:

আতংকিত হওয়া যাবে না। এ ধরণের পরিস্থিতিতে আতংকিত হওয়াই স্বাভাবিক, তবে চেষ্টা করুন শান্ত থাকতে।

সময় ক্ষেপণ করা যাবে না। পানিতে গাড়ি ডুবে যাচ্ছে, এটা খুবই বিপজ্জনক পরিস্থিতি, কিন্তু মনে রাখতে হবে আপনার হাতে মাত্র ৩০ থেকে ১২০ সেকেন্ড সময় আছে। এর মধ্যেই দ্রুত করণীয় ঠিক করে ফেলতে হবে। গাড়ি থেকে বের হবার আগে সাহায্য চেয়ে ফোন দেয়ার দরকার নেই, কারণ দুর্ঘটনাস্থলে তাৎক্ষনিক সাহায্য এসে পৌঁছানোর সম্ভাবনা এক্ষেত্রে খুব কম। ততক্ষণে বরং আপনার মূল্যবান সময় নষ্ট হবে।

দ্রুত সিট-বেল্ট খুলে ফেলতে হবে। বাস বা অন্য কোন যানবাহনে থাকলে যেখানে সিট-বেল্ট নেই সেখানে প্রথমেই জানালা খুলে ফেলতে হবে।

গাড়ি পানিতে ডুবে গেলে প্রথমেই গাড়িটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে লকড হয়ে যায়। চেষ্টা করুন গাড়ি আনলক করে দ্রুত বেরিয়ে যাবার। দরজা খুলতে না পারলে জানালা দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন।

গাড়ির কাঁচ নামাতে না পারলে জানালা ভাঙতে হবে। সাধারণত গাড়ির কাঁচ খুব মজবুত হয়, হালকা কিছুর আঘাতে সেটি ভাঙবে না। চালকের আসনের পাশের আসনটির হেডরেষ্টের সাথে ইস্পাতের একটি ছোট রড থাকে, যা গ্লাস-ব্রেকিং হ্যামার নামে পরিচিত, সেটি দিয়ে গাড়ির কাঁচ ভাঙা যায়। সেটি খুঁজে না পেলে হাতের কাছে শক্ত কোন কিছু দিয়ে চেষ্টা করুন কাঁচ ভাঙার। কিছু না পেলে লাথি দিয়েও চেষ্টা করতে পারেন।

পানিতে ডুবে গেলে চেষ্টা করবেন যেন কোনভাবেই যেন নাক-মুখ দিয়ে পানি না ঢুকে। দমবন্ধ করে আটকে রাখুন।

সাথে শিশু থাকলে তাদের আগে গাড়ি থেকে বের করুন। জানালা বা দরজা যেখান দিয়েই বের হন, দ্রুত সাঁতরে ওপরে উঠে যান। পানির বুদবুদ খেয়াল করুন। বুদবুদ দেখেই আপনি ওপরে যাওয়ার পথ বুঝতে পারবেন।

তথ্যসূত্র : বিবিসি

আইনিউজ/এমজিএম

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়