ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৭ জুলাই ২০২২,   আষাঢ় ২৩ ১৪২৯

শিল্প ও সাহিত্য ডেস্ক:

প্রকাশিত: ১৩:১৭, ১১ জুন ২০২২

রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম: নজরুলের অনুবাদ

খেজুর গাছের মতই ওমর খৈয়াম নিজের কবিতায় রস দান করেছেন, নিজের হৃদপিণ্ডকে বিদীর্ণ করে ৷ এ রস মিষ্টি হলেও চোখের পানির মতোই নোনা। খেজুর গাছের রস যেমন তার মাথা চেঁছে বের করতে হয়, ওমর খৈয়ামের রুবাইয়াতও তেমনি বেরিয়েছে তার মস্তিষ্ক থেকে ৷ প্রায় হাজার বছর আগে এত বড় জ্ঞানমার্গী কবি কি করে জন্মালো বিশেষ করে ইরানের মতো অনুভূতিপ্রবণ দেশে, তা ভেবে অবাক হতে হয় ৷ ওমরকে দেখে মনে হয় ঊনবিংশ শতাব্দীর কবিও বুঝি এতোটা আধুনিক হতে পারেন না ৷

ওমরের কবিতার পূর্ণ রস, স্বাদ ঠিক রেখে সেগুলোকে অনুবাদ করেছেন আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। 


রাতের আঁচল দীর্ণ করে আসলো শুভ ঐ প্রভাত 
জাগো সাকি! সকালবেলার খোয়ারি ভাঙো আমার সাথ।
ভোলো ভোলো বিষাদ-স্মৃতি! এমনি প্রভাত আসবে ঢের, 
খুঁজতে মোদের এইখানে ফের, করবে করুণ নয়নপাত। 


আঁধার অন্তরীক্ষ বুনে যখন রুপার পাড় প্রভাত, 
পাখির বিলাপ-ধ্বনি কেন শুনি তখন অকস্মাৎ! 
তারা যেন দেখতে বলে উজল প্রাতের আরশিতে- 
ছন্নছাড়া তোর জীবনের কাটলো কেমন একটি রাত। 


ঘুমিয়ে কেন জীবন কাটাস? কইল ঋষি স্বপ্নে মোর, 
আনন্দ-গুল প্রস্ফুটিত করতে পারে ঘুম কি তোর। 
ঘুম মৃত্যুর যমজ ভ্রাতা, তার সাথে ভাব করিসনে, 
ঘুম দিতে ঢের পাবি সময় কররে তোর জনম ভোর। 


আমার আজের রাতের খোরাক তোর টুকটুক শিরিন ঠোঁট, 
গজল শোনাও, শিরাজি দাও, তন্বী সাকি জেগে ওঠ! 
লাজ-রাঙা তোর গালের মতো দে গোলাপি রঙ শারাব, 
মনে ব্যথার বিনুনি মোর খোঁপায় যেমন তোর চুনোট। 


প্রভাত হলো। শারাব দিয়ে করব সতেজ হৃদয়-পুর,
যশোখ্যাতির ঠুনকো এ কাঁচ করবো ভেঙে চাখনাচুর। 
অনেক দিনের সাধ ও আশা এক নিমিষে করবো ত্যাগ, 
পরব প্রিয়ার বেণী বাঁধন, ধরবো বেণুর বিধুর সুর। 

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়