ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৪ মে ২০২৬,   বৈশাখ ৩০ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬:৪১, ২ সেপ্টেম্বর ২০২১
আপডেট: ১৮:৪৬, ২ সেপ্টেম্বর ২০২১

মা ও বোনের কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত ক্যাপ্টেন নওশাদ

মা নাসিমুস সুবা মুকুল ও তার বোন রাবেয়া খাতুন মিমুর কবরে চিরনিদ্রায় শায়িৎ হলেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাইলট ক্যাপ্টেন নওশাদ আতাউল কাইয়ুম। বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ৩টা ১৫মিনিটে বনানী কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, এক বছর বয়সে ১৯৮০ সালে মারা যান তার বোন রাবেয়া। ওই বোনের কবরে ২০১২ সালে তার মাকেও সমাহিত করা হয়। আর আজ তাদের কবরে নওশাদকে সমাহিত করা হলো।

নওশাদের বাবার বন্ধু ক্যাপ্টেন আব্দুল মাজিদ বলেন, আজকে বিকের ৩টায় বনানী কবরস্থানে তার দ্বিতীয় জানাজা হয়েছে। জানাজা শেষে তার মায়ের কবরে সমাহিত করা হয়।

নওশাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শেষ মুহূর্তে আসেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস। তিনি বলেন, ওর জানাজায় অংশ নিতে পারিনি। তাই এখানে আসছি।

ক্যাপ্টেন নওশাদের মরদেহ ফ্লাইট থেকে নামিয়ে আনেন তার সহকর্মীরা 

বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা ১০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-০২৬ ফ্লাইটে ক্যাপ্টেন নওশাদ আতাউল কাইউমের মরদেহ ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।

নওশাদের মরদেহ বহনকারী ফ্লাইটটি রানওয়েতে অবতরণের আগে সেখানে উপস্থিত ছিলেন সহকর্মী পাইলটরা। প্রয়াত সহকর্মীর মরদেহ ফ্লাইট থেকে নিজেরাই নামিয়ে আনেন। 

গত ৩০ আগস্ট দুপুরে মারা যান ক্যাপ্টেন নওশাদ। পরে তার মরদেহ নাগপুরের কিংসওয়ে হাসপাতালের মর্চুয়ারিতে ছিল।

 

গত ২৭ আগস্ট সকালে ওমানের মাস্কাট থেকে শতাধিক যাত্রী নিয়ে বিজি-২২ ফ্লাইটটি নিয়ে ঢাকা আসার পথে ভারতের আকাশে থাকা অবস্থায় ক্যাপ্টেন নওশাদ অসুস্থ বোধ করেন। পরবর্তীতে বিমানটিকে মহারাষ্ট্রের নাগপুরের ড. বাবাসাহেব আম্বেদকর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়।\

ক্যাপ্টেন নওশাদকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন সহকর্মীরা 

আকাশে অসুস্থ হয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ক্যাপ্টেন নওশাদ কলকাতার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের কাছে জরুরি অবতরণের অনুরোধ জানান। একই সময় তিনি কো-পাইলটের কাছে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করেন।

কলকাতার এয়ার ট্রাাফিক কন্ট্রোল কাছের নাগপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করার নির্দেশ দিলে কো-পাইলটই বিমানটিকে অবতরণ করান। দ্রুত বিমানের পাইলটকে নাগপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।

রোববার রাতে নাগপুরের কিংসওয়ে হাসপাতালে যান ক্যাপ্টেন নওশাদ আতাউল কাইয়ুমের দুই বোন। তারা চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে ক্যাপ্টেন নওশাদের ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা চালু রাখার পক্ষে মত দেন। পরে সোমবার ক্যাপ্টেনের পরিবারের সামনে তার ভ্যান্টিলেশন খুলে দেয়া হয়। 

আইনিউজ/এসডিপি 

ছয় মাস আগে ক্যাপ্টেন নওশাদের পাইলট বাবাও মারা যান ভারতে

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়