Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, শনিবার   ২৮ মার্চ ২০২৬,   চৈত্র ১৪ ১৪৩২

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০:৫৫, ২৫ অক্টোবর ২০২২

আংশিক সূর্যগ্রহণ আজ, বাংলাদেশে দেখা যাবে কোথায়?

সূর্যগ্রহণ

সূর্যগ্রহণ

আংশিক সূর্যগ্রহণ হবে আজ মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর)। আকাশ পরিষ্কার থাকলে সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে বাংলাদেশেও। মঙ্গলবার দুপুরে শুরু হয়ে গ্রহণ চলবে সন্ধ্যা পর্যন্ত।

আবহাওয়া অধিদফতরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আংশিক সূর্যগ্রহণ শুরু হবে ২৫ অক্টোবর দুপুর ২টা ৫৫ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে। বিকেল ৫টা ১২ সেকেন্ডে হবে সর্বোচ্চ গ্রহণ। সন্ধ্যা ৭টা ২ মিনিট ১২ সেকেন্ডে এটি শেষ হবে।

ঢাকায় ৪টা ৪৯ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে সূর্যগ্রহণ শুরু হবে। শেষ হবে ৫টা ২৪ মিনিট ১২ সেকেন্ডে।

ময়মনসিংহে ৪টা ৪৮ মিনিট ১৮ সেকেন্ডে শুরু হবে, শেষ হবে ৫টা ২৩ মিনিটে। চ

ট্টগ্রামে শুরু হবে ৪টা ৪৫ মিনিট ১৮ সেকেন্ডে, শেষ হবে বিকেল ৫টা ২০ সেকেন্ডে।

সিলেটে শুরু হবে ৪টা ৪২ মিনিট ১৮ সেকেন্ডে, শেষ হবে ৫টা ১৭ মিনিট ১৭ সেকেন্ডে।

খুলনায় সূর্যগ্রহণ শুরু হবে ৪টা ৫৪ মিনিট ৬ সেকেন্ডে, শেষ হবে ৫টা ২৮ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে।

বরিশালে ৪টা ৫০ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে শুরু হয়ে ৫টা ২৫ মিনিট ১৮ সেকেন্ডে শেষ হবে।

রাজশাহীতে শুরু হবে ৪টা ৫৫ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে, শেষ হবে ৫টা ৩০ মিনিট ১৮ সেকেন্ডে।

রংপুরে শুরু হবে ৪টা ৫২ মিনিট ৬ সেকেন্ডে, ৫টা ২৬ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডে শেষ হবে।

সূর্যগ্রহণ কী?
চাঁদ যখন পরিভ্রমণরত অবস্থায় কিছু সময়ের জন্য পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে পড়ে, তখন পৃথিবীর কোন দর্শকের কাছে সূর্য আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে অদৃশ্য হয়ে যায় (কিছু সময়ের জন্য)। এই ঘটনাকে সূর্যগ্রহণ বলা হয়। অমাবস্যার পরে নতুন চাঁদ উঠার সময় এ ঘটনা ঘটে।

পৃথিবীতে প্রতি বছর অন্তত দুই থেকে পাচঁটি সূর্যগ্রহণ পরিলক্ষিত হয়। সূর্যগ্রহণ মূলত ২-৩ মিনিট স্থায়ী হয়।

চন্দ্রগহণ কী?
চাঁদ যেমন পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরছে তেমন পৃথিবীও সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। এইভাবে একটা সময় চাঁদ, সূর্য, পৃথিবী ঘুরতে ঘুরতে এক সরলরেখায় আসে। যখন এই সরলরেখায় পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্যের মধ্যে আসে, তখন পৃথিবীর ছায়ার জন্য চাঁদে সূর্যের আলো পৌঁছায় না, ফলে চাঁদকে তখন কিছু সময়ের জন্য দেখা যায় না।

অর্থাৎ পৃথিবী পৃষ্ঠের কোন দর্শকের কাছে চাঁদ আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে কিছু সময়ের জন্য অদৃশ্য হয়ে যায়। তখন একে সংক্ষেপে চন্দ্রগ্রহণ বলে।এই সময় পৃথিবী, সূর্যকে আংশিক ঢেকে নিলে পৃথিবীর জন্য চাঁদকে আংশিক দেখা যায় না একে আংশিক চন্দ্রগ্রহণ বলে।  চন্দ্রগ্রহণের স্থায়ীত্ত্ব ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে।

পূর্ণ সূর্যগ্রহণ কীভাবে হয়?
সূর্যের পূর্ণগ্রাস গ্রহণ ঘটে যখন সূর্য, পৃথিবী এবং চাঁদ এমন অবস্থানে আসে যখন চাঁদ সূর্যের আলোকে সম্পূর্ণভাবে ঢেকে দেয়। তখন কয়েক সেকেন্ডের জন্য (কখনও কখনও এমনকি কয়েক মিনিটের জন্যও) আকাশ এতই অন্ধকার হয়ে যায় যে মনে হয় সেটা রাতের আকাশ।

নাসার মতে মহাজাগতিক একটা সমন্বয় ঘটলেই একমাত্র সূর্যের পূর্ণ গ্রহণ সম্ভব হয় সূর্য চাঁদের তুলনায় ৪০০ গুণ চওড়া এবং চাঁদ পৃথিবী থেকে যত দূরে, সূর্য তার চেয়ে আরও ৪০০ গুণ বেশি দূরে। এই ভৌগলিক অবস্থানের অর্থ হল, চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবী যখন একই লাইনে একেবারে সঠিক জায়গায় এসে পৌঁছয়, তখন সূর্য পুরোপুরি ঢেকে যায় এবং সূর্যের পূর্ণগ্রাস গ্রহণ বা পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হয়।

পৃথিবী পৃষ্ঠে যে লাইন বরাবর চাঁদের ছায়া পড়ে তাকে বলা হয় "পূর্ণ গ্রাসের পথ"। আর এই ছোট পথের মধ্যেই পুরো অন্ধকার নেমে আসার চোখ ধাঁধানো প্রক্রিয়াটি দেখা যায়। যে অংশে আলোর উৎস পুরো ঢেকে যায়, ছায়ার সেই ঘন অন্ধকারাচ্ছন্ন অংশকে লাতিন ভাষায় বলে 'আমব্রা'।

এই পথের দুপাশে কয়েক হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত গ্রহণ দেখা যায় আংশিকভাবে। পুরো অন্ধকারে ঢেকে যাবার এই পথ থেকে পৃথিবীতে আপনার অবস্থান যত দূরে হবে, তত আপনি দেখবেন সূর্যের অপেক্ষাকৃত ছোট অংশ চাঁদে ঢাকা পড়েছে। আর গ্রহণ কতক্ষণ থাকবে সেটা নির্ভর করে, সূর্য থেকে পৃথিবীর অবস্থান, পৃথিবী থেকে চাঁদের অবস্থান আর পৃথিবীর কোন্ অংশ অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছে তার ওপর

আমরা অনেক সময় ভাবি সূর্যগ্রহণ বেশ বিরল একটা প্রক্রিয়া। তা কিন্তু নয়। প্রতি প্রায় ১৮ মাস অন্তর সূর্যগ্রহণ হয়। যেটা আসলে খুবই বিরল সেটা হল একই স্থান থেকে সূর্যের পূর্ণগ্রাস গ্রহণ দেখতে পাওয়া। ঠিক একই জায়গা থেকে সূর্যের পূর্ণ গ্রহণ দেখা যায় গড় হিসাবে প্রতি ৩৭৫ বছরে একবার।

পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ যেভাবে হয়
পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ এবং সূর্য পৃথিবীর দুই পাশে ঠিক এক লাইনে অবস্থান করে। যদিও পৃথিবীর ছায়া চাঁদকে ঢেকে ফেলে- নাসা বলছে- চাঁদের ওপর সূর্যরশ্মির কিছুটা গিয়ে পড়ে। চাঁদে পৌঁছনর জন্য ওই সূর্যরশ্মিকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ভেতর দিয়ে যেতে হয়। এই যাবার পথে সূর্যের নীল রশ্মির বেশিটাই বায়ুমণ্ডলে শোষিত হয়ে যায়। ফলে এই প্রক্রিয়ার সময় চাঁদকে দেখায় লাল এবং এই রক্তিম চাঁদকে অনেকসময় নাম দেয়া হয় ব্লাড মুন।

আইএসি বলছে, চাঁদের ব্যাসের চেয়ে আমাদের গ্রহের ব্যাস চারগুণ বড়, ফলে পৃথিবীর ছায়ার পরিধিও অনেক বেশি। তাই পুরো চন্দ্রগ্রহণের প্রক্রিয়া অনেক লম্বা সময় ধরে চলে - ১০৪ মিনিট পর্যন্ত এটা চলতে পারে।

এই পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ আমরা দেখেছি এবছর ২০২১এর ২৬শে মে তারিখে, দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিমাঞ্চলে, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া বা আমেরিকার পশ্চিমাঞ্চলে। সেদিন যাদের আকাশ পরিষ্কার ছিল তাদের মে মাসের পূর্ণিমার অতিকায় চাঁদ যার নাম "সুপার ফ্লাওয়ার ফুল মুন" প্রায় ১৪ মিনিট স্থায়ী সেটির পূর্ণগ্রাস গ্রহণ দেখার সুযোগ হয়েছিল।

এর পরের ''ব্লাড মুন" বা অতিকায় লাল চাঁদ দেখা যাবে ২০২২ সালের ১৫-১৬ মে তারিখে এবং এটা সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা এবং কুমেরু অঞ্চল থেকে।

আইনিউজ/এইচএ

আইনিউজে আরও পড়ুন-

বিশ্বের মজার মজার গল্প আর তথ্য সম্বলিত আইনিউজের ফিচার পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

দেখুন আইনিউজের ভিডিও গ্যালারি

দিনমজুর বাবার ছেলে মাহির বুয়েটে পড়ার সুযোগ || BUET success story of Mahfujur Rhaman || EYE NEWS

হানিফ সংকেত যেভাবে কিংবদন্তি উপস্থাপক হলেন | Biography | hanif sanket life documentary | EYE NEWS

আশ্চর্য এন্টার্কটিকা মহাদেশের অজানা তথ্য | Antarctica continent countries | facts। Eye News

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়