Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, শনিবার   ১৪ মার্চ ২০২৬,   ফাল্গুন ৩০ ১৪৩২

হেলাল আহমেদ, আই নিউজ

প্রকাশিত: ১৬:০১, ১০ জুন ২০২৩

২৬ হাজার টন কয়লা নিয়ে বাংলাদেশে চীনা জাহাজ 

তীব্র তাপপ্রবাহের মাঝেই বাংলাদেশ কয়লা সঙ্কটের দরুণ চলছে তীব্র বিদ্যুৎ সঙ্কটও। একাধিক বিদ্যুতকেন্দ্রে কয়লার অভাবে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই সঙ্কট দেখ দিয়েছে। ফলে সারাদেশেই তাপপ্রবাহের মাঝে মানুষ হাঁসফাঁশ করছেন বিদ্যুতের অভাবে। এর মাঝেই আজ শনিবার ২৬ হাজার টন কয়লা নিয়ে বাংলাদেশের মোংলা বন্দরের হাড়বাড়ীয়ায় ভিড়েছে একটি চীনা পতাকাবাহী জাহাজ। 

জাহাজের কয়লাগুলো বাগেরহাটের রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য নিয়ে আসা হয়েছে বলে জানিয়েছে কতৃপক্ষ।  

এমভি জে হ্যায় জাহাজের স্থানীয় শিপিং এজেন্ট টগি শিপিং অ্যান্ড লজিস্টিক লিমিটেডের খুলনার সহকারী ব্যবস্থাপক খন্দকার রিয়াজুল হক জানান, রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য আমদানি করা ২৬ হাজার ৬২০ টন জ্বালানি কয়লা নিয়ে চায়না পতাকাবাহী এ জাহাজটি গত ২১ মে মোংলা বন্দরের উদ্দেশে ইন্দোনেশিয়া থেকে ছেড়ে আসে। 

ইন্দোনেশিয়া থেকে যাত্রা শুরুর ১৯ দিনের মাথায় জাহাজটি শুক্রবার রাতে মোংলা বন্দরের ফেয়ারওয়ে বয়ায় এসে পৌঁছায়। এরপর সেখান থেকে জাহাজটি শনিবার ভোর ৫টার দিকে বন্দরের পশুর চ্যানেলের হাড়বাড়ীয়ার ১১ নম্বর অ্যাংকোরেজে ভিড়েছে।

তিনি আরো জানান, এরই মধ্যে শনিবার সকাল থেকেই শুরু হয়েছে কয়লা খালাস ও পরিবহনের কাজ। খালাস করা কয়লা লাইটারেজে করে নেয়া হচ্ছে রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেটিতে। জেটির নিজস্ব গ্রাস্পের (কামড়ীকল) মাধ্যমে পরিবহণের (নৌযান/লাইটারেজ থেকে) কয়লা উত্তোলন করে স্বয়ংক্রিয় বেল্টের মাধ্যমে তা সংরক্ষণ করা হচ্ছে কেন্দ্রটির কয়লার শেডে বা গোডাউনে।

এর আগে গত ১৬ মে মোংলা বন্দর হয়ে রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে এসেছিল বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এম.ভি বসুন্ধরা ইমপ্রেসে ৩০ হাজার টন ও ২৯ মে এম.ভি বসুন্ধরা ম্যাজেস্টি জাহাজে ৩০ হাজার ৫০০ টন কয়লা।

বারবার লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত মানুষ  
এদিকে কয়লার অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যহত হওয়ায় তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে লোডশেডিং নিয়ে নিজেদের মতামত উগরে দিচ্ছেন তারা। অনেকেই সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের অনিয়ম নিয়ে অভিযোগ করছেন। 

এদিকে এই লোডশেডিং অবস্থা আরও অন্তত ২ সপ্তাহ থাকবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।  গেল রোববার (৪ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

নসরুল হামিদ বলেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে আমরা দুই মাস আগে থেকে চেষ্টা করেছি। কিন্তু সার্বিকভাবে আমাদের অনেক কিছুই দেখতে হয়। অর্থনৈতিক একটা বিষয় আছে। তেল ও গ্যাসের যোগানের বিষয় আছে।

যে কারণে কয়লা সঙ্কট 
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের নানা গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য বলছে, সময়মতো কয়লার বকেয়া বিল ডলারে পরিশোধ করতে না পারায় একাধিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করে দিতে হয়েছে সরকারকে। এর মধ্যে বিশেষ করে পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র উল্লেখযোগ্য। কেননা, এটি দেশের সবচেয়ে সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্র। 

কর্তৃপক্ষ বলছে, বকেয়ার প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধের পর নতুন করে এলসি খুললেও কয়লা আসতে সময় লাগবে অন্তত তিন সপ্তাহ। ফলে অন্তত আগামী ২১ দিন বন্ধ থাকবে দেশের সবচেয়ে সাশ্রয়ী এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি।

বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্ল্যান্ট ম্যানেজার শাহ আব্দুল মওলা বলেন, এটা অত্যন্ত দুঃক্লহের বিষয় যে আমাদের একটা প্ল্যান্ট অলরেডি বন্ধ হয়ে গেছে। আরেকটা প্ল্যান্টও বন্ধ হয়ে যাবে ৩-৪ তারিখের মধ্যে। প্ল্যান্ট বন্ধ হলেও ৫-২৫ তারিখ পর্যন্ত রুটিন মেইনটেনেন্স আমরা অবশ্যই করবো।

পায়রায় দৈনিক কয়লার চাহিদা ছিলো ১২ হাজার টন। ডলার সঙ্কটে বেইজিং থেকে এলসি খুলে কয়লা এনে দিতো প্রকল্পের অংশীদার চীনা কোম্পানি। শর্ত ছিলো, ছয় মাসের মধ্যে সুদসহ তা শোধ করতে হবে। দশ মাস পেরিয়ে গেলেও তা পরিশোধ না হওয়ায় বন্ধ হয় কয়লা পাঠানো। মোট বকেয়া ৩৯০ মিলিয়ন ডলারের বিপরীতে ৩১ মে পর্যন্ত শোধ হয়েছে ৮৮ মিলিয়ন। ফলে, ফের এলসি খুলে ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা পাঠাচ্ছে চীনা অংশীদার সিএমসি।

কয়লার মজুদ নিয়ে যা ভাবছে সরকার
সাম্প্রতিক সময়ে কয়লার দাম সর্বনিম্ন। বর্তমান বাজারে প্রতি ইউনিটে জ্বালানি খরচ পড়তো সাড়ে পাঁচ টাকার মতো। যদিও কম দামের সে সুবিধা নিতে পারলো না সরকার। নতুন করে কয়লা আসলে নিয়মিত উৎপাদনের পাশাপাশি অন্তত দেড় মাসের মজুদও রাখার পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষের।

বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক খোরশেদুল আলম আরও বলেন, ৫০ দিনের রিজার্ভ রাখার চেষ্টা করবো কারণ আমাদের কয়লার কোনো রিজার্ভ নেই।

লোডশেডিং নিয়ে রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্ক
বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে বারবার লোডশেডিং এবং কয়লা সঙ্কটের বিষয়টিকে ইস্যু করে সরব হয়ে উঠেছে সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। এর মধ্যে প্রধান বিরোধী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) উল্লেখযোগ্য। 

বিএনপির নেতৃবৃন্দ বলছেন- বর্তমান সরকারের অদক্ষতার খেসারত দিতে হচ্ছে দেশের জনগণকে। তারা বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা সঙ্কট এবং বিল পরিশোধ করতে না পারার জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দুর্নীতিকে দায়ী করছেন। 

যদিও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা একাধিক সভায় বলেছেন- বিএনপি এসব বলে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তাছাড়া, এই লোডশেডিং অবস্থা প্রায় নিঃশেষ হয়ে যাওয়া বিএনপির আশার প্রদীপ আবারও জ্বালাতে সাহায্য করছে বলেও মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামী দশ থেকে পনেরো দিনের মধ্যে দেশে বিদ্যুতের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা হবে। তাছাড়া, সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সঙ্কটের কারণে বারবার লোডশেডিং এর জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি দুঃখপ্রকাশও করেছেন। 

আই নিউজ/এইচএ 

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়