ঢাকা, সোমবার ২৪ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ৯ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯:২৯, ২৭ এপ্রিল ২০২১
আপডেট: ১৯:৪৭, ২৭ এপ্রিল ২০২১

বাবুনগরীর ছেলের বিয়েতে শফীকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা হয়েছিলো

সদ্য বিলুপ্ত হওয়া হেফাজতে ইসলামের কমিটির আমির জুনায়েদ বাবুনগরীর ছেলের বিয়েতেই আল্লামা শফীকে 'সরিয়ে দেওয়া'র পরিকল্পনা করা হয়েছিলো। বিয়েতে এক বৈঠকে মামুনুল হক, জুনায়েদ আল হাবিবসহ কয়েকজন নেতার বৈঠক হয়। এই বৈঠকেই শফীকে সরিয়ে বাবুনগরীকে আমির করার সিদ্ধান্ত নেয় তারা।

মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ঢাকা মেট্রোপলিটর পুলিশের (ডিএমপি) সদর দফতরে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার এ কথা জানান।

গোয়েন্দা পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, হেফাজতে ইসলামের অর্থের যোগানদাতা হিসেবে ৩১৩ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া মামুনুলের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৬ কোটি টাকার লেনদেনের তথ্যও পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত...

ধর্মীয় সংগঠন বলেই পরিচয় দিতো হেফাজতে ইসলাম। কিন্তু এর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের অধিকাংশই ছিলেন রাজনৈতিকভাবে উচ্চাভিলাষী। প্রতিষ্ঠার পর এতটা চাপের মুখে পড়েনি কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক কথিত অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। এমনকি ২০১৩ সালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে মতিঝিলের শাপলা চত্বর ছাড়ার পরও এত ধরপাকড় এবং সরকারের রোষানলে পড়েনি সংগঠনটি। 

কোনো উপায় না পেয়ে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছেন সংগঠনটির আমির জুনায়েদ বাবুনগরী। এ বিষয়ে বিস্তারিত...

কমিটি বিলুপ্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পাঁচ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হলেও এই ধাক্কা হেফাজতে ইসলামকে অনেকটা অস্তিত্ব সংকটে ফেলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা এখন কোনো রকম অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে চান বলে জানিয়েছেন হেফাজতের নেতারা। 

সংগঠনটির নেতারা দেশের বড় বড় পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতেন। এমনকি হেফাজতে ইসলামকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের পরিকল্পনাও করছিলেন তারা। এ বিষয়ে বিস্তারিত...

এর অংশ হিসাবে নানা কৌশলে দেশের বাইরে থেকে অর্থ সংগ্রহ করছিলেন কেউ কেউ। সংগঠনের পরিকল্পনা অনুযায়ী সরকার উৎখাত করতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় লিপ্ত হয় নেতাকর্মীরা।

শুরুর দিকে সংগঠনটির এমন পরিকল্পনা আঁচ করতে পারেনি সরকার। পরিকল্পনার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পরেই হেফাজতের উচ্চাভিলাষী নেতাদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে যায়। এই পরিস্থিতিতে সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বিষয়টিও প্রকাশ্যে চলে আসে।

এদিকে শীর্ষ কয়েকজন নেতার রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষের বিষয়টি জানতে পেরে সংগঠনের অনেকেই প্রকাশ্যে তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। হঠকারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সম্প্রতি কয়েকজন শীর্ষ নেতা পদত্যাগও করেন।

আইনিউজ/এসডি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়