নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ১৩:৩১, ২৭ এপ্রিল ২০২১
রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ থেকে অস্তিত্ব রক্ষার চেষ্টায় হেফাজত
হরতালে অগ্নিসংযোগ করছেন হেফাজত কর্মীরা (ছবি: gettyimages)
'সংগঠনটির নেতারা দেশের বড় বড় পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতেন। এমনকি হেফাজতে ইসলামকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের পরিকল্পনাও করছিলেন তারা।'
ধর্মীয় সংগঠন বলেই পরিচয় দিতো হেফাজতে ইসলাম। কিন্তু এর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের অধিকাংশই ছিলেন রাজনৈতিকভাবে উচ্চাভিলাষী। প্রতিষ্ঠার পর এতটা চাপের মুখে পড়েনি কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক কথিত অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। এমনকি ২০১৩ সালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে মতিঝিলের শাপলা চত্বর ছাড়ার পরও এত ধরপাকড় এবং সরকারের রোষানলে পড়েনি সংগঠনটি।
কোনো উপায় না পেয়ে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছেন সংগঠনটির আমির জুনায়েদ বাবুনগরী। এ বিষয়ে বিস্তারিত...
সংগঠনটির আমির জুনায়েদ বাবুনগরী
কমিটি বিলুপ্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পাঁচ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হলেও এই ধাক্কা হেফাজতে ইসলামকে অনেকটা অস্তিত্ব সংকটে ফেলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা এখন কোনো রকম অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে চান বলে জানিয়েছেন হেফাজতের নেতারা।
সংগঠনটির নেতারা দেশের বড় বড় পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতেন। এমনকি হেফাজতে ইসলামকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের পরিকল্পনাও করছিলেন তারা। এ বিষয়ে বিস্তারিত...
এর অংশ হিসাবে নানা কৌশলে দেশের বাইরে থেকে অর্থ সংগ্রহ করছিলেন কেউ কেউ। সংগঠনের পরিকল্পনা অনুযায়ী সরকার উৎখাত করতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় লিপ্ত হয় নেতাকর্মীরা।
শুরুর দিকে সংগঠনটির এমন পরিকল্পনা আঁচ করতে পারেনি সরকার। পরিকল্পনার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পরেই হেফাজতের উচ্চাভিলাষী নেতাদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে যায়। এই পরিস্থিতিতে সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বিষয়টিও প্রকাশ্যে চলে আসে।
এদিকে শীর্ষ কয়েকজন নেতার রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষের বিষয়টি জানতে পেরে সংগঠনের অনেকেই প্রকাশ্যে তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। হঠকারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সম্প্রতি কয়েকজন শীর্ষ নেতা পদত্যাগও করেন।
আরও কয়েকজন পদত্যাগ করার প্রস্তুতি নিলে রোববার রাতে কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। সব মিলিয়ে বিদায়ী কমিটির কোনো কোনো নেতার নানা অপকর্ম এবং রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষের কারণে সংগঠনটি এখন অনেকটাই বিধ্বস্ত।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন নেতা গণমাধ্যমকে জানান,
'ইসলামি রাজনৈতিক দলের নেতাদের কমিটিতে ব্যাপক হারে জায়গা দেয়ার খেসারত আজ আমাদের দিতে হচ্ছে। রাজনৈতিক নেতাদের প্রাধান্য না থাকলে আমাদেরকে আজ এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতো না।'
তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলাম মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষ নিয়ে বড় ভুল করেছে। সাংগঠনিকভাবে তার ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারতো সংগঠনটি। তা না করে যেভাবে মামুনুল হকের সব কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দিয়েছে হেফাজত, এর পরিণাম আজ সংগঠন ভোগ করছে বলে মনে করছেন তিনি।
তবে হেফাজতের কমিটি বিলুপ্তির কারণ নিয়ে মুখ খুলেননি আগের কমিটির মহাসচিব ও নতুন সদস্য সচিব মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদী। কমিটি বিলুপ্তির কারণ জানতে চাইলে তিনি জার্মান সংবাদসংস্থা ডয়চে ভেলেকে বলেন,
‘বাবুনগরী যা বলেছেন সেটাই আমাদের কথা। এর চেয়ে বেশি পরিষ্কার করা যাবে না। বর্তমান পরিস্থিতি কী তা আপনিও জানেন, আমিও জানি। এটা তো জটিল কিছু না, কমিটি বিলুপ্ত হয়েছে, আহ্বায়ক কমিটি বানানো হয়েছে।'
এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে নিয়ে নারীঘটিত কেলেঙ্কারীতে আরও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে এই নেতাকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়। মামুনুলের রিমান্ডের বিষয়ে বিস্তারিত...
গ্রেফতার মামুনুল হক
মামুনুল হক ছাড়াও হেফাজতের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানে গ্রেফতার হয়েছেন সংগঠনের আরও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নায়েবে আমির আহমেদ আব্দুল কাদের, কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরীর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, ঢাকা মহানগর শাখা হেফাজতের সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা কোরবান আলী, কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরের সভাপতি আল্লামা জুনায়েদ আল হাবিব প্রমূখ।
হেফাজতে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১০ সালে। সেই সময় নারী নীতিমালার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে সংগঠনটির যাত্রা। তবে সংগঠনটি জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি লাভ করে ২০১৩ সালে। শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ থেকে ইসলাম সম্পর্কে কটূক্তি হচ্ছে এমন অভিযোগ তুলে ওই বছরের ৬ এপ্রিল সংগঠনটি ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ করে।
তাদের এই শোডাউন ব্যাপক নজর কাড়ে বিভিন্ন মহলের। তবে এর ঠিক এর এক মাস পর ৫ মে ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচিতে শাপলা চত্বরে অবস্থানকালে মধ্যরাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে পালাতে বাধ্য হন হেফাজতের নেতাকর্মীরা। এরপর সংগঠনটি অনেকটা চুপসে যায়।
হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা আমির ছিলেন আল্লামা শাহ আহমদ শফী। তার ব্যক্তিত্বের কারণে সারাদেশের মানুষ তাকে সমীহ করতো। পরবর্তী সময়ে সরকারের সঙ্গেও দেশের শীর্ষ এই আলেমের সুসম্পর্ক গড়ে উঠে। তার নেতৃত্বেই কওমি মাদ্রাসা দাওরায়ে হাদিসের সনদের সরকারি স্বীকৃতি পায়।
এমনকি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শোকরিয়া মাহফিলে প্রধানমন্ত্রীকে ‘কওমি জননী’ উপাধিও দেন হেফাজতের আলেম-উলামারা।
আইনিউজ/এসডি
- বেইলি রোডে আগুন : ৩ জন আটক
- এই নৌকা নূহ নবীর নৌকা: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী
- 'জাতীয় মুক্তি মঞ্চ' গঠনের ঘোষণা
- কাল থেকে যেসব শাখায় পাওয়া যাবে নতুন টাকার নোট
- এক বছরেই শক্তি, ক্ষিপ্রতা জৌলুস হারিয়ে 'হীরা' এখন বৃদ্ধ মৃত্যুপথযাত্রী
- ওয়াহিদ সরদার: গাছ বাঁচাতে লড়ে যাওয়া এক সৈনিক
- ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের ইতিকথা (প্রথম পর্ব)
- এবার ভাইরাস বিরোধী মাস্ক বানিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিলো বাংলাদেশ
- মায়েরখাবারের জন্য ভিক্ষা করছে শিশু
- ২৫ কেজি স্বর্ণ বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক


























