ঢাকা, সোমবার ২৪ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ৯ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬:৩৬, ৩০ এপ্রিল ২০২১
আপডেট: ১৭:১৮, ৩০ এপ্রিল ২০২১

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করেছেন মামুনুল

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় রয়্যাল রিসোর্টে এক নারীর সাথে একান্ত সময় কাটাতে গিয়ে আটক হন হেফাজত নেতা মামুনুল হক। সেই থেকে দেশজুড়ে তাকে নিয়ে নেই আলোচনার সীমা। মামুনুল হকের সাথে থাকা ওই নারীর নাম জান্নাত আরা ঝর্ণা। মামুনুল জনতার চাপের মুখে ওইসময় তাকে 'মানবিক'ভাবে বিয়ে করা নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে পরিচয়ও দিয়েছিলেন।

কিন্তু পরে থলের বেড়াল বেরিয়ে আসে। দেখা যায় মামুনুল হক ওই নারীকে বিয়েই করেন নি। শুধু জান্নাত আরা ঝর্ণাই নয়। বেরিয়ে আসে মামুনুল হকের নতুন আরেক বান্ধবীও। 

জান্নাত আরা ঝর্ণার অভিযোগ

রিসোর্টে আটক হয়ে উত্তেজিত জনতার সামনে ঝর্ণাকে মামুনুল তার 'মানবিক'ভাবে বিয়ে করা দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করলেও, এবার মামুনুলের বিরুদ্ধেই বিভিন্ন তথ্য জানাচ্ছেন ঝর্ণা।

শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় মামুনুলের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন ঝর্ণা। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে ঝর্ণা বলেছেন, ‘আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে মামুনুল হক আমাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। আমাকে গত দুই বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে ঢাকা ও ঢাকার পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাঘুরির নাম করে নিয়ে গিয়ে তার পরিচিত বিভিন্ন হোটেল ও রিসোর্টে রাত্রীযাপন ও বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তার যৌন লালসা চরিতার্থ করে। আমি বিয়ের কথা বললে সে আমাকে করবো-করছি বলে নানা অজুহাতে কালক্ষেপণ করতে থাকে।’

ঝর্ণা আরও উল্লেখ করেন, সর্বশেষ গত ৩ এপ্রিল আমাকে ঘোরাঘুরির কথা বলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও  রয়েল রিসোর্টে নিয়ে আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে অবস্থানকালে স্থানীয় জনগণ আমাদের আকস্মিকভাবে আটক করে এবং আমাদের (মামুনুল হক ও আমার) পরিচয় জানতে চায়। আমরা কোনও সদুত্তর দিতে না পারায় স্থানীয় জনতার রোষাণলে পড়ি। পরবর্তীতে মামুনুল হকের অনুসারীরা রিসোর্টে হামলা করে আমাদের নিয়ে যায়।’

জানা যায়, মামুনুল হক দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করলেও দায়ের করা মামলায় জান্নাত নিজেকে মামুনুল হকের স্ত্রী বলেননি।

ঝর্ণা আরও জানাচ্ছেন, ‘রিসোর্টের ঘটনায় দেশব্যাপী ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠলে মামুনুল হক আমাকে আমার নর্থ সার্কুলার রোডের ভাড়া বাসায় যেতে না দিয়ে তার পরিচিত একজনের বাসায় অবৈধভাবে জোরপূর্বক আটকে রাখে। এসময় আমি আমার আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি। এক পর্যায়ে সুকৌশলে আমার বড় ছেলে আব্দুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমার দুরবস্থার কথা জানাই এবং আমাকে এই বন্দিদশা থেকে উদ্ধারের জন্য আইনের আশ্রয় নিতে বলি। পরবর্তীতে ডিবি পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে আমাকে আমার বাবার জিম্মায় দেয়।’

ঝর্ণা তার এজাহারে বলেন, ‘আমার সাবেক স্বামী শহীদুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে ২০০৫ সালে মামুনুলের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। মামুনুল হকের সঙ্গে পরিচয়ের আগে আমাদের দাম্পত্য জীবন অত্যন্ত সুখে-শান্তিতে অতিবাহিত হচ্ছিল। স্বামীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে আমাদের বাসায় মামুনুল হকের অবাধ যাতায়াত থাকায় পরিচয়ের শুরু থেকেই আমার ওপর তার লোলুপ দৃষ্টি পড়ে। যার ফলে আমাদের ছোটখাটো সাংসারিক মতানৈক্যের মধ্যে সে সু-কৌশলে প্রবেশ করে ধীরে ধীরে আমাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দূরত্ব তৈরি করতে থাকে। মামুনুল হকের কু-মন্ত্রণায় আমাদের দাম্পত্য জীবন চরম বিষিয়ে ওঠে। সাংসারিক এই টানাপড়েনের মধ্যে মামুনুল হকের পরামর্শে ২০১৮ সালের ১০ আগস্ট বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।’

‘বিচ্ছেদের পর আমি পারিবারিক, ‘সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে অসহায় হয়ে পড়ি। আমার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে মামুনুল হক আমাকে সহযোগিতার নাম করে সু-কৌশলে ঢাকায় আসার জন্য আমাকে প্ররোচিত করে। আমি একজন আলেমকে ভরসা করে সরল বিশ্বাসে তার সঙ্গে ঢাকায় চলে আসি। ঢাকায় আসার পর শুরুতে আমাকে তার পরিচিত বিভিন্ন অনুসারীদের বাসায় আমাকে রাখে এবং নানাভাবে আকার ইঙ্গিতে আমাকে কু-প্রস্তাব দিতে থাকে। একপর্যায়ে আমার পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে তার প্রলোভনে পা দিতে বাধ্য হই। এরই ধারাবাহিকতায় তার পরামর্শে আমি কলাবাগানের নর্থ সার্কুলার রোডের একটি বাসায় সাবলেট ভাড়া নিয়ে থাকা শুরু করি এবং তার ঠিক করে দেওয়া একটি বিউটি পার্লারে কাজ শিখতে থাকি।’

মামুনুল হক গ্রেপ্তার

১৮ এপ্রিল তাকে গ্রেফতার করা হয়। মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া মাদ্রাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

জানা যায়, গত ৩ এপ্রিল সোনারগাঁওয়ের রয়েল রিসোর্টকাণ্ডের পর থেকেই মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসায় অবস্থান করছিলেন মামুনুল হক। ঘটনার পর থেকেই পুলিশ তাকে নজরদারির মধ্যে রেখেছিল।

সাম্প্রতিক সহিংসতা ও রিসোর্টকাণ্ডে রাজধানীর পল্টন থানা ও নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় দুটি মামলা হয়েছে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে। এছাড়া, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর তাণ্ডবের ঘটনাতেও তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা আছে। মামুনুল হককে গ্রেফতারের বিষয়ে বিস্তারিত...

মামুনুল হকের বিয়ে তিনটি, কাবিন একটি

গ্রেফতার হওয়ার পর মামুনুল হককে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এসময় পুলিশের কাছে তিনি তার তিন বিয়ের কথা জানিয়েছেন। তবে এই তিন বিয়ের মধ্যে কাবিন আছে শুধু প্রথম বিয়ের। বিস্তারিত...

রিসোর্টকাণ্ড

গত ৩ এপ্রিল সন্ধ্যার দিকে হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হক নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় এক হোটেলে নারীসহ অবরুদ্ধ ছিলেন। খবর পেয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী তাকে আটক করে। পরে তাৎক্ষণিকভাবে র‍্যাব-১১, পুলিশ ও প্রশাসনের মানুষজন ঘটনাস্থলে হাজির হন। বিস্তারিত...

জান্নাত আরা ঝর্ণাকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে পরিচয় দেন মামুনুল। পরে ওই নারীর পরিচয় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। কিন্তু সবকিছু ওলট-পালট করে দেয় মামুনুল হকের ভাইরাল হওয়া একটি ফোনালাপ। তাতে তিনি ওই নারীকে ‘শহীদুল ইসলাম ভাইয়ের ওয়াইফ’ বলছেন। 

সন্ধ্যার দিকে আটক হওয়ার পর মামুনুল ইসলাম ঐ রিসোর্টেই ছিলেন। মামুনুল হককে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের রয়েল রিসোর্ট থেকে নিয়ে যান তার সমর্থকরা। বিস্তারিত...

মামুনুলের আরও এক বান্ধবী

এসব আলোচনা-সমালোচনার মাঝেই মামুনুল হককে নিয়ে আবারও বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তার নতুন আরেক বান্ধবীর সন্ধান পেয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা। নতুন এই বান্ধবীর পুরো নাম জান্নাতুল ফেরদৌস। তিনিও তার বৈধ বিয়ে করা স্ত্রী না।

মামুনুলের ঘনিষ্ঠ অনেকের কাছে নতুন এই নারীর সম্পর্কে যাচাই-বাছাই শেষে গোয়েন্দারা আরও নিশ্চিত হয়। তবে মামুনুল হকের আগের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম জান্নাত আরা ঝর্না হওয়ার কারণে এই জান্নাতের পরিচয় নিশ্চিত করতে দারুণ বেগ পেতে হয়। তবে মামুনুল এবং জান্নাতের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বর্তমানে গোয়েন্দাদের হাতে রয়েছে। মামুনুলের এই স্ত্রীর বিষয়ে বিস্তারিত...

আইনিউজ/এসডি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়