ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৪ মে ২০২৬,   বৈশাখ ৩০ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩:৫৯, ২৫ আগস্ট ২০২১
আপডেট: ১৪:১৫, ২৫ আগস্ট ২০২১

৪ বছর ধরে বাংলাদেশে রোহিঙ্গারা: কবে ফিরবে নিজ দেশে?

মিয়ানমারের রাখাইনে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় ও সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে চার বছর আগের এই দিনে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছিল লাখ লাখ রোহিঙ্গা। টেকনাফ সীমান্তে রোহিঙ্গাদের ঢল নেমেছিল। চার বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় কোনো অগ্রগতি হয়নি।

জীবন বাঁচাতে সেসময় বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে আশ্রয় নিয়েছিল সাড়ে তিন লাখের বেশি রোহিঙ্গা। গত চার বছরে ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জন্ম নিয়েছে ২ লাখের বেশি শিশু। সব মিলিয়ে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বর্তমানে বাংলাদেশের আশ্রয়ে রয়েছে।

এসব রোহিঙ্গাদের দেশটিতে ফেরত পাঠাতে গত চার বছর ধরে সরকার চেষ্টা করলেও এখন পর্যন্ত আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে সে উদ্যোগ। আনুষ্ঠানিক চুক্তি করে কয়েকবার দিনক্ষণ ঠিক করার পরও একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত পাঠানো যায়নি। তবে দ্বিপাক্ষিক, আন্তর্জাতিক সব মাধ্যম থেকেই চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে সরকার।

চলতি বছর রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ামারের সঙ্গে আলোচনায় বসার বিষয়ে কিছুটা অগ্রগতি হলেও গত ফেব্রুয়ারিতে দেশটিতে সামরিক সরকার ক্ষমতা দখল করার পর সেই উদ্যোগও থেমে গেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আলোচনার জন্য প্রস্তুত থাকলেও মিয়ানমারের অনাগ্রহের কারণে আলোচনা বার বার পিছিয়ে যাচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) শাহ রেজওয়ান হায়াত সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটি চলমান বিষয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা দেখছে। তারা সব ঠিক করে যখন দিন ধার্য করে দেবে, তখন রোহিঙ্গাদের পাঠান আমাদের দায়িত্ব।

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের সম্ভাবনা ম্লান হতে দেখে অনেক শরণার্থী বলেছেন, তারা নিরাশা নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছেন। এই হতাশ শরণার্থীদের অনেকে মানব পাচারকারীদের প্ররোচনার শিকার হয়ে অনিরাপদ নৌকায় বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রার দিকে যাচ্ছেন। রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের পরিবেশগত, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও নিরাপত্তার উদ্বেগকে ক্রমেই বাড়িয়ে তুলেছে।

চলমান রোহিঙ্গা সংকট সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য একটি ট্র্যাজেডি। পৃথিবীর কেউই শরণার্থী শিবিরে স্বেচ্ছায় থাকতে চান না। বাস্তুচ্যুত অনেক মানুষকে একসঙ্গে কেউ আশ্রয়ও দিতে চায় না। বিশ্বব্যাপী অন্যান্য অনেক শরণার্থীর মতো রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সিংহভাগ নিজ দেশে ফিরতে চায়।

উখিয়া ও টেকনাফ এলাকায় বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা বসবাসের কারণে পরিবেশ ও প্রতিবেশগত নানা সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। বাড়ছে জনসংখ্যা। হচ্ছে অপরাধ। এছাড়াও রয়েছে করোনাভাইরাসের ঝুঁকি। এদিকে রোহিঙ্গাদের বাসস্থানের কারণে উজাড় হচ্ছে বন। সামাজিক, অর্থনৈতিক বিরূপ প্রভাব পড়ছে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে। এ নিয়ে দিন দিন তৈরি হচ্ছে অসন্তোষ।

জানা যায়, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যাচার, নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরত পাঠাতে ২০১৭ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ-মিয়ানমার একটি চুক্তি করে। তার দুই মাস পর ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা ছিল। সে উদ্যোগ বাস্তবায়নে দু’দেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপও গঠন করা হয়। ওই গ্রুপ গত দুই বছরে চার দফা বৈঠক করে। সর্বশেষ বৈঠক ২০১৯ সালের মে মাসে মিয়ানমারের নেপিডোতে অনুষ্ঠিত হয়।

পরে ২০২০ সালে ফেব্রুয়ারিতে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের পঞ্চম বৈঠক ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। মিয়ানমারের অনুরোধে ওই বৈঠক দুইমাস পিছিয়ে ওই বছরের মে মাসে নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু মার্চে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ দেখা দিলে ওই বৈঠকও বাতিল হয়ে যায়। সর্বশেষ এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দেশটির শীর্ষ নেতা অং সান সু চিসহ সকল রাজনৈতিক নেতাদের আটক করে ক্ষমতা দখল করে। এতে করে আবারও থেমে গেছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের আলোচনা।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সরকারের নিপীড়ন নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা তিন বছর আগে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্পে এখন ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গার বসবাস। বাংলাদেশ সরকার এবং ইউএনএইচসিআর’র তত্ত্বাবধায়নে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এসব রোহিঙ্গাদের খাদ্য, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন অফিস ৩৪টি শরণার্থী ক্যাম্পে প্রশাসনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র: ডেইলি স্টার, বাংলা ট্রিবিউন, সারাবাংলা

আইনিউজ/এসডি

আইনিউজ ভিডিও

দীর্ঘ ১০ বছর পুরুষের বেশ ধরে তালেবানদের বোকা বানিয়েছেন যে নারী

কারাগারে হেলেনা জাহাঙ্গীরের পাশের কক্ষেই পরীমনি

বাংলাদেশ কখনো আফগানিস্তান হবে না: প্রধানমন্ত্রী

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়